Home Blog

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের তারিখ বিএনপি লন্ডন থেকে ষড়যন্ত্র করে এনেছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

0
পঞ্চগড়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিয়া গোলাম পরওয়ার
পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি হলরুমে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত মতবিনিময় সভা।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন যে, বিগত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের তারিখ বিএনপি লন্ডন থেকে ষড়যন্ত্র (কন্সপারেন্সি) করে ঠিক করে এনেছে। আজ শনিবার (৯ মে ২০২৬) সন্ধ্যায় পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি হলরুমে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ নিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য

মতবিনিময় সভায় জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “জুলাই সনদ আর গণভোটকে আলাদা করা হয়েছে। জুলাই সনদে কিছু ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়া আছে। সেগুলো যদি মানা হয়, তবে সংবিধান সংস্কারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ পড়ে যাবে।” তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান ব্যবস্থায় এক ব্যক্তি একই সাথে প্রধানমন্ত্রী ও দলের প্রধান থাকতে পারবেন না। এছাড়াও উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) ব্যবস্থা চালু করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সাংবিধানিক পদ ও দুর্নীতি দমন নিয়ে ক্ষোভ

রাষ্ট্রের সাংবিধানিক পদগুলোতে নিয়োগ নিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “চিফ জাস্টিস, পিএসসি, দুর্নীতি দমন কমিশন, গভর্নর—এই পদগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী যা ইচ্ছে তা-ই করতে পারেন। ঐক্যমত্য কমিশন যদি বলে সব আগের মতোই থাকবে, তবে তো পরিবর্তন আসবে না। এই দুর্নীতি ঠেকানোর জন্যই আমাদের ছেলেরা জীবন দিয়েছে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান যদি প্রধানমন্ত্রী নিজেই নিয়োগ দেন, তবে দুর্নীতি ঠেকানো কীভাবে সম্ভব?

পঞ্চগড় জেলা জামায়াতের মতবিনিময় সভা

জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইকবাল হোসাইনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, জেলা নায়েবে আমির মফিজ উদ্দীন এবং সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন। পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা এই মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

গাজীপুরে ৫ খুন: মরদেহের পাশে থাকা জিডির কপি থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য

0
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ৫ খুনের ঘটনাস্থলে পুলিশ ও স্থানীয়দের ভিড়
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ শ্যালককে হত্যার পর পলাতক গৃহকর্তা ফোরকান।

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার (৯ মে ২০২৬) সকালে উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামের একটি বাসা থেকে এই রক্তাক্ত মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, স্ত্রী, শ্যালক এবং তিন শিশু সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর পালিয়ে গেছেন গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া।

মরদেহের পাশে রহস্যময় জিডির কপি ও ১০ লাখ টাকার অভিযোগ

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি স্বাক্ষরহীন কম্পিউটার টাইপকৃত সাধারণ ডায়েরির (জিডি) কপি উদ্ধার করেছে। সেই কপিতে ফোরকান মিয়া অভিযোগ করেন যে, তাঁর স্ত্রী শারমিন, শ্বশুর ও শ্যালকসহ ১১ জন মিলে তাঁর ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, তাঁর টাকা দিয়ে শ্বশুর জমি কিনলেও তা ফেরত দেওয়া নিয়ে বিরোধ চলছিল। এমনকি গত ৩ মে তাঁকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।

নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা ও নিহতদের পরিচয়

নিহতরা হলেন—ফোরকানের স্ত্রী শারমিন খানম (৩০), তিন কন্যা সন্তান মীম (১৫), হাবিবা (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মিয়া (২২)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শারমিনের হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলছিল। তিন সন্তানের মরদেহ মেঝেতে এবং শ্যালকের মরদেহ বিছানার ওপর পড়ে ছিল।

মদ ও ইয়াবা উদ্ধার: ফোরকানের ফোন ও পুলিশের বক্তব্য

ঘটনার পর ফোরকান তাঁর এক চাচাতো ভাইকে ফোন করে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানান। পুলিশ বাসা থেকে মদের বোতল এবং ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। কাপাসিয়া থানার ওসি শাহীনুর আলম জানান, পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। অভিযুক্ত ফোরকান মিয়াকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান শুরু করেছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

