২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, বুধবার
--বিজ্ঞাপন-- Bangla Cars

তথ্য সচিবের চাকরি গেল কেন?

spot_img

নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য সচিব মকবুল হোসেনকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন‌ও জারি করেছে সরকার। তার আরও অনেক পরে অবসরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এমন কী হলো, মন্ত্রীর বিশ্বস্ত আমলাকে অবসরে পাঠাতে হলো?

এর জবাব খুঁজতে দুই ধরনের তথ্য মিলেছে। মকবুল হোসেনের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। ১৯৯১ সালে বিসিএস করে প্রশাসন ক্যাডারে আসেন তিনি। ওই সময় বিএনপি ছিল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। এরপর তিনি পদোন্নতি পেয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমান সরকারের গত ১৪ বছরেও তিনি নেক নজরে ছিলেন। যে কারণে তথ্য মন্ত্রনায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে তাকে সচিব করা হয়।

প্রশ্ন হচ্ছে কেন হঠাৎ বিরাগভাজন হলেন? কেউ কেউ বলছেন দুর্নীতির অভিযোগে তাকে চাকরি থেকে অবসরে পাঠানো হলো। এর আগে তিনি তখন ট্টগ্রামে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক এবং রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজের (আরজেএসসি) রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালনকালেও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল- এমনটি এখন বলা হচ্ছে।তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে বদলি হয়ে উন্নয়নমূলক কাজে বেশি সম্পৃক্ত কোনো মন্ত্রণালয়ে সচিবের দায়িত্ব পেতে কয়েক মাস ধরে তিনি ব্যাপক তদবির করছিলেন।

সর্বশেষ একটি বড় আর্থিক কেলেঙ্কারিতে তথ্য সচিবের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় প্রশাসনের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি ও একজন শীর্ষ ক্রীড়া সংগঠকের যোগসাজশ রয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মকবুল হোসেনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর নির্দেশনা দেন তিনি। এরপরই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর বিষয়ে সচিব মকবুল হোসেনের কোনো বক্তব্য জানা যায়নি।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘মো. মকবুল হোসেনকে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৫ অনুযায়ী জনস্বার্থে সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।’

সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৫-এ বলা হয়েছে, ‘কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ ২৫ (পঁচিশ) বৎসর পূর্ণ হইবার পর যে কোনো সময় সরকার জনস্বার্থে প্রয়োজন মনে করিলে কোনোরূপ কারণ না দর্শাইয়া তাহাকে চাকরি হইতে অবসর প্রদান করিতে পারিবে। তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, সেইক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।’

মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কেন সচিবকে অবসরে পাঠানো হলো—জানতে চাইলে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘মকবুল হোসেনকে অবসর দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এটা জেনেছি; কিন্তু কেন অবসর দেওয়া হলো—সে বিষয়ে আমি অবহিত নই।’

কর্মকর্তারা জানান, দশম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা মকবুল হোসেনের আগামী বছরের ২৫ অক্টোবর অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার কথা ছিল; কিন্তু হঠাৎ তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ঘটনায় প্রশাসনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

১৬ অক্টোবর অবসরে পাঠানো এই সচিবের বিভিন্ন কী কেবলই দুর্নীতির অভিযোগ? নাকি আরও কোনো বিষয় ছিল এর নেপথ্যে।

একটি সূত্র জানায়, বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের বিপরীতে একটি অফিসে প্রায়‌ই যাতায়াত করতেন তিনি। সেখানে সরকার বিরোধী দলীয় কারো কারো সঙ্গে তার যোগাযোগ থাকতে পারে বলে ধারণা জন্মে। সেটা মূলত প্রধান কারণ হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। কেননা আমলাদের আর কারো বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নেই এমনটি নয়। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় বাদ দেয়া হয়নি। বরং অনেক দাপটের সঙ্গে আছেন।

সর্বশেষ নিউজ