৩১ জানুয়ারী ২০২৩, মঙ্গলবার
--বিজ্ঞাপন-- Nagad

প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাঁচার আকুতি কলেজ ছাত্রী ইতিমা’র

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img

অব্যাহতভাবে প্রাণনাশের পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাঁচার আকুতি জানিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসুচী পালন করেছেন খুলনার কলেজ ছাত্রী ইতিমা মন্ডল। খুলনা সরকারী আজম খান কমার্স কলেজের ছাত্রী ইমিতা জেলার বটিয়াঘাটার হতদরিদ্র নারায়ণ মন্ডলের কন্যা।

গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ব্যানার সহকারে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেন। এরআগে ২২ জানুয়ারী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর তার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

খুলনা সরকারী আজম খান কমার্স কলেজের ছাত্রী বটিয়াঘাটার হতদরিদ্র নারায়ণ মন্ডলের কন্যা ইতিমা মন্ডল অব্যাহত হত্যার হুমকি কারনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাঁচার আকুতি জানিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসুচী পালন করেছেন।

লিখিত অভিযোগে ইতিমা মন্ডল জানান, আমার বাবা মানসিক রোগী, মা অসুস্থ। আমরা অত্যন্ত দরিদ্র। দিনে তিন বেলা খেতেও পারি না। খুলনার বটিয়াঘাটার ভয়ংকর সন্ত্রাসী, ভুমিদস্যু সুরঞ্জন সুতার লোলুপ দৃষ্টি পড়ে আমার উপর। সরাসরি ও অন্য লোক দিয়ে কুপ্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হয়ে অস্ত্রের মুখে বটিয়াঘাটা উপজেলার ঠিকরাবাদ গ্রামের আমাদের শেষ সম্বল বসতবাড়ী ভিটামাটি দখল করে নিয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্কাদের যোগসাজশে জাল দলিল তৈরি করে বটিয়াঘাটা এসি ল্যান্ডের সহযোগীতায় অবৈধভাবে রেকর্ড করে নেয়।

জমিজমা সংক্রান্ত মামলা তুলে না নিলে এবং আমি তার অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি থাকলে আমাদের বসতবাড়ি ফিরিয়ে দিবে বলে প্রস্তাব দেয়। আমি তা ঘৃনাভরে তা প্রত্যাখ্যান করায় আমাকে ও আমার পরিবার সদস্যদের হত্যা করবে বলে হুমকি দিচ্ছে। বহু মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। ভারতে চলে না গেলে, সুরঞ্জন সুতার প্রকাশ্যে আমাকে ধর্ষণ করে হত্যা করবে এবং আমার পরিবার সদস্যদের পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। তাঁর ভয়ে জীবন বাচাঁতে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। মাননীয় প্রধানমন্তমা জননী আমাকে ও আমার পরিবার সদসদের বাঁচান।

ইতিমা মন্ডল আরও জানান, এ ব্যাপারে মামলা করতে চাইলে লবনচেরা থানা থেকে চরম দুর্ব্যবহার করে তাড়িয়ে দিয়েছে। বহু কস্ট করে বার বার থানায় ধর্না দিয়ে একটা সাধারণ ডায়েরি করেছি। যার ডায়েরি নং ৭৭৩ তারিখ ১৯/৮/২০২২। তবে থানা পুলিশ এ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থাই নেয়নি।

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় এক সময়ের হত-দরিদ্র নারায়ণ সুতার পুত্র সুরঞ্জন সুতার গত কয়েক বছরের ব্যবধানে সাব রেজিস্ট্রার ও ভুমি অফিসে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বহু ভিপি সম্পত্তি জাল দলিল তৈরি ও বিক্রি করে। নিরীহ মানুষের সম্পত্তির জাল দলিল তৈরি করে তাদের সম্পত্তি গ্রাস করে বিক্রি, চুরি, ডাকাতি, ভুমি দস্যুতা, চোরাচালান, মাদক ব্যবসা, এমন কি পিলার ব্যবসা করে শত শত কোটি টাকার পাহাড় গড়েছে।

আমার বাবা নারায়ণ মন্ডল ঠাকুরদাদা দশরথ মন্ডলের একমাত্র সন্তান। ঠাকুরদাদা দশরথ মন্ডল ২০০৯ সালে মৃত্যুবরন করেন। ঠাকুরদাদা দশরথ মন্ডলের মৃত্যু হলে বাবা নারায়ণ মন্ডল তাঁর একমাত্র ওয়ারিশ হিসেবে বসতবাড়ীসহ ভিটা মাটি ৫৩.২৫ শতাংশ সম্পত্তির পৈত্রিক সুত্রে মালিক হন। ২০১৬ সালে উক্ত ৫৩.২৫ শতাংশ বসতবাড়িসহ ভিটার জমি বাবা নারায়ণ মন্ডলের নামে নামজারি ও রেকর্ডভুক্ত হয়।