বিপিএলে ফিক্সিং কেলেঙ্কারি: ক্রিকেটারসহ ৫ জনকে নিষিদ্ধ করল বিসিবি

0
বিপিএলে ফিক্সিং নিয়ে বিসিবির সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল
বিপিএলে দুর্নীতির দায়ে বড় শাস্তির ঘোষণা দিল বিসিবি।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ২০২৫ আসরে ম্যাচ ফিক্সিং ও দুর্নীতির অভিযোগে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দীর্ঘ তদন্ত শেষে বিপিএলে ফিক্সিং কেলেঙ্কারি-তে সরাসরি জড়িত থাকার দায়ে পাঁচজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) মিরপুরে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির অ্যাড-হক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল এই শাস্তির কথা জানান।

তদন্তে প্রমাণিত বিপিএলে ফিক্সিং কেলেঙ্কারি

তামিম ইকবাল জানান, গত আসরে একাধিক ম্যাচ নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। বিসিবির ইনটিগ্রিটি ইউনিট এই প্রতিবেদন যাচাই করে অন্তত পাঁচজনের বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ পেয়েছে। তিনি বলেন, “তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। পাঁচজন ক্রিকেটার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বড় ধরনের শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছেন।” বিসিবি জানিয়েছে, শিগগিরই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দণ্ডিতদের নাম ও শাস্তির মেয়াদ বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।

অমিত মজুমদারসহ অভিযুক্তদের তালিকা

প্রাথমিক সূত্রে জানা গেছে, নিষিদ্ধ হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন ক্রিকেটার অমিত মজুমদার, যিনি গত আসরে রংপুর রাইডার্সের হয়ে খেলেছিলেন। ফিক্সিংয়ের জাল কতদূর বিস্তৃত ছিল তা খতিয়ে দেখছেন বিসিবির ইনটিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল। বিপিএলে ফিক্সিং কেলেঙ্কারি রোধে বিসিবি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানান তামিম ইকবাল। এর আগে সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদের নির্দেশে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

বিসিবির এই কঠোর অবস্থানে দেশের ক্রিকেট মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করছেন, এই শাস্তির মাধ্যমে দেশের ক্রিকেটে স্বচ্ছতা ফিরে আসবে।

প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন হাসিনা সরকার: বাউল শিল্পীদের নিয়ে বিতর্কের অবসান?

0
হাসিনা সরকারের প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা
হাসিনা সরকার

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাউল শিল্পীদের নিয়ে করা বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন বাউল শিল্পী হাসিনা সরকার বাউল। নারী বাউল শিল্পীদের সম্মানহানি এবং পেশাগত নীতি নিয়ে করা মন্তব্যের কারণে বাউল সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি তাঁর বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

কেন বিতর্কে জড়িয়েছিলেন হাসিনা সরকার বাউল?

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে হাসিনা সরকার দাবি করেছিলেন যে, নারী বাউল শিল্পীরা প্রায়ই কুপ্রস্তাব পান এবং অনৈতিক সম্পর্কে না জড়ালে মঞ্চে অনুষ্ঠান পাওয়ার সুযোগ কমে যায়। তাঁর এই ঢালাও মন্তব্যটি ভাইরাল হওয়ার পর দেশের বাউল অঙ্গনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেকেই তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও সাংস্কৃতিক বয়কটের ডাক দেন। এই চাপের মুখেই আজ তিনি ভিডিও বার্তায় বলেন, “সব বাউল শিল্পীর কাছে আমি ক্ষমা চাচ্ছি। সবাই যেন আমাকে আগের মতো আগলে রাখেন, সেই প্রত্যাশা করছি।”

নাম বিড়ম্বনা ও গান থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ

ভিডিও বার্তায় হাসিনা সরকার আরও কিছু অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, তাঁর নাম ‘হাসিনা সরকার’ হওয়ায় অনেক জায়গায় তাকে গান গাইতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি মিরপুরে তাঁর একটি অফিসও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। শিল্পী বলেন, “রাগের মাথায় বলেছিলাম, যার সঙ্গে যার লিংক থাকে তাদের অনুষ্ঠান দেওয়া হয়। আমার সঙ্গে কারও সম্পর্ক না থাকায় আমাকে ডাকা হয় না—এটা বলা আমার ভুল হয়েছে। ক্ষোভ ও হতাশা থেকেই আমি কথাগুলো বলেছিলাম।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কিছু অদক্ষ শিল্পী অনুষ্ঠান পেলেও প্রকৃত বাউল শিল্পীরা অবহেলিত হন। তবে তাঁর কথায় যদি কেউ ব্যক্তিগতভাবে আঘাত পেয়ে থাকেন, তবে তিনি সবার কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।

