২৪ মে ২০২৪, শুক্রবার

বাংলাদেশে কাজের অনুমতি নেই অনেক বিদেশির, ভিসা কঠিন করার উদ্যোগ

ডেক্স রিপোর্ট
spot_img

অনেক বিদেশি নাগরিক কাজ করার অনুমতি না থাকার পরেও বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের সমন্বিত কোনো তথ্যভান্ডার না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। বিদেশি নাগরিকদের একটি বড় অংশ করও দেন না।

মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘কর্মানুমতি ছাড়া বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।

এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। বৈঠকে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব এবং শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেন, বাংলাদেশ ৪ থেকে ৫ লাখ বিদেশি আছেন। তাদের মধ্যে অনেকের অবৈধ অবস্থানের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ আয়কর থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। স্থানীয় কর্মীদের চাকরির সুযোগও সংকুচিত হচ্ছে।

তিনি জানান, অনুমতি ছাড়া কাজ করা বিদেশিদের ঠেকাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, বিডা, বেপজা, বেজা, হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, এনজিওবিষয়ক ব্যুরো, এনএসআই, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং পুলিশের এসবির প্রবেশযোগ্যতা থাকে, এমন একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার তৈরির সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বলেন, বাংলাদেশি মিশনগুলোর ভিসা দেয়ার প্রক্রিয়া অনলাইন ও স্বয়ংক্রিয় করা হবে। বিদেশিরা যে শ্রেণির ভিসায় আসবেন, সেই শ্রেণি ছাড়া অন্য কোনো শ্রেণির ভিসা থাকলে, মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসা থাকলে এবং কাজ করার অনুমতি না থাকলে যেসব বাড়ি বা হোটেলে তারা অবস্থান করবেন, সেসব হোটেল ও বাড়ির মালিকদেরও জরিমানা করা হবে।

তিনি বলেন, অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের জরিমানা দৈনিক ভিত্তিতে করা হবে অর্থাৎ যত দিন বেশি থাকবেন, তত দিনের জরিমানা আরোপের বিধান করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যে প্রতিষ্ঠান অবৈধ নাগরিকদের কাজে নেবেন, তাদেরও জরিমানা গুনতে হবে। সুরক্ষা সেবা বিভাগ যাদের কালোতালিকাভুক্ত করেছে, তাদের তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

বিদেশিদের ক্ষেত্রে যেসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তাতে বছরে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব।

সংশ্লিষ্টরা কর্মকর্তারা জানান, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও বিদেশি নাগরিকদের একটি বড় অংশ বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। কারণ ধরা পড়লে জরিমানার পরিমাণ খুবই কম, মাত্র ৩০ হাজার টাকা। আবার অনেকে ভিসার শ্রেণি পরিবর্তন করেও বেশি দিন অবস্থানের সুযোগ নিচ্ছেন।

বৈঠকে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭ হাজার ১৬৭ জন। চার ধরনের ভিসায় তারা এ দেশে এসেছেন।

এর মধ্যে ব্যবসা ও বিনিয়োগ শ্রেণির ভিসায় ১০ হাজার ৪৮৫, কর্মসংস্থান ভিসায় ১৪ হাজার ৩৯৯, শিক্ষা ভিসায় ৬ হাজার ৮২৭ এবং পর্যটন ও অন্যান্য শ্রেণির ভিসায় ৭৫ হাজার ৪৫৬ জন বিদেশি নাগরিক বাংলাদেশে এসেছেন। তাদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিক সবচেয়ে বেশি-৩৭ হাজার ৪৬৪ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চীনের নাগরিক-১১ হাজার ৪০৪ জন।

সর্বশেষ নিউজ