৩১ জানুয়ারী ২০২৩, মঙ্গলবার
--বিজ্ঞাপন-- Nagad

৯৯ শিশুর মৃত্যুর পর ইন্দোনেশিয়ায় নিষিদ্ধ হলো সব ধরনের সিরাপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
spot_img

 

কিডনি জটিলতায় শিশু মৃত্যুর জেরে ইন্দোনেশিয়ায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে সব ধরনের সিরাপ ও তরল ওষুধ। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ইন্দোনেশিয়ায় বাড়তে থাকে শিশুদের কিডনির রোগ। যাতে এখন পর্যন্ত ৯৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার কারণ জানতে চলছে তদন্ত। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ার মতো বিষাক্ত সিরাপের কারণেই মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে এসব শিশুর। যার কারণে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে সিরাপ আমদানি, বাজারজাতকরণ এবং সরবরাহে।

চলতি বছরের শুরু থেকেই ইন্দোনেশিয়ায় বাড়তে থাকে কিডনির রোগে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা। যা জটিল আকার ধারণ করে আগস্টে। বুধবার (১৯ অক্টোবর)) পর্যন্ত দেশটির ২২টি প্রদেশ থেকে ৯৯ শিশুর মৃত্যুসহ ২০০’র বেশি আক্রান্তের রিপোর্ট রেকর্ড করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, সিরাপে বিষাক্ত উপাদান থাকায় এ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায়, সব ধরনের সিরাপ ও তরল ওষুধ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ইন্দোনেশিয়া সরকার।

ইন্দোনেশিয়া সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ২০টি প্রদেশ থেকে ৯৯টি শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়েছি আমরা। স্বাস্থ্যকর্মীদের অস্থায়ীভাবে তরল ওষুধ বা সিরাপ খাওয়ার পরামর্শ না দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়াও ওষুধের দোকানগুলিকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে প্রেসক্রিপশনহীন তরল ওষুধ বা সিরাপ বিক্রি বন্ধ করতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, শিশুদের মধ্যে কিডনির জটিলতা বা একেআইয়ের ঘটনা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি তদন্ত করতে বিশেষজ্ঞদের একটি দল গঠন করা হয়েছে। এ দলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ইন্দোনেশিয়ার পেডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরাও রয়েছেন।

এদিকে এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে অভিভাবকদের মাঝে। ওষুধ ব্যবসায়িরাও রয়েছেন বিপাকে। এক দম্পতি জানিয়েছেন, সব সময় ভয়ে থাকি। অসুস্থ হলেও বাচ্চাকে কোনো ওষুধও খাওয়াতে পারছি না।

ওষুধ ব্যবসায়ীরা বলছেন, কি ধরনের সিরাপে সমস্যা রয়েছে সেটা পরিষ্কার করা উচিত সরকারের পক্ষ থেকে। কারণ আমরা সব ধরনের তরল ওষুধ বিক্রি বন্ধ রেখেছি। এভাবে চললে ব্যবসা করবো কিভাবে?

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ায় কিডনির জটিলতায় প্রাণ হারায় ৭০ শিশু। যার জন্য দায়ী করা হয় বিষাক্ত কফ সিরাপকে। ভারতীয় প্রতিষ্ঠান মেইডেন ফার্মাসিউটিক্যালসের তৈরি চারটি সিরাপের মধ্যে অতিরিক্ত মাত্রায় ডাই-ইথিলিন গ্লাইকল ও ইথিলিন গ্লাইকল পাওয়া যায়। এ নিয়ে সতর্কতা জারি করে জাতিসংঘও।

সর্বশেষ নিউজ