বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে। বাংলাদেশ পুলিশকে ‘স্মার্ট পুলিশ’-এ তৈরি করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বহুমুখী পরিকল্পনা। প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহে বাংলাদেশ পুলিশের জনবল ও সক্ষমতা যেমন বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি উন্নততর প্রযুক্তি ও সর্বোত্তম প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এই কথা বলেন।
এর আগে বেলুন-ফেস্টুন ও কবুতর অবমুক্ত করার মাধ্যমে ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন আইজিপি। সকাল ১০টায় নগরীর ভেড়িপাড়া মোড় হতে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে পুলিশ লাইন্সে এসে শেষ হয়।
পুলিশ প্রধান রাজশাহীস্থ পুলিশ ইউনিটগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে রাজশাহীস্থ পুলিশের রয়েছে অসামান্য অবদান এবং বর্তমানেও তারা জীবনবাজি রেখে দায়িত্ব পালন করে চলেছে। ভবিষ্যতে ঠিক একইভাবে সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাবে। এক সময় বাংলাদেশে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের ভয়াবহ প্রকোপ ছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, বাংলাদেশ পুলিশ তা কঠোর হস্তে প্রতিহত করেছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল।
এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ পুলিশেও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধিত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সাইবার অপরাধ শনাক্তকরণে আরএমপিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব এবং মহানগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নগরীর সর্বত্র সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে, যা অপারেশন কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টারের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। হ্যালো আরএমপি অ্যাপসের মাধ্যমে মহানগরবাসী তাদের অভিযোগ যেন পুলিশ কমিশনারের কাছে জানাতে পারেন, সে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যেকোনো ক্রাইসিস মোকাবিলায় সিআরটি টিম ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখিয়েছে বলে এসময় তিনি উল্লেখ করেন।
মাদক নির্মূলে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত শূন্য সহিষ্ণুতার নীতির বাস্তবায়নে আরএমপি নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রেখেছে তুলে ধরে তিনি বলেন, মাদক উদ্ধারসহ যেকোনো অপরাধ শনাক্তকরণে আরএমপির রয়েছে দৃশ্যমান সাফল্য। অপরাধ প্রতিরোধে গত ৫ বছরের ছিনতাইকারী, চোর, ডাকাত ও কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা প্রস্তুত করে নিবিড়ভাবে নজরদারি করা হচ্ছে। পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং ও বিট পুলিশিং-এর মাধ্যমে মাদক ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। মাদক ও সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে জনগণ ও শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে বিভিন্ন রকমের জনসচেতনতামূলক সভা-সমাবেশ করছে আরএমপি। বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ও জামিনে থাকা জঙ্গিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে আরএমপির বিভিন্ন থানায় হাজিরার ব্যবস্থা সব মহলে প্রশংসিত হয়েছে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে আইজিপি আরএমপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটেন এবং ‘নবচেতনায় আরএমপি’ স্মরণিকার মোড়ক উম্মোচন করেন। এরপর তিনি আরএমপির উদ্যোগে তৈরিকৃত আদালতে সাক্ষী হাজির ব্যবস্থাপনা ও পুলিশ ভেরিফিকেশন সফটওয়্যার উদ্বোধন করেন। পরে আরএমপির ৩০ বছরের ইতিহাস ও সাফল্য তুলে ধরে একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাকাডেমির প্রিন্সিপ্যাল মীর রেজাউল আলম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার, সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুল খালেক, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল বাতেন, রাবির উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. হুমায়ুন কবির, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবালসহ আরএমপি ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে পুলিশ কমিশনার প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অন্য অতিথিদের সম্মাননা স্মারক দেয়া হয়।
(এইদিনএইসময়/২০জুলাই/এলএ)

