২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, শুক্রবার
--বিজ্ঞাপন-- Bangla Cars

ভয় আপনাকে পিছিয়ে দিচ্ছে কিনা

তালাত মামুন
spot_img

 

যখন সামনে কিছুই দেখা যায় না, খুঁজে পাওয়া যায় না, আর লক্ষ্যকে নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করা যায় না তখন মনের যে অনুভূতি তাই তো ভয়। জ্বিন বা ভূতের ভয় এসবের অস্তিত্ব নিয়ে এতো আলোচনার পরেও মানুষ তার ধ্যান থেকে সরে আসতে পারছে না। কারণ যখন সে দ্বিধান্বিত তখনই তো ভয় ভর করে মনে।

যারা বুঝে উঠতে পারেন না জীবনের পরবর্তী ধাপের জন্য কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন কিংবা ভয়ের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে গিয়েও থমকে যান, পেছনে ফিরে আসেন, সে ভয়কে জয় করতে তাদের কি করা উচিত।

প্রথমেই জেনে নেয়া যাক ‘ভয়’ জিনিসটা কী। স্বাভাবিক দৃষ্টিতে ভয় দুই প্রকার। একটি হলো আমাদের পারিপার্শ্বিক কোনো বিষয়ের প্রতি ভয়। যেমন বাসায় আগুন লেগে যাওয়ার ভয়, চুরি হবার ভয়, রাস্তায় কোনো দুর্ঘটনার ভয়। আবার অজানা কিংবা অলৌকিক কোনো কিছুর প্রতি ভয়ও এর মধ্যে পড়ে। আরেকটি ধরন হলো, যেটি এগুলোর মতো কোনোদিক থেকেই বিপজ্জনক না। কিন্তু তবুও বিষয়গুলোর প্রতি আমাদের ভয় কাজ করে। যেমন ধরুন, পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়া, প্রেজেন্টেশনের জন্য সবার সামনে দাঁড়ানো, চাকরির ইন্টারভিউ দেয়া। এই বিষয়গুলো এমন না যে আমাদের অনেক বড় রকমের ক্ষতি করে ফেলবে। কিন্তু তবুও মুহূর্তগুলোকে ঘিরে আমাদের অনেকেরই ভয় কাজ করে। কিন্তু কেন?

মানুষের একটি স্বাভাবিক প্রবৃত্তি হলো অজানাকে ভয় করা। একটি অন্ধকার ঘরে আপনি পা ফেলতে ভয় করবেন, কারণ আপনি জানেন না আপনার সামনে কী অপেক্ষা করছে। তাই অজানাকে ভয় করা অস্বাভাবিক কিছু না। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে না পারার পেছনে যে সমস্যাটি মূলত কাজ করে, তা হলো উদ্বেগ। এ থেকে পরিত্রাণের অবশ্যই কিছু বিষয় রয়েছে যা অনুসরণ করলে ভয়কে জয় সম্ভব।

আপনার সমস্যা কিংবা ভয়ের মুখোমুখি হবার আগে দু’পাশের অবস্থার ব্যাপারে পরিষ্কার ধারণা নিয়ে রাখা ভালো। উদাহরণ হিসেবে পরীক্ষার কথা ধরে নিলাম। আর এক সপ্তাহ পর আপনার পরীক্ষা শুরু হবে। কিন্তু আপনি এখনও পড়ালেখার ধারে-কাছে নেই। এই ভয় আপনাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। অথবা আপনার বাসা ভাড়া বাকি আছে প্রায় ৩ মাসের, কিন্তু আপনি কোনোভাবেই বকেয়া টাকা পরিশোধের উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না। এরকম ক্ষেত্রে আগে নিজের অবস্থানের ব্যাপারটি পরিষ্কার করা দরকার। আপনার যদি পড়ালেখা করা নিয়ে সমস্যা থাকে, তাহলে কী কী কারণে পড়ালেখা হচ্ছে না সেগুলো নির্ধারণ করুন। বকেয়া ভাড়া পরিশোধের সমস্যা থাকলে আপনার বর্তমানে হাতে কাজ কিংবা অর্থ না থাকার কারণগুলো বের করুন। এরপর সেগুলো সমাধানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিন। আসলে সমস্যাটা কোথায় তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। দু’দিকের সমস্যাগুলো নির্ধারণ না করেই সমস্যা সমাধানের আশা করলে সবসময়ই শূন্যের মাঝে ঘুরতে থাকবেন।

সাধারণত একজনের সমস্যা আরেকজন শুনতে চায় আগ্রহী হয় না। ব্যাপারটা কিছুটা সত্য হলেও সমস্যা সমাধানের জন্য কারো না কারো সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা দরকার। আপনার কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু অথবা কোনো আপন আত্মীয় অবশ্যই আছেন, যিনি সময় দিয়ে আপনার কথা শুনবেন। অথবা আপনার মতো এই সমস্যায় আগেও ছিলো, এমন কেউ আপনার পরিচিত আছে কি না, দেখুন। আপনার সমস্যার কথা কেউ না কেউ অবশ্যই শুনবেন এবং এর একটি সমাধান বের করতেও সাহায্য করবেন। তাই সমস্যা নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে কোনো দ্বিধা করবেন না। কথা বলাটা জরুরি।

যখন কোনো বিষয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ভয় কাজ করে, হতাশা তখন আমাদের গ্রাস করে নিতে সময় নেয় না। এসময় নিজেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে ঠিক রাখা খুবই জরুরি। নিজেকে সঠিক রাখতে খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে খেয়াল রাখতেই হবে। মনকে শক্তিশালী করতে কাছের মানুষের স্পর্শ খুবই জরুরি।

নিজেকে লক্ষ্যে পৌঁছাতে অন্যতম একটি নিয়ামক হলো একটি লক্ষ্যমাত্রা ঠিক রাখা। কতদিনের মধ্যে বর্তমান অবস্থা থেকে উন্নতি করে নতুন একটি অবস্থায় নিজেকে দেখতে চান, তা ঠিক করতে হবে।

তবে ভয় দূর করা সমস্যা সমাধানে সবচেয়ে বেশি দরকার নিজের মাঝে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা। একজন হতাশ এবং একজন আশাবাদী মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির মাঝে আকাশ-পাতাল তফাৎ দেখা যায়। নিজেকে একজন আশাবাদী হিসেবে গড়ে তুলুন, আত্মবিশ্বাস ধরে রাখুন। কারণ এগুলোই দরকার আপনার ভয় কাটিয়ে ওঠার জন্য।

তালাত মামুন, সাংবাদিক

সর্বশেষ নিউজ