দেশে হামে মৃত্যু আরও ১২ জনের: ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত দেড় হাজার

0
বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও হাসপাতালে রোগী ভর্তি
গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম ও উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

সারাদেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামে মৃত্যু হয়েছে আরও ১২ জনের। এই সময়ের মধ্যে নতুন করে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৫২৪ জন। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিন ও প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।

বিভাগভিত্তিক হামে মৃত্যুর পরিসংখ্যান

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ২ জন এবং বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে একজন করে মোট ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। ক্রমবর্ধমান এই দেশে হামে মৃত্যু ঠেকাতে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তির সবশেষ চিত্র

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৮৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ১ হাজার ২৩৮ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৪৫ হাজার ৪৯৮ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৬ হাজার ২০৮ জনের শরীরে রোগটি নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে ৩১ হাজার ৯১২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৮ হাজার ২৩৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের নিয়মিত টিকা দান নিশ্চিত না করার ফলে এবং ঋতু পরিবর্তনের কারণে এই বছর হামের প্রকোপ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ করলেন আদালত

0
মাইলস্টোন স্কুল ট্র্যাজেডি ও ড. ইউনূসের মামলা সংবাদ
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সংঘটিত বিমান দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিহত হওয়ার ঘটনায় সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে করা একটি মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এই আদেশ প্রদান করেন।

আদালতে মামলার আবেদন ও অভিযোগের বিবরণ

আজ সকালে মাইলস্টোন স্কুলে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী উক্য ছাইং মার্মার বাবা উসাইমং মারমা আদালতে এই মামলার আবেদন করেন। আবেদনে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও ড. আসিফ নজরুল, এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানসহ ১৬ জনকে বিবাদী করা হয়েছিল। আসামিদের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত মৃত্যু ও প্রতারণার অভিযোগ আনেন নিহতের বাবা। তবে আইনি পর্যালোচনার পর আদালত এই ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ করার সিদ্ধান্ত নেন।

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ জুলাই দুপুরে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনায় ৩৬ জন নিহত এবং ১২৪ জন আহত হন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিমানের পাইলটের উড্ডয়ন-ত্রুটির কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছিল। এই ঘটনায় ড. ইউনূস ছাড়াও সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, ডা. রিজওয়ানা হাসান এবং মাইলস্টোন কলেজের কর্মকর্তাদেরও বিবাদী করার আবেদন জানানো হয়েছিল।

বিয়ে করছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, পাত্রী চিকিৎসক আনিকা ফরায়েজি

0
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম এবং আনিকা ফরায়েজির বিয়ে
১৩ মে বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাদিক কায়েম বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, আগামী ১৩ মে তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।

কে এই আনিকা ফরায়েজি?

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম-এর হবু স্ত্রীর নাম আনিকা ফরায়েজি। তিনি পেশায় একজন এমবিবিএস চিকিৎসক। আনিকার পৈত্রিক নিবাস কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায়। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আনিকার বাবা রিলায়েন্স গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এবং প্রবাসীবাংলা প্রোপার্টিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সাথেও যুক্ত রয়েছেন।

বিয়ের অনুষ্ঠান ও ভাইরাল ইনভিটেশন কার্ড

জানা গেছে, বিয়ের আকদ অনুষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে রাজধানীর একটি কনভেনশন সেন্টারে ধুমধাম করে মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এদিকে, ডাকসু নেতা মাজহারুল ইসলামের শেয়ার করা একটি বিয়ের কার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই সাদিক কায়েম-এর বিয়ে নিয়ে নেটিজেনদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতারা সোশ্যাল মিডিয়ায় নবদম্পতির জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন।

সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা হচ্ছে: পুলিশে শৃঙ্খলা ফেরায় বড় ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

0
মাঠপর্যায় থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের ঘোষণা দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

পুলিশ বাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরে আসায় ধাপে ধাপে মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানান।

