২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, বুধবার
--বিজ্ঞাপন-- Bangla Cars

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ২২০০০ বন্দীকে ইরানের ক্ষমা

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img

গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ৮ মাসে ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কমপক্ষে ২২ হাজার ব্যক্তিকে ক্ষমা করেছে ইরানের বিচার বিভাগ। দেশটির প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইন মোহসেনি এজেই সোমবার এ বিষয়টি জানান । তবে এই ক্ষমার মেয়াদ কত দিন বা বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্ত ছিল কি না, সে বিষয়ে কিছু জানাননি ইরানের প্রধান বিচারপতি।

গেল বছরের ২২সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, কমপক্ষে ৫০জন বিক্ষোভকারী নিহত হন এই বিক্ষোভে।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ইরনার মাধ্যমে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে,এই বিক্ষোভে অংশ নেয়া সর্বমোট ৮২ হাজার মানুষকে ক্ষমা করা হয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলো ২২ হাজার নারী পুরুষ।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল গত মাসের শুরুতে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খমেনি গ্রেফতারকৃতরা ছাড়াও হাজার হাজার বিক্ষোকারীকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।

পুলিশের হেফাজতে ইরানীয় কুর্দি নারী মারসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরানে যে হিজাব বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল এটি ছিলো ১৯৭৯ সালের পর ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেনঞ্জ। যাতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করে।

মূলত ইরানে ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের পরপরই নারীদের পোশাকের বিধি নিষেধ দেয়া শুরু হয়। যার ধারাবাহিকতায় ইরানে হিজাব পরা বাধ্যতামূলক করা হয় ।১৯৭৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমেনি ঘোষণা করেছিলেন, নারীদের ইসলামি পোশাক পরা উচিত। আর এর সূত্র ধরে পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে সরকার ও সরকারী অফিসে হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। ১৯৮৩ সালে সকল মুসলিম নারীর জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। আর এই নিয়ে হিজাবের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয় ২০১৭ সালে।

মারসা আমিনি ছিলেন ২২ বছর বয়সী কুর্দি ইরানী তরুণী যাকে অপূর্ণানঙ্গ হিজাব পরিধানের জন্য ১৪ গেল বছরের সেপ্টেম্বরে গাইডেন্স প্যাট্রোল গ্রেপ্তার করেছিল। যারা নৈতিকতা পুলিশ হিসেবে পরিচিত।অভিযোগ করা হয়,প্যাট্রোল কর্তৃক মারসা আমিনির মাথায় আঘাতের কারণে তার ব্রেন ডেড হয়ে পড়েছিল।পরে তিনি ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান।এই ঘটনার ফলে সমগ্র ইরান জুড়ে শুরু হয় ব্যাপক ধর্মঘট ও বিক্ষোভ শুরু হয়।

সর্বশেষ নিউজ