আবারো রাতের আধারে বালু তুলছেন সেই ‘বালুখেকো’ সেলিম

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img
spot_img

আবারও রাতের আধারে বেআইনিভাবে বালু তুলছেন চাঁদপুর সদরের লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেই ‘বালুখেকো’সেলিম খান। তিন মাস ধরে রাতের অন্ধকারে চাঁদপুর সদর সংলগ্ন মেঘনা নদীর একাধিক স্থান থেকে অবাধে বালু তুলছে তার দলবল।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর জেলায় কোনো বালুমহাল নেই। ফলে সেলিম খানের বালু উত্তোলনে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ও চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেই।

একাধিক সূত্র গণমাধ্যমকে জানায়, সেলিম খানের লোকজন রাত ১১টার পর থেকে মেঘনায় তিনটি ড্রেজার দিয়ে বালু তুলছে। বালু উত্তোলনের কাজ চলে রাত ৪-৫টা পর্যন্ত। রাত পোহানোর আগেই ড্রেজারগুলো গোপন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

স্থানীয়রা গণমাধ্যমকে জানায়, লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে প্রস্তাবিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের পশ্চিম পাশে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু মজুত রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া চাঁদপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব-দক্ষিণ দিকে ঢালীরঘাটেও বালু সংরক্ষণ করা হয়। এখানে সেলিম খানের সহোদর টেলু খানের বালু বিক্রির জায়গা রয়েছে। এখান থেকে প্রতিদিন অবাধে বালু বিক্রি করা হচ্ছে।

সম্প্রতি সেলিম খান দুদকের মামলায় জেল খেটে বের হওয়ার পর কিছুদিন নীরব ছিলেন। এর পর আবারও বালু উত্তোলনের কাজ শুরু করেছেন। দীর্ঘদিন চাঁদপুরসংলগ্ন পদ্মা ও মেঘনার ৭০ কিলোমিটার এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিপুল অর্থকড়ি কামিয়েছেন বহিষ্কৃত এই আওয়ামী লীগ নেতা।

এ ব্যাপারে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, মেঘনা নদীতে কোনো ধরনের বালুমহাল নেই। তাই এই নদী থেকে বালু উত্তোলন অবৈধ। বিগত দিনে অভিযান চালিয়ে সেলিম খানের ৩০০ ড্রেজার জব্দ করা হয়েছিল। আবারও তার বালু উত্তোলনের কোনো খবর পাওয়া গেলে তারা অভিযান চালাবেন।

জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, চাঁদপুর জেলায় কোনো বালুমহাল নেই। তাই কাউকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। আইন অনুযায়ী এই অনুমতি দেওয়ার কোনো সুযোগই নেই। মাসখানেক আগে গভীর রাতে মেঘনা থেকে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে তা বন্ধ করার জন্য কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশকে  জানানো হয়েছিল।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, সেলিম খান প্রতিরাতে গোপনে মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলন করছেন। স্থানীয় প্রশাসনসহ সবাইকে ম্যানেজ করে এ কাজ করছেন বলে তিনি বলে বেড়াচ্ছেন।

জানা গেছে, গত বছরের আগস্টে দুর্নীতি দমন কমিশন  সেলিম খানের বিরুদ্ধে ৩৪ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে।

(এইদিনএইসময়/১১সেপ্টেম্বর/এলএ)

সর্বশেষ নিউজ