১৭ এপ্রিল ২০২৪, বুধবার

৪৪৭ কোটি টাকার ট্যাব নিয়ে বিপাকে পরিসংখ্যান ব্যুরো

বিশেষ প্রতিনিধি

জনশুমারির কাজে মাত্র ৮ দিনের জন্য কেনা ৪৪৭ কোটি টাকার ট্যাব নিয়ে বিপাকে আছে পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। সেই ট্যাবগুলো এখন অচল অবস্থায় পড়ে আছে। এগুলোর বিষয়ে এখন একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায় বিবিএস। সেই সিদ্ধান্ত পেতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে।

জানা গেছে, এ বিষয়ে বিবিএস সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর দফতরে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। তাতে ঐ ৪৪৭ কোটি টাকার ট্যাবের সামারি বা সার-সংক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে।

বর্তমানে ব্যুরোতে ৩ লাখেরও বেশি ট্যাব পড়ে রয়েছে। চিঠিতে ৪৪৭ কোটি টাকার ট্যাবের বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

‘জনশুমারি ও গৃহগণনা- ২০২১’ প্রকল্পের আওতায় গেল বছর ৪৪৭ কোটি ৭৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৭০ টাকা দিয়ে কেনা হয় তিন লাখ ৯৫ হাজার ট্যাব। ট্যাবগুলো ব্যবহার হয় মাত্র আট দিন। প্রথমবারের মতো এ কাজে ট্যাব ব্যবহার করা হয়।

মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অনুযায়ী গেল জনশুমারি ও গৃহগণনা ম্যানুয়াল বা আইসিআর পদ্ধতিতে করার কথা ছিল। সে অনুযায়ী সব জিনিসপত্রও কেনা হয়। কিন্তু প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তন হওয়ার পর নতুন প্রকল্প পরিচালক এসে প্রকল্পটি ডিজিটালি করার উদ্যোগ নেন। ডিপিপি সংশোধন করে তাতে যুক্ত করা হয় ট্যাব। আগের কেনা জিনিসপত্র বাদ দিয়ে সিদ্ধান্ত হয় নতুন করে ট্যাব কেনার।

কিন্তু বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ট্যাব কেনার প্রস্তাব পরপর তিনবার ফেরত দেয় সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। চতুর্থবারে এসে গতবছরের ৩ মার্চ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে বিবিএসের ট্যাব কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেয় ক্রয় কমিটি।

ট্যাব কেনার টেন্ডারে দুটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। ‘ফেয়ার ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড’ ও ‘ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’। ওয়ালটন প্রতিবারই ফেয়ার ইলেকট্রনিক্সের চেয়ে ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকা কমে ক্রয় টেন্ডারে অংশগ্রহণ করে। ই-জিপি টেন্ডারের নিয়ম অনুযায়ী সর্বনিম্ন দরদাতা কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকে। তবে, প্রথম তিনবার ফেয়ার ইলেকট্রনিক্সের পক্ষে সুপারিশ ছিল বিবিএসের। তিনবারই প্রস্তাবটি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক থেকে ফেরত আসে। চতুর্থবারে ওয়ালটনের পক্ষে বিবিএস সুপারিশ করলে প্রস্তাবটি অনুমোদন দেয় ক্রয় কমিটি।

উল্লেখ্য, ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা- ২০২১’ শীর্ষক মূল প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায় ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর। অনুমোদিত প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় এক হাজার ৭৬১ কোটি টাকা।

সর্বশেষ নিউজ