বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তর কর্মীদের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা কেন-কারা ঘটালো, সেই বিষয়ে এখনো অন্ধকারে রয়েছে পুলিশ।
গত ৪ এপ্রিল আগুনে পুড়ে ছারখার হয় দেশের অন্যতম পাইকারি পোশাকের এই মার্কেট। ওইদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উত্তেজিত জনতা ফায়ার সার্ভিস সদরদপ্তরে ঢিল ছোড়ে এবং নিয়ন্ত্রণ কক্ষে হামলা চালায়।
ওই হামলার আড়ালে ‘ক্ষোভ’ ছিল নাকি তা ‘পরিকল্পিত’ অগ্নিকাণ্ডের ২২ দিন পরও উদ্ধার হয়নি সে মোটিভ। এমনকি ধারাল অস্ত্র নিয়ে অত সকালে হামলাকারীরা একত্রিত হলেন কিভাবে, পেছনে কেউ কলকাঠি নেড়েছে কি না, হামলার মতো বিশৃঙ্খলতা সৃষ্টি করে আগুন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের গতিকে ধীর বা ব্যহত করার ষড়যন্ত্র ছিল কি না—উত্তর মেলেনি সেসব প্রশ্নেরও।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বংশাল থানায় করা মামলায় এখন পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। গ্রেপ্তারদের মধ্যে আদালতের নির্দেশে পুলিশ তিনজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেও গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য বের করতে পারেনি। জানা যায়নি কে বা কারা উস্কানি দিয়েছে তাদের নাম।
বঙ্গবাজারে অগ্নিনির্বাপণের সময় হামলা ও ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে গত ৭ এপ্রিল মামলাটি করেন ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. শাহিন আলম। অজ্ঞাতনামা ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করে এ মামলা করা হয়।
সেসময় পুলিশ জানিয়েছিল, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে রিমান্ডে নেওয়া তিনজনকে ধরা হয়। তাদের কেউ ব্যবসায়ী নন। এরা উৎসুক জনতা, যারা হামলায় অংশ নিয়েছিল।
তবে বঙ্গবাজারের ব্যবসায়ী বা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়েও গ্রেপ্তাররা কেন হামলা চালালেন, মেলেনি সেই উত্তর। মামলাটির প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালত আগামী ১৭ মে দিন ধার্য করেছেন বলে জানা গেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সমীরন মন্ডল গণমাধ্যমে বলেন, ‘এ মামলায় গ্রেপ্তার ১৭ জন কারাগারে রয়েছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আসামিরা হামলার বিষয়ে মুখ খুলতে চায় না।’
হামলার কারণ এখনও জানা যায়নি জানিয়ে বংশাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুল হাসান কামাল গণমাধ্যমকে জানান, ‘আসামিদের কাছ থেকে হামলার কারণ জানা যায়নি।’
তবে ক্ষোভ থেকে এ হামলা হয়েছে বলে মনে করেন না এ পুলিশ কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরে হামলায় সরকারি সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়। হামলায় আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ ৩৯ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ টাকা।
এ ঘটনায় সিনিয়র কর্মকর্তাসহ আহত হন ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্য। অতর্কিত এ হামলায় ভাঙচুর করা হয় ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন মডেলের ১৪টি গাড়ি, মেইন গেটের সেন্ট্রি পোস্ট, প্রশাসনিক ভবন ও সিনিয়র স্টেশন অফিসারের অফিস।

