তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ প্রাণ, একটু স্বস্তির পরশ পেতে মাতোয়ারা মানুষ। এমন অবস্থায় বাঙ্গি প্রাণে এনে দেয় শান্তি, দূর করে ক্লান্তি। বাঙ্গি অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর একটি ফল। সেই হিসেবে দেশের সবখানেই এ ফলটির চাহিদা রয়েছে। গ্রীষ্মের অন্যতম ফল বাঙ্গি চাষে প্রসিদ্ধ হয়ে উঠছে নরসিংদীর চরাঞ্চল। চরাঞ্চলের বাঙ্গি আকারে বড়, দেখতে সুন্দর ও স্বাদে অনন্য হওয়ায় রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের অঞ্চলে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। অল্প শ্রম ও খরচে অধিক লাভবান হওয়ায় প্রতি বছরই নরসিংদীর চরাঞ্চলে বাড়ছে বাঙ্গির আবাদ। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে কর্মসংস্থানেরও। তবে অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির কারণে লোকসানের আশঙ্কায় কৃষকরা।
যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। আর এরই মাঝে চোখে পড়বে ছোট ছোট হলুদ রঙের ফলগুলো। সবুজ- হলুদের সংমিশ্রণে তৈরি হয়েছে নয়নাভিরাম এক দৃশ্য। জেলার রায়পুরা উপজেলার বাঁশগাড়ি ও পারাতলির মধ্যনগরের বিস্তীর্ণ চরের বাঙ্গি খেতগুলোতে মিলবে এমন দৃশ্য। অল্প খরচে অধিক লাভবান হওয়ার এ এলাকার কৃষক ঝুঁকছেন বাঙ্গি চাষে। প্রতি কানি বাঙ্গি চাষে ১ থেকে দেড় লাখ টাকা খরচ হয়। তবে ফলন ভালো হলে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার ওপরে বিক্রি করা যায়।
উপজেলায় এ বছর ৪৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে বাঙ্গির। ফলনও হয়েছে ভালো। তবে পাইকার না আসা, অতিবৃষ্টি ও শিলা বৃষ্টির কারণে মাঠেই নষ্ট হচ্ছে বাঙ্গি। ফলে লোকসান হওয়ার চিন্তায় কৃষকেরা।
এক কৃষক বলেন, বৃষ্টি আর শিলের কারণে বাঙ্গি মার গেছে, এখন মিষ্টি কুমড়া লাগিয়েছি। আরেক কৃষক বলেন, এবার বাঙ্গির ভালো ফলন হয়েছে। তবে, শেষের দিকে বৃষ্টি আর শিল হয়েছে, এতে মেলা ক্ষতি হয়েছে। আমার মেলা টেকা ক্ষতি হয়েছে।
দেশের বেশির ভাগ চরাঞ্চলেই বাঙ্গি উৎপন্ন হয়। পলি, পলি দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ- এসব মাটি বাঙ্গি চাষের জন্য খুবই উপযোগী। বাঙ্গি বেশ বড় হয়। কাঁচা অবস্থায় সবুজ থাকে, পাকলে হলুদ রঙের হয়। একটু বেশি পেকে গেলে বাঙ্গি সহজে ফেটে যায়। ফলের বাইরের দিকটা মিষ্টি কুমড়ার মতো হালকা ডোরাকাটা খাঁজযুক্ত। এর ভেতরটা ফাঁপা থাকে। খেতে তেমন মিষ্টি নয়। তবে চিনি বা গুড় দিয়ে খেতে দারুণ।
এবার এ জেলায় ১৫০০ মেট্রিকটন বাঙ্গি উৎপাদন হয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা। বাঙ্গি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হওয়ায় দিনদিন এর চাহিদা বাড়ছে।
নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আজিজুর রহমান বলেন, এ বছর বাঙ্গির ভালো ফলন হয়েছে। তবে শেষের দিকে বৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু ক্ষতির কথা আমরা জানতে পারিনি। আমরা কৃষকদের কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে থাকি। তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি।
এ বছর জেলার ছয়টি উপজেলায় ৭৩ হেক্টর জমিতে বাঙ্গির আবাদ হয়েছে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০০ মেট্রিকটন।

