ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপের মধ্যে ঢাকা–টাঙ্গাইল–যমুনা সেতু মহাসড়কে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, যমুনা সেতুতে একাধিক গাড়ি বিকল হওয়া এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে বুধবার ভোর থেকেই মহাসড়কটিতে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে।
পুলিশ ও যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত থেকে গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায় সৃষ্ট যানজটের প্রভাব সরাসরি টাঙ্গাইল অংশে এসে পড়েছে। বর্তমানে মহাসড়কের যমুনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা পর্যন্ত এবং মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই থেকে দেলদুয়ার উপজেলার নাটিয়াপাড়া পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট রয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত দুই দফায় একমুখী যান চলাচল ব্যবস্থা চালু করেছিল। তবে এই সময়ের মধ্যেই সেতুর ওপর পাঁচটি যানবাহন বিকল হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।
মহাসড়কের এই দীর্ঘ যানজটে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। পাবনাগামী যাত্রী আফাজ মিয়া জানান, দেড় ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে তার পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। নাটোরগামী যাত্রী খোদেজা বেগম বলেন, “মৌচাক থেকে রওনা দিয়ে নয় ঘণ্টাতেও টাঙ্গাইল পার হতে পারিনি।”
যমুনা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন, বৃষ্টি, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং সেতুর ওপর গাড়ি বিকল হওয়ার কারণেই এই যানজট। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

