১৭ জানুয়ারি ২০২৬, শনিবার

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img
spot_img

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দেশকে এগিয়ে নিতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এখানে মেজরিটি বা মাইনরিটি নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি।।

রোববার (১৩ অক্টোবর) বঙ্গভবনে শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর বিশিষ্ট ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে একটি শুভেচ্ছা  বিনিময়  অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠনে অতিথিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের আগে শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, সকল ধর্মের মূল বাণী হচ্ছে মানব কল্যাণ। আমরা সবাই বাংলাদেশি। এখানে সবাই একই সূত্রে গাঁথা।

বাংলাদেশের সকল ধর্মের মানুষ সমান এই সাম্যতার বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে মেজরিটি বা মাইনরিটির কোনো স্থান নেই। সবাই এক এবং অভিন্ন সত্তা। ধর্মীয় মূল্যবোধকে দেশ ও জনকল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আবহমান বাঙালি সংস্কৃতিতে বিদ্যমান অসাম্প্রদায়িক চেতনা, পারস্পরিক ঐক্য, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি একটি সুন্দর আগামী ও আধুনিক বাংলাদেশ গঠনে কার্যকর অবদান রাখবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুরু হওয়া যুদ্ধ সকল দেশের জন্য অর্থনৈতিক ভাবে নতুন একটি চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করেছে।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি মো.সাহাবুদ্দিন বলেন, সমগ্র বিশ্বে যুদ্ধ-বিগ্রহ পরিস্থিতির কারণে মানবতা আজ বিপর্যস্ত। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদ পুরো বিশ্ব অর্থনীতির সাথে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।

দেশের বন্যা পরিস্থিতির পরবর্তী পর্যায়ের জীবন যাপন  সহজ করার জন্য দেশ বাসীর প্রতি আহবান জানান।

তিনি বলেন, দেশের বন্যা কবলিত এলাকার লোকজন মানবেতর জীবনযাপন করছে।পরোপকারের মহান ব্রত নিয়েই দেশের এ সংকটকালে সহায়-সম্বলহীন মানুষের পাশে দাড়ান।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান শেষে রাষ্ট্রপতি দরবার হলে সকল অতিথির সাথে কুশল বিনিময় করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিনী ড. রেবেকা সুলতানা, অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর, বিচারপতি বিশ্বজিৎ দাস, কূটনৈতিক মিশনের সদস্যবৃন্দ।

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন হিন্দু ধর্মীয় গুরু রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী পূর্ণাত্মানন্দ মহারাজ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব ড. কৃষ্ণেন্দু কুমার পাল, উপ-পরিচালক প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী বাসুদেব ধর, সাধারণ সম্পাদক শ্রী সন্তোষ শর্মা এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শ্রী জয়ন্ত কুমার দেব ও সাধারণ সম্পাদক ড. তাপস কুমার পাল উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বঙ্গভবনের সিনিয়র সচিব ড. নাসিমুল গনি, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আদিল চৌধুরী এবং প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন উপস্থিত ছিলেন।

এইদিন এইসময়/ ফারহানা সুমনা

সর্বশেষ নিউজ