জমিদার সিটির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ, প্লট কিনে হামলা-মামলার শিকার গ্রাহকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img
spot_img

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আবাসন ব্যবসার নামে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে জমিদার সিটির বিরুদ্ধে। গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে চটকদার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে তারা। প্রতিষ্ঠানটি জমি না কিনেই সাঁটিয়ে রেখেছে শত শত সাইনবোর্ড। সেই সঙ্গে বালু ভরাট করে চলছে প্লট বিক্রি। কিন্তু কেনার পর প্লট বুঝে নিতে চাইলেই গ্রাহকদের ওপর হামলা কিংবা তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগীরা।

জিডি থেকে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে জমিদার সিটির বিজ্ঞাপন দেখিয়ে এক বছরের মধ্যে প্লট বুঝিয়ে দেয়ার শর্তে ১০ কাঠার দুটি ও ২০ কাঠার দুটি প্লট একজন ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়। তিন বছর পর ওই ব্যবসায়ী প্লট বুঝে নিতে চাইলে শুরু হয় জমিদার সিটির টালবাহানা। মাসের পর মাস প্রতিষ্ঠানটির গড়িমসিতে ক্ষুব্ধ হয়ে একপর্যায়ে ওই ব্যবসায়ী আরএস দাগ অনুযায়ী নিজের কেনা প্লটে ‘ক্রয়সূত্রে মালিক’লেখা সাইনবোর্ড স্থাপন করতে যান।

ওই ব্যবসায়ীর অভিযোগ, জমিদার সিটির পালিত সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা চালায়। সাইনবোর্ডটি ভেঙে ফেলে তারা। পরে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কবির হোসেন তাকে মামলার ভয় দেখাতে শুরু করেন। কোনো উপায় না পেয়ে রূপগঞ্জ থানায় জিডি করেন তিনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় এক যুগ আগে রূপগঞ্জের ভোলাবো ইউনিয়নে ইটালিয়ান সিটি নামে একটি আবাসন কোম্পানি শুরু করেন কবির হোসেন। এরপর নামমাত্র জমি কিনে প্লট বিক্রি করে সেগুলো বুঝিয়ে দেয়ার নামে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ করে ইটালিয়ান সিটিকে লাপাত্তা করে দেন। বর্তমানে ইটালিয়ান সিটির সাইট অফিস ছাড়া ওই এলাকায় আর কোনো সাইনবোর্ড নেই। এ জন্য গ্রাহকরা দ্বারে দ্বারে ঘুরেও প্লট বুঝে নিতে পারছেন না।

স্থানীয়রা আরও বলছে, এর মধ্যেই কবির হোসেন ওই ইউনিয়নের মোচারতালুক, কুতুবপুর ও গুতুলিয়া মৌজায় শুধু শতাধিক সাইনবোর্ড টাঙিয়ে গড়ে তুলেছেন জমিদার সিটি। পাশের গুতুলিয়া এলাকায় গড়ে তুলেছেন জমিদার সিটির ছোট একটি অফিস। সেখানে জমি না কিনেই চলছে বালু ভরাটের কাজ। সাইনবোর্ড দেখিয়ে বিভিন্ন মেলা ও ফেসবুক-ইউটিউবে চোখ ধাঁধানো বিজ্ঞাপন দিয়ে প্লট বিক্রি করছেন। চটকদার এসব বিজ্ঞাপনের মধ্যে রয়েছে এককালীন বিশেষ মূল্যছাড়, সঙ্গে সঙ্গে সাফ-কবলা রেজিস্ট্রি ও জমি বুঝে নেয়ার সুযোগ ইত্যাদি।

স্থানীয় জমির মালিকরা গণমাধ্যমকে জানান, তারা প্লট বিক্রির বিষয়টি জানেনই না। তা ছাড়া জমিদার সিটির এমডি কবির হোসেন বলেছেন- ‘কৃষকদের জমি বালু ভরাট করে বিভিন্ন আকারের প্লট করা হবে।’ পরে জমিদাতাদের কোম্পানির শেয়ার ও প্লট বুঝিয়ে দেয়ার পর বাকি প্লট বিক্রি করা হবে। কিন্তু এখনো কোনো কৃষক কোম্পানির নামে কোনো জমি বিক্রি কিংবা দলিল করে দেননি। অথচ শুধু সাইনবোর্ড দেখিয়েই প্লট বিক্রি শুরু করেছেন কবির হোসেন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জহির উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, আমার কাছে জমি বিক্রির পর সেটি বুঝিয়ে দিচ্ছে না। নিজে থেকে বুঝে নিতে গিয়ে এর আগে হামলা-মামলা ও হুমকির শিকার হয়েছি। কবির আমার কাছে জমি বিক্রি করে এককালীন টাকা নিয়েছে। কিন্তু জমি বুঝিয়ে দিচ্ছে না।

জমিদার সিটির এমডি কবির হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, আমি স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে তাদের জমিতেই জমিদার সিটি করছি। প্লট বিক্রির পর হামলার অভিযোগ সঠিক নয়। আমার আশপাশের কয়েকটি আবাসন প্রকল্পের মালিক ঈর্ষান্বিত হয়ে এমন দুর্নাম রটাচ্ছে।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ গণমাধ্যমকে বলেন, এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

(এইদিনএইসময়/১৭জুন/এলএ)

সর্বশেষ নিউজ