মাঠ থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার নিয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর পুলিশ বাহিনীকে পুনরায় সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য সেনাবাহিনীকে মাঠে রাখা হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, “জনমনে বিশ্বাস তৈরি হয়েছে যে পুলিশ এখন দায়িত্ব পালনে সক্ষম। সে অবস্থায় আমরা পর্যায়ক্রমে মাঠ থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার-এর উদ্যোগ নিচ্ছি।” তবে এই প্রক্রিয়াটি সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা বসে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও চলমান যৌথ অভিযান

চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, দাগী আসামি, মাদক কারবারি ও অস্ত্রধারীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোথাও কোথাও যৌথ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, আবার কোথাও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এককভাবে কাজ করছে। এসব অভিযানের ফলে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। তিনি কঠোরভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় এবং সঠিক তালিকা প্রণয়ন করেই অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

দেশে জ্বালানি তেলের চালান: সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে খালাস শুরু

0
চট্টগ্রাম বন্দরে অপরিশোধিত তেল খালাসের দৃশ্য।
চট্টগ্রামে ১ লাখ টন জ্বালানি তেলের চালান খালাস।

দেশে জ্বালানি তেলের চালান নিয়ে বড় সুখবর। দেশের জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। আজ বৃহস্পতিবার (০৭ মে ২০২৬) সকাল থেকে এই তেল ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) জেটিতে খালাস প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

দেশে জ্বালানি তেলের চালান ও বর্তমান মজুদ পরিস্থিতি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় গত দুই মাস দেশে কোনো ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ আসতে পারেনি। ফলে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এই সংকট কাটাতে বিকল্প পথে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এক লাখ টন তেল নিয়ে গত ২১ এপ্রিল রওনা দেয় চীনা জাহাজ নিনেমিয়া। দীর্ঘ ১৫ দিনের যাত্রা শেষে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের কুতুবদিয়া অ্যাঙ্করেজে নোঙর করে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি ও বিএসসির প্রস্তুতি

জাহাজটি থেকে দ্রুত তেল খালাসের জন্য ছয়টি লাইটার জাহাজ আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) তত্ত্বাবধানে এই খালাস প্রক্রিয়া চলছে। প্রতিটি লাইটার জাহাজ একেক ট্রিপে প্রায় ৪ হাজার টন পর্যন্ত তেল পরিবহন করতে পারবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিদিন অন্তত ২৪ হাজার টন তেল খালাস করা সম্ভব হবে।

মূল্যস্ফীতি আবারও ৯ শতাংশের ওপরে, চাপ বাড়ছে নিত্যপণ্যের বাজারে

0

দেশে মূল্যস্ফীতি আবারও ৯ শতাংশের ঘর ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতেই দাম বৃদ্ধির কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে ক্রেতাদের ওপর এই নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের আশপাশে থাকলেও ফেব্রুয়ারিতে তা ৯ শতাংশ ছাড়ায়। মার্চে কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে নামলেও, এপ্রিলে আবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়।

খাদ্য ও অন্যান্য খাতে মূল্যস্ফীতির চিত্র:

খাদ্য খাত: এপ্রিলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশে।

খাদ্যবহির্ভূত খাত: এই খাতে মূল্যস্ফীতি আরও বেশি, ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

গ্রাম ও শহর: গ্রামে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং শহরে ৯ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ।

মজুরি বৃদ্ধি: এই সময়ে শ্রমিকদের মজুরি কিছুটা বেড়ে ৮ দশমিক ১৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা মূল্যস্ফীতির তুলনায় কম।

দাম বাড়ার কারণ: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে দেশের আমদানি ব্যয় বেড়েছে। এর মধ্যেই এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত সমন্বয় করা হয়েছে। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে নিত্যপণ্যের বাজারে সরাসরি প্রভাব পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির দামের এই অস্থিরতা খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি করছে, ফলে বাজারে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক প্রান্তিকে গড় মূল্যস্ফীতি প্রায় ৮ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। শাকসবজি, মসলা ও প্রোটিনজাতীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধিকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নীতিগত পদক্ষেপ ও বিশেষজ্ঞদের মত: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম রায়হান মনে করেন, “শুধু মুদ্রানীতি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, মজুতদারি নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষি ও পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো না গেলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে।”

ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস ও শঙ্কা: বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস অনুযায়ী, জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল না হলে আগামী বছরও মূল্যস্ফীতি ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করেছে যে বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতা বাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম আগামীতে আরও বাড়লে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের টিকে থাকার সংগ্রাম আরও তীব্র হবে।

দর্শকরা আমাকে আর ভালোবাসে না- ডলি জহুর

0
একুশে পদকপ্রাপ্ত গুণী অভিনেত্রী ডলি জহুর।
দর্শকদের নেতিবাচক আচরণে ব্যথিত আজীবন সম্মাননাপ্রাপ্ত অভিনেত্রী ডলি জহুর।

পাঁচ দশকের বর্ণিল ক্যারিয়ারে নিপুণ অভিনয় দিয়ে কোটি মানুষের হৃদয় জয় করেছেন তিনি। অথচ জীবনের এই সায়াহ্নে এসে সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক আচরণে গভীরভাবে ব্যথিত বাংলাদেশের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ডলি জহুর। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রবীণ শিল্পীদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বর্তমান সংস্কৃতি নিয়ে নিজের জমানো আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন এই গুণী শিল্পী।

একুশে পদকপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী বলেন, “আমাদের দেশে বয়স্ক আর্টিস্টদের কেউ পছন্দ করে না। তারা বুঝতে পারে না যে, একটা নেতিবাচক মন্তব্য মানুষের ভিত কতটা নাড়িয়ে দিতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি কেউ আমাকে নেতিবাচক কথা বলবে। এখন মনে হয়, আমার মারা যাওয়ার পর কেউ দোয়া করবে কি না।”

উল্লেখ্য, দেড় শতাধিক সিনেমা ও অসংখ্য নাটকে অভিনয় করা এই কিংবদন্তিকে দীর্ঘ এক যুগের বিরতি শেষে আবারও রুপালি পর্দায় দেখা গেছে রেদোয়ান রনি পরিচালিত ‘দম’ সিনেমায়।

১১ বছরের শিশু অন্তঃসত্ত্বা: অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেপ্তারে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

0
১১ বছরের শিশু অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামী
ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারের পর র‍্যাবের ব্রিফিং।

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা আবুল খায়েরকে (প্রকৃত নাম আপনার প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ব্যবহার করুন) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

১১ বছরের শিশু অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় র‍্যাবের অভিযান ও সাফল্য

গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা থেকে র‍্যাব-১৪-এর একটি দল তাঁকে গ্রেপ্তার করে। র‍্যাব-১৪-এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামসুজ্জামান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আজ বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহে র‍্যাব কার্যালয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রেস ব্রিফিং করা হবে।

ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন অভিযুক্ত শিক্ষক

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি নানার বাড়িতে থেকে অভিযুক্তের প্রতিষ্ঠিত মহিলা কওমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। শিশুটির মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে মা সিলেট থেকে এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। গত ১৮ এপ্রিল ক্লিনিকে পরীক্ষার পর জানা যায় শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা।

মামলা হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক ছিলেন। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি বারবার স্থান পরিবর্তন করছিলেন। তবে র‍্যাবের গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে তাঁকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়।

অভিযুক্তের দাবি ও বর্তমান পরিস্থিতি:

গ্রেপ্তারের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে ওই শিক্ষক নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করলেও তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে এই ঘটনা। শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনায় দ্রুততম সময়ে ডিএনএ টেস্ট ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের আগে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অডিট রিপোর্ট

0
প্রধানমন্ত্রীর কাছে সিএজির অডিট রিপোর্ট পেশের ছবি

মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মো. নূরুল ইসলাম ২০২১-২২ অর্থবছরের অডিট রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করেছেন।

মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ রিপোর্ট পেশ করা হয়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান,সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার ওপর প্রস্তুত করা মোট ৩৮টি অডিট রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব রিপোর্টে কমপ্লায়েন্স ও পারফরম্যান্স অডিটের আওতায় পাওয়া পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১২৮(১) অনুচ্ছেদ এবং কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (অ্যাডিশনাল ফাংশনস) অ্যাক্ট, ১৯৭৪–এর ধারা ৫ অনুযায়ী এসব অডিট রিপোর্ট প্রণয়ন করা হয়েছে।

