দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান শহর রংপুর এবং এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আজ শনিবার (৯ মে ২০২৬) বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে এই কম্পনটি অনুভূত হয়। হঠাৎ এই কম্পনের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও কোনো বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
রংপুরে ভূমিকম্প: উত্তরাঞ্চলে মৃদু কম্পন অনুভূ
আজ বিকেলের এই রংপুরে ভূমিকম্প রংপুর শহর ছাড়াও আশপাশের জেলাগুলোতে অনুভূত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হঠাৎ করে ভবন কেঁপে উঠলে অনেকেই ঘর ছেড়ে খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসেন। রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মুস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ভূমিকম্পটি ছিল মৃদু প্রকৃতির, তবে উঁচু ভবনে অবস্থানকারীরা এটি স্পষ্টভাবে অনুভব করেছেন।
ভূমিকম্পের মাত্রা ও স্থায়ীত্ব
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৫। কম্পনটি মাত্র কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল। যদিও এর তীব্রতা খুব বেশি ছিল না, তবুও বারবার ভূমিকম্পের খবর জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।
উৎপত্তিস্থল ও ঢাকা থেকে দূরত্ব
আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই রংপুরে ভূমিকম্প-এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসাম রাজ্য। ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে এই উৎপত্তিস্থলের দূরত্ব উত্তর দিকে ২৭১ কিলোমিটার। আসাম সংলগ্ন সীমান্ত এলাকাগুলোতেও মৃদু কম্পন অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় জনমনে আতঙ্ক ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য
বিকেল বেলা কর্মব্যস্ত সময়ে হঠাৎ করে এই কম্পন অনুভূত হওয়ায় রংপুরের অফিস-আদালত এবং বাসা-বাড়িতে থাকা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। তবে আবহাওয়া অফিস এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাৎক্ষণিকভাবে কোথাও কোনো ভবন ধস বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পের সময় করণীয় ও সচেতনতা
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ধরণের ছোট কম্পনগুলো বড় ভূমিকম্পের আগাম সতর্কবার্তা হতে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকা জরুরি। ভূমিকম্পের সময় বাড়ির ভেতরে থাকলে শক্ত টেবিল বা খাটের নিচে আশ্রয় নেওয়া উচিত এবং লিফট ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। উত্তরাঞ্চল ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা হওয়ায় নিয়মিত মহড়া এবং নিরাপদ ভবন নির্মাণে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