খুলনার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ভুমিদস্যু সুরঞ্জন সুতার পরিকল্পিতভাবে গোলাম সারওয়ার মল্লিক পিতা মৃত আকছের মল্লিক ১৪, জাহিদুর রহমান রোড, খুলনা এর নামে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে বে-নামী ২ টি জাল দলিল তৈরী করে। যার দলিল নং ২৬৪৫/৯২ তাং১০/১১/১৯৯২ ও ২০৯১/২০২১ তারিথ ১১/৩/২০২১।

প্রশ্ন হলো দশরথ মন্ডল ২০০৯ মৃত্যুবরণ করার পর কিভাবে ঐ মৃত ব্যক্তি ২০২১ সালে জমি রেজিস্ট্রি করে দিলেন? নারায়ন মন্ডলের নামে ২০১৬ সালে রেকর্ড থাকা স্বত্বেও এসি ল্যান্ড ও তার হেডক্লার্ক নাসিম মোটা অংকের বিনিময়ে ২০১৯ সালে বে-আইনীভাবে গোলাম সারওয়ার মল্লিকের নামে রেকর্ড দেন। এই অবৈধ রেকর্ডের বিরুদ্ধে আমার বাবা নারায়ন মন্ডল বটিয়াঘাটা এসি ল্যান্ড অফিসে ১৫০ ধারার মামলা দায়ের করেন।

খুলনা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনাল মামলা বিচারাধীন (মামলা নং ১০৯১/১৪ তারিখ ২৮/৮/২০১৪) খুলনা বটিয়াঘাটা সহকারী জজ আদালত জাল দলিলের বিরুদ্ধে (মামলা নং ১৪৬/২০২০) ও বিজ্ঞ মহানগর হাকিম আদালতে মামলা (মামলা নং ১৪৫/২২ সি.অর তারিখ ৫/৯/২০২২) বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বটিয়াঘাটার এসি ল্যান্ড মাসুদ ও হেডক্লার্ক নাসিম মোটা অংকের বিনিময়ে বে-আইনি ভাবে সুরঞ্জন সুতার এর বে-নামি গোলাম সারোয়ার নামে ১৫০ ধারা রায় দিয়ে দেয়। বাবা নারায়ন মন্ডলের রেকর্ডিয় পৈত্রিক সম্পত্তির রেকর্ড বাতিল করে দেয় এবং সম্পুর্ন বে-আইনিভাবে গোলাম সারোয়ারের নামে অবৈধ নামজারি বহাল রাখে।

আমার প্রশ্ন খুলনা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনাল, সহকারী জজ আদালত ও মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় এবং নারায়ণ মন্ডল ও গোলাম সারোয়ার এর তফশিল ভিন্ন ভিন্ন হওয়া সত্যেও কি ভাবে বটিয়াঘাটা এসি ল্যান্ড মি. মাসুদ নারায়ণ মন্ডলের সম্পত্তি গোলাম সারোয়ারের নামে অবৈধ নামজারি বহাল রাখেন? বিষয়টা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

নামজারি বহাল পেয়ে সুরঞ্জন সুতার আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সুরঞ্জন সুতার আমাদের বসতবাড়ী ভিটামাটি থেকে উচ্ছেদ করে এবং প্রকাশ্যে জীবন নাশের হুমকি প্রদর্শন করে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে ভারতে চলে না গেলে প্রকাশ্য তোর মেয়েকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলার হুমকি দেয় আমার বাবাকে। একই সঙ্গে পরিবারের সবাইকে পুড়িয়ে মারাসহ লাশের নাম নিশানা খুজে পাবে না বলেও হুমকি দেয়।

ভয়ংকর এই সন্ত্রাসী ইতিপুর্বে এলাকায় জমি গ্রাস করার জন্য অনেককে গুম করেছে। তার ভয়ে এলাকাবাসী মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। তাঁর অবৈধ টাকার কাছে স্থানীয় প্রশাসন জিম্মি। প্রশাসনের এক বড় আমলা ও সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবি টাকার বিনিময়ে তার অবৈধ কাজে সহায়তা করে।

প্রিয় মমতাময়ী মা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আপনার আশু হস্তক্ষেপ ছাড়া সুরঞ্জন সুতার আমাদের বাঁচতে দিবে না। আমরা বাঁচতে চাই। মমতাময়ী মা আমাদেরকে বাঁচান। আমাদের বসতবাড়ী উদ্ধারসহ দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করে আমাদেরকে বাঁচান। আপনার কাছে প্রান ভিক্ষা চাই।

সর্বশেষ নিউজ