এর আওতায় ১৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর, দপ্তর, প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের ওপর পরিচালিত ৩৮টি কমপ্লায়েন্স ও পারফরম্যান্স অডিট রিপোর্ট জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের আগে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী জনগণের সেবায় সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কমপ্লায়েন্স অডিটের পাশাপাশি পারফরম্যান্স অডিট পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সরকারি প্রকল্পগুলোর নির্ধারিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য যথাযথভাবে অর্জিত হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশনা দেন।

রিপোর্ট পেশের সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রদলের ৪৫ কমিটি ঘোষণা: পদায়নে ছাত্রলীগ নেতা ও বিবাহিতদের আধিপত্যের অভিযোগ।

0
ছাত্রদলের কমিটি বাতিলের দাবিতে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ।
ছাত্রদলের নতুন কমিটি বাতিলের দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভ ও টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ।

সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গত শনিবার মধ্যরাতে একযোগে ৪৫টি ইউনিটের কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ। তবে এই কমিটি ঘোষণার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলায় চরম অসন্তোষ, বিক্ষোভ এবং সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, নতুন কমিটিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা, অছাত্র, ব্যবসায়ী এবং বিবাহিতদের স্থান দেওয়া হয়েছে।

রাঙামাটিতে সংঘর্ষ ও ১৪৪ ধারা:
রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নবনির্বাচিত ও পদবঞ্চিত পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ করে এবং শহরের পৌরসভা, বনরূপাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।

নোয়াখালীতে নাছিরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা:
নোয়াখালী জেলা ও পৌর কমিটিতে ১৮ জন বিবাহিতকে পদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এর প্রতিবাদে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন তারা। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনকে জেলায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন।

ময়মনসিংহ মেডিকেলে ছাত্রলীগ নেতাদের জয়জয়কার:
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ কমিটি নিয়ে। সেখানে ২২ সদস্যের কমিটিতে ৮ জনই নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক পদধারী নেতা বলে দাবি করেছেন ত্যাগী কর্মীরা। এছাড়া ঢাকা, কক্সবাজার এবং বরিশালেও সড়ক অবরোধ ও ঝাড়ু মিছিলের মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পদবঞ্চিতরা।

অভিযোগের তির কেন্দ্রের দিকে:
নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভকারী কর্মীদের অভিযোগ, ত্যাগী ও নির্যাতিতদের বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে পদ বিক্রি করা হয়েছে। এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বইছে সমালোচনার ঝড়।

ঢামেক হাসপাতালে যৌথ অভিযান: অর্ধশত দালাল আটক

0

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য রুখতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)। সোমবার (৪ মে) সকালে পরিচালিত এই যৌথ অভিযানে হাসপাতাল থেকে প্রায় অর্ধশত দালালকে আটক করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে ঢামেক হাসপাতালের ২ নম্বর ভবনে আকস্মিক এই অভিযান চালানো হয়। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের রাজধানীর শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় থানায় আটকদের ছাড়িয়ে নিতে অনেককে ভিড় করতে দেখা যায়।

পরবর্তীতে সেখানে মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে আটককৃত দালালদের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি প্রদান করা হয়। তবে, কার কী ধরনের সাজা হয়েছে বা জরিমানার পরিমাণ কত, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাৎক্ষণিক কিছু জানানো হয়নি।

শাহবাগে মেস বাসায় মিলল কুষ্টিয়া মেডিকেলের সাবেক শিক্ষার্থীর লাশ

0
মৃত চিকিৎসক এ বি এম আবিদ হাসান জিসান (ছবি: সংগৃহীত)

রাজধানীর শাহবাগ এলাকার একটি মেস বাসা থেকে এ বি এম আবিদ হাসান জিসান (২৬) নামে এক তরুণ চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) দুপুরে শাহবাগের হাবিবুল্লাহ রোডের একটি বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শাহবাগ থানা সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

নিহত আবিদ ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। ইন্টার্নশিপ শেষ করে তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। তিনি কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে ওই মেসে থাকতেন।

তার রুমমেট দীপ্ত সিংহ জানান, দুপুরে বাসায় ফিরে তিনি আবিদকে অস্বাভাবিক অবস্থায় বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন। কোনো সাড়া না পেয়ে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে দুপুর আড়াইটায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো কিছু নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রুমমেটরা জানান, সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার সময়ও তাকে পরিবারের সাথে কথা বলতে দেখা গেছে। আবিদের গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় এবং তার বাবার নাম আহসান হাবিব।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, মরদেহটি বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট থানাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

