১২ এপ্রিল ২০২৪, শুক্রবার

ছুটির দিনের কিছু বিক্ষিপ্ত ভাবনা: ড. ইউনুস, শক্তি দই, গ্রামীণ টেলিফোন লেডি, ওয়াশিংটন পোস্টে কোটি টাকার বিজ্ঞাপন

ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী

ড. ইউনুসের সামাজিক ব্যবসার (Social Business) এর সম্ভবত একমাত্র উদাহরণ হচ্ছে ‘শক্তি দই’। ফ্রান্সের ড্যানন কোম্পানির সহযোগিতায় ড. ইউনুস ‘শক্তি দই’ নামক সামাজিক ব্যবসা কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন বেশ কয়েক বছর আগে। উদ্দেশ্য ছিল গ্রামের শিশু, কিশোর, কিশোরীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা। আজ সারা পৃথিবী ‘শক্তি দইয়ের’ কথা জানে। কারন ড. ইউনুস সারা পৃথিবীব্যাপি ‘শক্তি দইয়ের’ কথা বলে বেড়ান। ‘শক্তি দই’ একটা উন্নতমানের দই বা yogurt –এবিষয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে ‘শক্তি দই’ কি আসলেই কি গ্রামের শিশু, কিশোর, কিশোরীদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আছে? গ্রামের লোকজনের পক্ষে কি ৬০ গ্রাম দই ৩০ টাকা দিয়ে কেনা সম্ভব? এখন দেখি ‘শক্তি দই’ ঢাকার বড়, বড় সুপারমার্কেটে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে।

ভারতচন্দ্র তার অন্নদামঙ্গল কাব্যগ্রন্থে লিখেছিলেন ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’। বহ শতাব্দী পরে আজ আমাদের ড. ইউনুস ‘সামাজিক ব্যবসার’ ফাঁদ পেতে গ্রামের শিশু, কিশোর-কিশোরীর সামনে থেকে দুধভাতের থালা কেঁড়ে নিয়ে গুলশান, বারিধারার ধনীদের সামনে হাজির করলেন। অথচ সারা পৃথিবীর কাছে তিনি আজ এক নমস্য ব্যক্তিত্ব।

আজ থেকে দুই দশক আগে যখন গ্রামীণ ফোন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন গ্রামীণ ব্যাংকের বিশ হাজার নারী গ্রাহককে একটা করে মোবাইল ফোন কেনার টাকা ঋন দিয়ে তাদেরকে নাম দেওয়া হয়েছিল Telephone Lady. এই বিশ হাজার নারী গ্রাহকের বিনিময়ে ড. ইউনুস নরওয়ের টেলিনর এর কাছ থেকে গ্রামীণ ফোনের জন্য ৩৭% শেয়ার আদায় করে নেন। এই শেয়ারের মালিক তো আসলে ঐ বিশ হাজার Telephone Lady. গ্রামীণ ফোন বাংলাদেশের মত ঘন Tele Density র দেশে এখন বিলিয়ন ডলার কোম্পানি। কিন্তু সেইসব হতভাগিনী Telephone Lady রা কি কোনও দিন তাদের ন্যায্য পাওনা বুঝে পেয়েছ? না তারা কিছুই পায় নি। আর পাবেও না। আসলে তারা আত্মপ্রচারে গভীরভাবে নিমগ্ন একজন ব্যক্তির উচ্চাভিলাষের বলি হয়েছেন। যে ৩৭% শেয়ার গ্রামীণ ব্যাংকের নামে থাকার কথা ছিল তা কিন্তু আসলে ‘গ্রামীণ টেলিকম’ নামক একটা প্রতিষ্ঠানের নামে চলে গেছে। ‘গ্রামীণ টেলিকম’ তাদের ৩৭% শেয়ার থেকে প্রতিবছর দুইতিন হাজার কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করে। আমরা কি জানি এই বিপুল পরিমান টাকা কিভাবে ব্যয় করা হয়? কার জন্য ব্যয় করা হয়? না, বাংলাদেশের জনগণের কেউই জানেন না। আমরা জানিনা ‘গ্রামীন টেলিকমের’ মালিক-মোক্তার কারা। এসব বিষয় জানার চেস্টা করলে ইউনুস সাবের বিদেশি মুরব্বিরা ভীষণ গোস্বা করেন। আর ইউনুস সাব তার মুরব্বিদের এসব কথাবার্তা পৃথিবীর নামকরা পত্রিকায় কোটি টাকা খরচ করে বিজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করে দেন। আর তাতেই আমরা বাংলাদেশের আমজনতা টকঠক করে কাঁপতে থাকি!

লেখক : চেয়ারম্যান, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, বাংলাদেশ।

সর্বশেষ নিউজ