কলেজপ্রহরীর বিরুদ্ধে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
spot_img
spot_img

হবিগঞ্জ সরকারি বৃন্দাবন কলেজে ছাত্রীকে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে রুমান মিয়া নামে এক প্রহরীর বিরুদ্ধে। কলেজের অধ্যক্ষের কাছে ওই ছাত্রীর বন্ধু এই অভিযোগ করেন। বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) চড়-থাপ্পরের কলেজপ্রহরী রুমান মিয়াকে বহিষ্কার করেছেন অধ্যক্ষ। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার হলেও প্রকাশ্যে আসে শুক্রবার।

ধর্ষণের অভিযোগের জন্য ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে বলে জানান বৃন্দাবন সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দেওয়ান জামাল উদ্দিন চৌধুরী।

ছাত্রীর বন্ধু কলেজের অধ্যক্ষ ও কয়েকজন ছাত্রের কাছে বিষয়টি জানান। এরপর শিক্ষার্থীরা প্রহরীকে আটক করে কলেজ অধ্যক্ষের কাছে নিয়ে যান। এরপর শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে বিষয়টি জানালে তোলপাড় শুরু হয়।

এদিকে বৃহস্পতিবার কলেজের কিছু শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগটি জানার পর ক্ষুব্ধ হয়ে প্রহরী রুমান মিয়াকে ধরে কলেজের অধ্যক্ষের কাছে নিয়ে যান। এ সময় রুমান মিয়া অধ্যক্ষের কক্ষে মারধর ও এক ঘণ্টা আটক রাখার বিষয়টি স্বীকার করেন ওই শিক্ষার্থীরা।

ছাত্রীর বন্ধুর অভিযোগের বরাতে একজন শিক্ষার্থী জানান, ১০ জুলাই পরীক্ষার পর কলেজের একটি বিল্ডিংয়ের সিঁড়িতে তারা দেখা করতে যান। এসময় রুমান মিয়া এসে তাদের ওপর চড়াও হয়ে তাদের পুলিশে ধরিয়ে দেবার ভয় দেখান। এছাড়াও তাদের চড়-থাপ্পড় মারেন এবং অশ্রাব্য ভাষায় তাদের সাথে কথা বলেন। এরপর ছাত্রকে ছাদে তালা মেরে রেখে মেয়েটিকে ছেড়ে দেয়ার কথা বলে নিচে নিয়ে যান। এরপর প্রহরী রুমান মিয়া সবাইকে জানিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ছাত্রীকে এক ঘন্টা আটকে রেখে ধর্ষণ করে। এতে এখনও ছাত্রীটি সামাজিকভাবে হেনস্থার ভয়ে কাউকে বিষয়টি জানতে দিতে চান না।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দেওয়ান জামাল উদ্দিন চৌধুরী শুধু চড়-থাপ্পড় দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানান। আর এ কারণেই রুমান মিয়াকে তিনি বহিষ্কার করেছেন।

দেওয়ান জামাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমি চড়-থাপ্পড়ের অভিযোগ স্বীকার করার পরই রুমান মিয়াকে বহিষ্কার করেছি। আর আটক ও ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছে রুমান। ছাত্রীটি প্রহরী নাকি বন্ধুর দ্বারা নিগ্রহের শিকার হয়েছেন- তা জানতে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আগামী মঙ্গলবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। ধর্ষণের বিষয়টি তো আর কলেজে সমাধান সম্ভব নয়। তবে ছাত্রীর পক্ষ থেকে মামলা করলে আমরা সাহায্য করব।

সদর মডেল থানায় কোন অভিযোগ আসেনি বলে জানান ওসি গোলাম মোর্তাজা।

(এইদিনএইসময়/১৪জুলাই/এলএ)

সর্বশেষ নিউজ