পছন্দের পোস্টিং নয়, পেশাদারিত্বই আসল: প্রধানমন্ত্রী

0
ডিসি সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী
রোববার জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২৬-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রশাসনে কর্মকর্তাদের পছন্দের জায়গায় পোস্টিং পাওয়ার মানসিকতা ত্যাগ করে দেশের যেকোনো প্রান্তে সেবার ব্রত নিয়ে কাজ করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী ‘জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই নির্দেশ প্রদান করেন।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই প্রথম জেলা প্রশাসক সম্মেলন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের নিজ দফতর থেকে হেঁটে ওসমানী মিলনায়তনে যান এবং রাস্তার দুই পাশে থাকা নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

পেশাদারিত্ব রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্বের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে একটি জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ার আহ্বান জানান। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন:

  • পদ চিরস্থায়ী নয়: প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেন যে, একটি সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, প্রশাসনের কোনো পদও কারো জন্য চিরস্থায়ী নয়।

  • পছন্দের পোস্টিং ও দুর্নীতি: তিনি বলেন, শুধুমাত্র পছন্দের জায়গায় পোস্টিং পাওয়ার জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করলে কর্মকর্তারা সাময়িকভাবে লাভবান হলেও, এটি দীর্ঘমেয়াদে প্রশাসনকে দুর্নীতিপ্রবণ ও অপেশাদার করে তোলে।

  • সব পদই গুরুত্বপূর্ণ: জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদই রাষ্ট্র ও সরকারের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো স্থানে এবং যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য কর্মকর্তাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, কর্মকর্তারা যেকোনো স্থানে কাজ করতে প্রস্তুত থাকলে তা পেশাদারিত্ব গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট

প্রধানমন্ত্রী জানান, এটি একটি নিয়মিত বাৎসরিক সম্মেলন হলেও বর্তমান সরকারের মেয়াদে প্রথম হওয়ায় এর গুরুত্ব অনেক। তাঁর মতে, সরকারের গৃহীত নীতিমালা এবং জনপ্রশাসন সম্পর্কে সরকারের কিছু পদক্ষেপ ও নির্দেশনা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সামনে তুলে ধরাই এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য। আগামী ৬ মে পর্যন্ত এই সম্মেলন চলবে।

সম্মেলনের পরিসংখ্যান ও প্রস্তাবনা

গত শনিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হুমায়ুন কবিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের সম্মেলনটি অত্যন্ত সুবিন্যস্তভাবে সাজানো হয়েছে:

  • সময়কাল: ৩ মে থেকে শুরু হয়ে ৬ মে পর্যন্ত চার দিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

  • অধিবেশন: সম্মেলনে মোট ৩৪টি অধিবেশন থাকছে, যার মধ্যে ৩০টিই হলো কার্য অধিবেশন।

  • অংশগ্রহণকারী: সম্মেলনে ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সরাসরি অংশগ্রহণ করছে।

  • মাঠ পর্যায়ের প্রস্তাব: মাঠ প্রশাসন থেকে এবার মোট ১,৭২৯টি প্রস্তাব পাওয়া গেলেও সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণ শেষে কার্যপত্রে ৪৯৮টি প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

  • শীর্ষ অগ্রাধিকার: এবারের সম্মেলনে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সম্পর্কিত প্রস্তাব সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে, যা সরকারের জনস্বাস্থ্য খাতের গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে।

আলোচ্য বিষয় ও দিকনির্দেশনা

সম্মেলনে ৫৬টি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাগণ জেলা প্রশাসকদের নিজ নিজ দপ্তরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবেন। চার দিনব্যাপী এই আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তুগুলো হলো: ১. ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা। ২. সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা। ৩. নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অবকাঠামো উন্নয়ন। ৪. ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়ন, শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ।

উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। মূলত মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে সরকার পরিচালনার মূল দর্শন ও দিকনির্দেশনা পৌঁছে দিতেই এই বিশাল কর্মযজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছে।

গাজীপুরে হোটেলে গৃহবধূ হত্যা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান আসামি গ্রেপ্তার, আদালতে স্বীকারোক্তি

