২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, বৃহস্পতিবার
--বিজ্ঞাপন-- Bangla Cars

ইমরান অনুগতদের জয় ও বিশ্বাসঘাতকদের পরাজয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
spot_img

কারাগারে বন্দি তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ইমরান খান। তিনি জেলে যাওয়ার পরও অনেকে তার অনুগত রয়েছে। তারা পাকিস্তানের নির্বাচনে বাজিমাত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে অনেক নতুন মুখও। রাজনীতিতে বাঘা বাঘা নেতাদের হারিয়েছে তারা।

এদিকে, ইমরান খানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকরা পরাজিত হয়েছে। দেশটির শক্তিশালী চক্রের সমর্থন নিয়েও অপমানজনক পরাজয়ের শিকার হয়েছেন তারা। সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

সদ্য শেষ হওয়া পাকিস্তানের নির্বাচনে লড়তে পারেননি ইমরান খান। এমনকি, নানা বাধ্যবাধকতায় দলটিও নির্বাচনে যেতে পারেনি। দলটির নেতারা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন।

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে গত বছরের ৯ মে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপরই দলটির কর্মী-সমর্থকেরা দেশজুড়ে সহিংসতা চালায়। সামরিক স্থাপনাতে চালায় হামলা। এর জেরেই রাষ্ট্রীয় রোষানলে পড়ে পিটিআই। ইমরান খানের দলকে মুছে ফেলতে সব চেষ্টায় চালানো হয়। দলটির শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূলের অনেককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। দলটির অনেক নেতাকে অনুগত পরিবর্তন বা রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালানো হয়। গণমাধ্যমের খবর থেকে তাদের উধাও করে দেওয়া হয়। এতে করে ইমরান খানের অনুগত থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।

কঠিন সময়ে ইমরান খান থেকে দূরে সরে যাওয়া শীর্ষ রাজনৈতিকদের মধ্যে রয়েছে পারভেজ খট্টক। খাইবার পাখতুনখোয়ার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিটিআই ছেড়ে পিটিআই-পার্লামেন্টারিয়ান দল গড়েন তিনি। ইমরান খান থেকে সরে যাওয়া শীর্ষ রাজনৈতিকদের মধ্যে রয়েছে জাহাঙ্গীর তারিন। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এক সময়ের ঘনিষ্ঠ পিটিআই ছেড়ে গড়েছিলেন ইস্তেহকাম-ই-পাকিস্তান পার্টি (আইপিপি)। তবে, ভোটে শোচনীয় পরাজয়ের শিকার হয়েছেন এই দুজনই।

নির্বাচনি প্রচারের সময় খট্টক দাবি করেছিলেন, তিনি খাইবার পাখতুনখোওয়ার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন এবং পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্ররাও বিজয়ী হওয়ার পরে তার সঙ্গে হাত মেলাবেন।

খট্টকের থেকেও বড় স্বপ্ন দেখেছিলেন তারিন। বিজয়ী হয়ে তার দল লন্ডন থেকে ফেরা নওয়াজ শরীফের দল পিএমএল-এনের সঙ্গে জোট করে কেন্দ্র ও পাঞ্জাবে সরকার গঠন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন। তবে, জাতীয় পরিষদের জন্য আইপিপি মাত্র দুটি আসন পেয়েছে, যেগুলো লাহোরের। আইপিপির এই দুই বিজয়ীর বিরুদ্ধেও কারচুপির অভিযোগ ওঠেছে। প্রতিদ্বন্দ্বীরা তাদের জয়কে চ্যালেঞ্জ করছে।

দলের ভরাডুবির সঙ্গে সঙ্গে খট্টক ও তারিনের ভরাডুবি হয়েছে। নিজেদের আসনেও জিততে পারেনি তারা। খট্টকের দুই ছেলে ও জামাতা নওশেরার সাতটি আসনে লড়াই করেছে। তবে, একটিতে জিততে পারেনি তারা। পিটিআই সমর্থিত নতুন এক মুখ বিরাট ব্যবধানে তাদের হারিয়ে দিয়েছে। এরপরেই প্রশ্ন ওঠে, কেনো রাজনীতিতে হেভিওয়েট খট্টক ও তারিনকে ভোট দেয়নি ভোটাররা।

বিবিসি উর্দুকে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক লায়েক খান বলেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় যেসব দল ইমরান খানের সমালোচনা করেছে তাদের ভোটাররা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের আসন এক বা দুটির মধ্যে সীমাবদ্ধ। অন্যদিকে, দলছুট খট্টক অপমানজনক পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছেন।

নির্বাচনি প্রচারণার সময়ও জনসাধারণের প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হন খট্টক। সভা-সমাবেশে তার বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আলি আকবর বলেন, প্রচারণার সময় খট্টককে খুবই আগ্রাসী দেখা গিয়েছিল। তিনি নিজেকে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখাত।

ইমরান খানকে থেকে দূরে সরে যাওয়া খট্টকের দলের আরেক বড় মুখ সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মাহমুদ খান। তিনি দুটি নির্বাচনি এলাকা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। দুটিতেই হেরেছেন তিনি। বিশ্বাসঘাতকতার জন্য তৃণমূল পর্যায়ে তাদের প্রতি ক্ষোভ ছিল ভোটারদের। ভোটের মাধ্যমে তা তারা প্রকাশ করেছেন।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ইরফান খানের বিশ্বাস, ইমরান খানের প্রতি জনগণের ভালোবাসা সারাদেশ জুড়েই রয়েছে। তিনি বলেন, প্রাদেশিক সরকার গঠনে খট্টক ও মাহমুদ এগিয়ে ছিল। ইমরান খানের নীতিতে তাদের জনপ্রিয়তা ও কর্মক্ষমতায় ভাটা পড়ে।

ইমরান খান ও তার দল যখন বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন তখন শুধু খাইবার পাখতুনখোয়াতে নয়, পাঞ্জাবেও অনেকে পিটিআই ছেড়েছে। তারিনের আইপিপি জাতীয় পরিষদের ১২টি ও পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকারের জন্য ৩৭টি আসনে লড়েছিল। নওয়াজের পিএমএল-এনের সঙ্গে আসন সমঝোতাও করেছিল তারা। তবে, শুধুমাত্র দুটি আসনে জিতেছে তারা। এর মধ্যে একটির ফলাফল নিয়ে লাহোর হাইকোর্টে মামলা চলমান।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, নির্বাচনের ফলাফল সবাইকে অবাক করে দিয়েছে। সব বিশ্লেষণকেই ভুল প্রমাণ করেছে। ইমরান ও তার দলের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তার গল্প শুধু খাইবার পাখতুনখাওয়াকেই নয়, পাঞ্জাবকেও অনুপ্রাণিত করেছে। এ কারণে পাঞ্জাবে আইপিপি বা খাইবার পাখতুনখাওয়ায় খট্টকের দল কোনো উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখাতে পারেনি।

সর্বশেষ নিউজ