২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, বৃহস্পতিবার
--বিজ্ঞাপন-- Bangla Cars

শুভাকাঙ্ক্ষীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত মোঃ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img

দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া মোঃ শাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

রবিবার দুপুরের পর থেকেই শুভাকাঙ্ক্ষীরা ভিড় জমান তাঁর গুলশানের কার্যালয়ে। শুভেচ্ছা জানাতে আসেন আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, প্রশাসনিক, রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ।

এর আগে দেশের ২২ তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন তা নিয়ে অনেকদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ নাম আলোচনায় থাকলেও সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সংসদীয় কমিটির সভায় নামগুলো নিয়ে আলোচনা হলেও তখন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা দুদকের সাবেক কমিশনার ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোঃ সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে বাংলাদেশের ২২ তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দেন।

রোববার সকালে তিনি ঢাকার আগারগাও নির্বাচন কমিশনে গিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এসময় তার পাশে ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাসান মাহমুদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সাহাবুদ্দিন চুপ্পু একসময় জেলা জজ ছিলেন। বিচারক হিসেবে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় তিনি অকুন্ঠভাবে কাজ করে গেছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার তরান্বিত করার জন্য তার ওপর বিশেষ কিছু দায়িত্ব ছিল। তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে সে দায়িত্ব পালন করেন। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পরিচালকও ছিলেন তিনি। বিচারক হিসেবে অবসর নেওয়ার পর ২০০১ সালে সংখ্যা লঘু নির্যাতনের ঘটনায় ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী আওয়ামীলীগ সরকার গঠিত কমিশনের চেয়ারম্যান মনোনীত হন। পরে তিনি এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে দাখিল করেন।

২০১০ সালে তাকে দুদকের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। চার বছর তিনি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি যখন দায়িত্বে ছিলেন সেসময় পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে মর্মে অভিযোগ আনে বিশ্বব্যাংক। দুদকের ওপর বর্তায় এ সংক্রান্ত তদন্তভার। কমিশনার হিসেবে তিনি সরকারের পক্ষে অবস্থান নেন। পরবর্তীতে এ বিষয়ে করা মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সহায়তা করেন। ওই সময় তিনি সবার নজরে আসেন।

দুদক থেকে অবসরে যাওয়ার পর তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকের ভাইস চেয়্যরম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একইসঙ্গে “দৈনিক এইদিন এইসময়” (www.eidineisomoy.com)এর উপদেষ্টা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার দিক নির্দেশনায় পত্রিকার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

পাবনার কৃতি সন্তান মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ১৯৪৯ সালে পাবনা শহরের জুবিলি ট্যাঙ্কপাড়ায় (শিবরামপুর) জন্মগ্রহণ করেন। পিতা শরফুদ্দিন আনছারী ও মাতা খায়রুন্নেসা। তিনি পাবনা শহরের পূর্বতন গান্ধী বালিকা বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়ন করে রাধানগর মজুমদার একাডেমিতে চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হন।

১৯৬৬ সালে এসএসসি পাস করার পর পাবনার এডওয়ার্ড কলেজ থেকে ১৯৬৮ সালে এইচএসসি ও ১৯৭১ সালে (অনুষ্ঠিত ১৯৭২ সালে) বিএসসি পাস করেন। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৪ সালে মনোবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর এবং পাবনা শহিদ অ্যাডভোকেট আমিনুদ্দিন আইন কলেজ থেকে ১৯৭৫ সালে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। সেসময় তিনি দৈনিক বাংলার বানী পত্রিকায় পাবনা জেলা সংবাদদাতা হিসেবেও কাজ করেন।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হলে সাহাবুদ্দিন চু্পপুকে সামরিক আইন বলে গ্রেপ্তার করে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। কারাভোগের পর মুক্ত হলে তিনি পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

ছাত্রজীবনে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারী সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ১৯৮২ সালে বিসিএস (বিচার) ক্যাডার হিসেবে যোগ দেন। বিচারকের বিভিন্ন পদে চাকরি শেষে ২৫ বছর পর ২০০৬ সালে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অবসর নেন। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পরপরই আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীর উপর নির্যাতনের ঘটনা আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে আমলে নেয়। ওসব ঘটনার তদন্তে কমিশন’ গঠন করেন, যার প্রধান ছিলেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।

প্রসঙ্গত, সংবিধান অনুয়াযী, রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে ৫ বছরের জন্য পদে অধিষ্ঠিত থাকেন। এবার রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৩ ফেব্রুয়ারি। প্রত্যাহার ১৪ ফেব্রুয়ারি। সংসদ ভবনে ভোট গ্রহণ হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। অবশ্য রাষ্ট্রপতি পদে একক প্রার্থী হলে ভোটের প্রয়োজন হবে না। সে ক্ষেত্রে ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের দিনেই একক প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি পদে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।

বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। সেই অনুযায়ী, তার ৫ বছরের মেয়াদ আগামী ২৩ এপ্রিল শেষ হবে। সংসদে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাদের মনোনীত প্রার্থীই হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি, এটি মোটামুটি নিশ্চিত। বিরোধী দল জাতীয় পার্টি প্রার্থী না দেওয়ার কথা আগেই জানিয়ে দিয়েছে।

আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে তিনি বাংলাদেশের ২২ তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনিত হওয়ায় “দৈনিক এইদিন এইসময়” পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানানো হয়।

সর্বশেষ নিউজ