২০ জুলাই ২০২৪, শনিবার

এন্টিটেরোরিজম ইউনিটের ডিআইজি মনিরুজ্জামানের ‘শান্তিরক্ষীর ডায়েরি’ নিয়ে প্রত্যাশা

মো. মোজাম্মেল হক
spot_img

বাংলাদেশ পুলিশের এন্টিটেরোরিজম ইউনিটের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানের লেখা বই নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের নিজের আইডিতে তিনি বইটি নিয়ে বিস্তারিত লিখেন।

তিনি লিখেন- বাংলাদেশ পুলিশের এন্টিটেরোরিজম ইউনিটের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান বিপিএম (বার) পিপিএম (বার) একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ, সাহসী এবং মেধাবী কর্মকর্তা। পেশাগত জীবনে তিনি যেখানে চাকরি করেছেন সেখানেই তিনি তার সততা, স্বচ্ছতা এবং কর্মদক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। বিশেষ করে তাঁর জনবান্ধব পুলিশিং সংশ্লিষ্ট এলাকার গণ মানুষ এবং পুলিশের সিনিয়র অফিসারদের নিকট তাকে অত্যন্ত প্রিয়পাত্র করে রেখেছে।

তিনি পুলিশে চাকুরীর সুবাদে এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে অনেকবার বিদেশে ভ্রমণ করেছেন এবং দেশের বাইরে যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশ সমুহে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের গর্বিত সদস্য হিসেবে একাধিকবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি তার অভিজ্ঞতার নির্যাষ থেকে লিখেছেন ‘শান্তি রক্ষীর ডাইরী’ বইটি।

জাতিসংঘের বহুমুখী কাজের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ হল শান্তিরক্ষা কার্যক্রম। প্রতিবছর সারা পৃথিবীর অসংখ্য সাহসী সেনানী এবং পুলিশ সদস্য যুক্ত হচ্ছেন এই মিশনে। কেমন কাটছে তাঁদের দিন, কিভাবে কাটছে তাদের রাত? নিজের অভিজ্ঞতার ঝাঁপি থেকে সেই গল্পই শোনাচ্ছেন বাংলাদেশ থেকে যুদ্ধবিদ্ধস্ত কসভোতে শান্তিরক্ষী হিসেবে যাওয়া বাংলাদেশ পুলিশের একজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তা।

যুদ্ধাবস্থায় বিপর্যস্ত একটি দেশের ৩৬৫ দিনই ঘটনাবহুল। জাতিগত বিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িক সংঘাত, ভিন্নমতাবলম্বীদের হানাহানির মাঝে শান্তিরক্ষীদের ফুটিয়ে তুলতে হয় শান্তির কোমল পেলব ফুল। শান্তিরক্ষীর ডাইরী বইয়ের লেখক পরম নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে গেছেন দিনের-পর-দিন। একদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত কসোভিয়নদের বিবর্ণ মুখের প্রতিফলন অন্যদিকে স্বদেশে ফেলে আসা বাবা মা ভাই বোন স্ত্রী কন্যা পরিজনদের বেদনা বিধুর স্মৃতি।

লেখক ডিআইজি মনিরুজ্জামানের জীবনঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত অনুভূতির অনুরনন খুঁজে পাওয়া যায় এই বইটির পাতায় পাতায়। আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ঘটনাসমূহের পটপরিবর্তন, বিপর্যস্ত দেশের মানবিক বিপর্যয়, কসোভোর অনিন্দ্য সুন্দর প্রকৃতির মাঝে ট্রাভেল ব্লগ প্রভৃতি বিষয়ের নান্দনিক মিশেলে ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান লিখিত শান্তিরক্ষীর ডায়েরী হয়ে উঠেছে ধ্রুপদী সাহিত্যের সম্ভাবনাময় একটি গ্রন্থ।

এ এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে স্মৃতিকথা। পাতায় পাতায় উঠেছে সাবেক যুগোস্লাভিয়ার অধিভুক্ত যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ কসোভোতে জাতিসংঘের প্রথম সারির শান্তিরক্ষী হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার জীবনের কথকতা। শ্বেতশুভ্র বরফ, জাতিগত দাঙ্গার কালো মেঘের মাঝে লেখক উষ্ণতার সন্ধান সন্ধান করেছেন।

বাংলা সাহিত্যে এমন অকপট স্মৃতিকথা বিরল বললে অত্যুক্তি হবে না। ডিআইজি মনিরুজ্জামানের শান্তিরক্ষীর ডায়েরি এবারের একুশে বইমেলায় পাঠকদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং ব্যাপক পাঠক প্রিয়তা পেয়েছে।

অমর একুশে বই মেলা ২০২৩ এ পাঞ্জেরী প্রকাশনী কর্তৃক প্রকাশিত জনাব মনিরুজ্জামান লিখিত ‘শান্তিরক্ষীর ডায়েরি’ বইটি ইতিমধ্যেই বেস্টসেলার হিসাবে পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ‘শান্তিরক্ষীর ডায়েরি’ বইটি পাওয়া যাচ্ছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স এর ৯ নাম্বার প্যাভিলিয়নে। আমি বইটির আরো পাঠকপ্রিয়তা, বহুল প্রচার এবং প্রসার কামনা করছি। আশা করছি আমার প্রিয় ব্যাচমেট মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বিপিএম (বার) পিপিএম (বার) ভবিষ্যতে এধরনের সৃষ্টিশীল লেখার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে আরো সমৃদ্ধ করবে।

সর্বশেষ নিউজ