পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষ হয়েছে গতকাল।
আজ রবিবার (২জুলাই) অফিস-আদালত চালু হলেও নিজ রূপে এখনও ফিরতে পারেনি রাজধানী। সড়কে নেই কোনো গাড়ির চাপ, নেই যানজট। সেই সঙ্গে গাদাগাদি করে যানবাহনে চলার চিত্রও নেই। অধিকাংশ গাড়িতেই পড়ে থাকছে আসন।
রবিবার রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরজমিনে দেখা গেছে, আগের মতো এখন আর সকাল হতেই অফিসমুখী মানুষের ছোটাছুটি নেই। নেই গাড়ির গেটে ঝুলে, পায়ে হেঁটে অফিস যাত্রা। অধিকাংশ সড়কে সাধারণ দিনগুলোতে যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখন সড়কে গাড়ি সংখ্যাও অনেকটাই কম।
রবিবার সকাল থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনে দেশের বিভিন্ন গন্তব্য থেকে ঢাকায় ফেরে ট্রেন। তবে ফিরতি পথে যাত্রী কিছুটা কম। অল্প সময়ের ছুটি শেষে জীবন জীবিকার তাগিদে যারা কর্মব্যস্ত নগরে ফিরছেন, তাদের চোখে মুখে এখনও শেকড়ের ঘ্রাণ।
এদিকে, রাজধানীর গাবতলী, মিরপুর, মতিঝিল ও ধানমন্ডির সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যা কম। ঈদের ছুটির পর এখনও সবাই অফিসে যোগ দেননি।
এদিকে গাড়িতে যাত্রী সংকটে কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করছেন পরিবহন শ্রমিকরা। তাদের ভাষ্যমতে গাড়ির খরচ উঠতেই হিমসিম খেতে হচ্ছে তাদের।
এ ব্যাপারে প্রজাপতি পরিবহনের চালকের সহকারী রহমত মোল্লা গণমাধ্যমে বলেন, ‘গাড়ি বের করলেই খরচ। সব খরচ করে তারপর আমাদের লাভের চিন্তা। কিন্তু রাস্তায় যাত্রীর খরা। লাভতো দূরের কথা, খরচ উঠতেই কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
গাবতলী লিংক (৮ নম্বর) পরিবহনের চালকের সহকারী মো. হামজা বলেন, ‘যাত্রী নেই। এজন্য গাড়িও কম বের হয়েছে। রাস্তায় বের হলে খরচের টাকা উঠছে না। তবে রাস্তা ফাঁকা থাকার কারণে একটু আরামে যাতায়াত করা যাচ্ছে।’
তবে সড়কে যানজট ও মানুষের চাপ না থাকায় অনেকটা স্বস্তি প্রকাশ করছেন রাজধানীতে চলাচলকারীরা।
তাপস কুমার নামের এক যাত্রী বলেন, ‘ঈদে ঢাকাতেই রয়েছি। কয়েকদিন ছুটির কারণে আর বের হইনি। তবে গতকাল থেকে অফিস করছি এখন কোনো যানজটও পাইনি। গাড়ি পেতে একটু দেরি হলেও সিট পেয়েছি, কোনো ঝামেলা হয়নি। ঢাকা এমন থাকলেই উন্নত শহরের মতো লাগে। কোনো দূষণ নেই, গাড়ির হর্ন নেই। সুন্দর পরিবেশ।’
রাকিবুল ইসলাম রানা বলেন, ‘সাধারণ সময়ে মনে হয় ঢাকা ছেড়ে বাড়ি চলে যাই। কিন্তু বড় কোনো ছুটির সময় ঢাকায় থেকে ভালোই লাগে। প্রতিদিন অফিস সময়ের ২ ঘণ্টা আগে বের হতে হয়। গতকাল থেকে অফিস করছি কোন ঝামেলা নেই। ২০-৩০ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে যাচ্ছি।’
গত বৃহস্পতিবার সারা দেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। এবার তিন দিনের ঈদের ছুটির সঙ্গে এক দিন বাড়িয়ে চার দিন করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ফলে ঈদ উপলক্ষে ২৭ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত চার দিন ছুটি ছিল। ঈদের ছুটির পরদিন শনিবার ছিল সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এবারের ঈদের ছুটি হয় পাঁচ দিন।
(এইদিনএইসময়/২জুলাই/তাবী)

