১৭ এপ্রিল ২০২৪, বুধবার

ঢাকা শহর আসলে কতটা নিরাপদ

এইদিন এইসময় ডেস্ক

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় পরপর দুটি বিস্ফোরণের ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে যে শহরটি আসলে কতটা নিরাপদ আছে কিংবা নতুন পুরনো মিলে যে হাজার হাজার পরিকল্পিত কিংবা অপরিকল্পিত ভবন গড়ে উঠেছে সেগুলোই এই শহরকে অগ্নিগর্ভ হওয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে কি-না।

চার সমস্যা প্রকট

বিশ্লেষকরা বলছেন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির অসংখ্য অবৈধ লাইন ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পুরো নগর জুড়ে, যার ফলে অনেক জায়গায় লিকেজ তৈরি হচ্ছে, যা থেকে হতে পারে মারাত্মক বিস্ফোরণ।

এছাড়া শহরের ভবনগুলোতে অভ্যন্তরীণ সংযোগ লাইনগুলোও নিয়মিত পরিচর্যা করা হয় না। ফলে প্রায়শই শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূচনা হচ্ছে।

অনেক ক্ষেত্রে রাস্তার পাশের ভবনগুলো পর্যাপ্ত জায়গা না রাখায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির লাইন, যা ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে পুরো ভবনকেই।

আবার স্যুয়ারেজের লাইন ঠিক না থাকায় বা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম না করার কারণে গ্যাস জমে যাচ্ছে সেপটিক ট্যাংকে।

এর বাইরে শীতের শেষের দিকে এসি বিস্ফোরণ বেড়ে যাওয়ার কারণ হলো নিম্নমানের এসি ব্যবহার করা এবং গরমের সময়ে কয়েকমাস বন্ধ রেখে সার্ভিসিং না করিয়েই এসি ব্যবহার করা।

এছাড়া পুরনো ভবনগুলোর ভেতরে এক সঙ্গে অনেক এসি ব্যবহার করা হয় নির্ধারিত দূরত্ব না মেনেই। যেগুলোর কোন একটিতে গ্যাস লিকেজ হলে সবগুলোই বিস্ফোরিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
চারিদিকে শুধুই ঝুঁকি

বাস্তবতা হলো ঢাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন কত আছে তার কোনো হিসেব কারও কাছেই নেই। তবে ঢাকার আধুনিক এলাকাগুলোর অন্যতম বনানীতে একটি ভবনে আগুন লাগার পর ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করার কথা বলেছিলো রাজউক।

পরে সংস্থাটি দাবি করেছিলো যে দু লাখেরও বেশি ভবন পর্যালোচনা করে তারা ১ লাখ ৩৪ হাজারের বেশি ভবনই যথাযথ নিয়ম মেনে তৈরি হয়েছে।

তবে নিমতলীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর ঢাকার সবচেয়ে বেশি ঘনবসতির এলাকা পুরনো ঢাকাকে বাসযোগ্য করে তুলতে নানা উদ্যোগ নিলেও ভূমি মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের দিক থেকে ইতিবাচক সাড়া আসেনি।

এখন বিশ্লেষকরা বলছেন গ্যাস, পানি ও স্যুয়ারেজের লাইনে ত্রুটি এবং গ্যাস ও বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটই বড় ধরণের বিপর্যয় তৈরি করছে। অর্থাৎ প্লাম্বিং সমস্যাই এখন বড় যন্ত্রণার কারণ হয়ে উঠেছে এই নগরীতে।”

তথ্য সূত্র বিবিসি

সর্বশেষ নিউজ