২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, বুধবার
--বিজ্ঞাপন-- Bangla Cars

‘তারেক জিয়াকে চিনি না, চিনতেও চাই না’

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img

বাধ্যতামূলক অবসরে ক্ষোভ নেই, তবে বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সদ্য বিদায়ী তথ্য সচিব মকবুল হোসেন। গতকাল অবসরে পাঠানোর পর সোমবার সকালে সচিবালয়ে ব্যক্তিগত কাজে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

বাধ্যতামূলক অবসরে ক্ষোভ নেই জানিয়ে কারণ জানার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মকবুল হোসেন। তার দাবি, সরকারবিরোধী কার্যক্রমে তিনি কোনো ভাবেই জড়িত নন।

সোমবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে আসলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সদ্য বিদায়ী তথ্যসচিব মকবুল হোসেন। তিনি জানান, সরকারের এ সিদ্ধান্তের কারন তারও জানা নেই।

বিরোধী পক্ষের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ ছিল কিনা এমন প্রশ্নের জাবাবে তিনি জানান, বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে কখনও স্বচক্ষে দেখেননি তিনি। সরকারের বিরুদ্ধে কোনো কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন সাবেক এই সচিব।

তিনি জানান, তার পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিলেন না জানিয়ে তিনি দাবি করেন, বিএনপির সঙ্গে তার যোগাযোগের অভিযোগ ভিত্তিহীন।

ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার দাবি, কোনো অনিয়মের সঙ্গেও তিনি জড়িত নন। সারা জীবন নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। কর্মক্ষেত্রে মতবিরোধ থাকলেও তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কোনো দূরত্ব ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

চাকরির মেয়াদ এক বছর থাকতেই মকবুল হোসেনকে রোববার তথ্য সচিবের দায়িত্ব থেকে অবসরে পাঠায় সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে সরকারি চাকরি আইন অনুসারে জনস্বার্থে সরকারি চাকরি হতে অবসর দেওয়ার কথা বলা হয়। এ সময় তথ্য সচিব সচিবালয়ে অফিস করছিলেন। যদিও এ নিয়ে কোনো কথা বলেনি মন্ত্রণালয়।

সিদ্ধান্ত গ্রহণে তথ্য সচিবের ধীর গতির কারণে সরকারি অনেক কাজ আটকে যাওয়ার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। দাপ্তরিক কাজের বিষয়ে ভিন্নমত পোষণের কারণে সরকারি কাজে গতি হারানোর প্রেক্ষাপটে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাকে অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে বলে জানা গেছে।

এর বাইরে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং গত কয়েক মাসে ঘন ঘন বিদেশ সফরের বিষয়েও তিনি আলোচিত হয়েছিলেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ধারা ৪৫ অনুযায়ী, জনস্বার্থে তাকে সরকারি চাকরি থেকে অবসরে পাঠানো হয়। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

মকবুল হোসেন গত বছরের ৩১ মে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

দায়িত্ব পালন করেছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবেও। তিনি বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১০ম ব্যাচের কর্মকর্তা হিসেবে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন।

সর্বশেষ নিউজ