0
গাজীপুরে হোটেলে গৃহবধূ হত্যা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান আসামি গ্রেপ্তার, আদালতে স্বীকারোক্তি

গাজীপুর মহানগরের বাসন থানাধীন চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে গৃহবধূ শান্তা বেগম (৩৩) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি মো. সাইফুল ইসলামকে (৩৯) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআই গাজীপুর জেলা সূত্রে জানা গেছে, ২৩ জুলাই ভোর সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকার দক্ষিণখান থানার ফায়দাবাদ ট্রান্সমিটার মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে নিহত শান্তা বেগমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।
গাজীপুরে আবাসিক হোটেলে গৃহবধূ শান্তা বেগম হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম

তদন্তে জানা যায়, গত ২১ জুলাই দুপুর ১টা ৪৮ মিনিটে শান্তা বেগম ও সাইফুল ইসলাম নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে চান্দনা চৌরাস্তার ‘আনোয়ারা ম্যানশন’ ভবনের ই-ভ্যালি আবাসিক হোটেলের ৩০৭ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। ওই রাতেই হোটেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খবর পেয়ে বাসন থানা পুলিশ কক্ষ থেকে শান্তা বেগমের গলায় ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতপ্রাপ্ত লাশ উদ্ধার করে।

নিহত শান্তা বেগম নাটোর সদর উপজেলার চরলক্ষীকোল গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে। তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুর আহমেদনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। তিনি দুই সন্তানের জননী।

ঘটনার পর নিহতের বাবা শহিদুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বাসন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই গাজীপুর। পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারী তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পান।

পিবিআই জানায়, অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের দিকনির্দেশনা এবং পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তারের তত্ত্বাবধানে তদন্ত দল তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থলের আলামত ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আসামি জানান, শান্তার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি, পারস্পরিক সন্দেহ এবং দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ঘটনার দিন আবাসিক হোটেলে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনার বশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে শান্তার মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে তিনি নিহতের মোবাইল ফোনটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, “অজ্ঞাতনামা নারী হত্যার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং সমান্তরাল তদন্ত শুরু করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান আছে।

অবশেষে প্রশ্নপত্র ফাঁসের শাস্তি নিশ্চিতের ঘোষণা মোদির

0
অবশেষে প্রশ্নপত্র ফাঁসের শাস্তি নিশ্চিতের ঘোষণা মোদির

অবশেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দুর্নীতির ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ বা দ্রুত বিচার আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ছাত্রসমাজ এবং পার্লামেন্টে বিরোধীদের উত্তাল বিক্ষোভ ও তীব্র হট্টগোলের পর তিনি এ ঘোষণা দিলেন।

বৃহস্পতিবার সকালে নিজের অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে মোদি লেখেন, দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ ও কল্যাণ সাধনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই হতে পারে না। তিনি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধে জড়িতদের দ্রুত সাজা দিতে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ নিতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া একাধিক ধারাবাহিক পদক্ষেপেরই অংশ এটি। যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা যারা করবে, তাদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না বলে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে মঙ্গলবার এনডিএ বৈঠকে প্রশ্নপত্র ফাঁসকে এক ‘ঘোর পাপ’ বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন তিনি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা এমন একসময়ে এলো যখন রাজধানীর রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে। বিরোধীদের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াভিত্তিক গোষ্ঠী ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। এমনকি বিরোধীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তারা সংসদে কোনো আলোচনায় অংশ নেবে না। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনায় প্রস্তুত, কিন্তু বিরোধীরা শর্ত চাপিয়ে আলোচনা থমকে রেখেছে।

উল্লেখ্য, বুধবার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছিলেন যে গত ১০ বছরে অন্তত ১৫০টিরও বেশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু একটিতেও কারও সাজা হয়নি। সেই পটভূমিতে দাঁড়িয়ে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের এই ঘোষণা বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে দোষীদের সাজা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

সব প্রস্তুতি সম্পন্ন, শিগগিরই জুলাই জাদুঘর খুলে দেয়া হবে: সংস্কৃতিমন্ত্রী

0
ছবি: সংগৃহীত

ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে, নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে দ্রুত সময়ের মধ্যে জুলাই জাদুঘর খুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে কুমিল্লা জাদুঘর ও শালবন বিহার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সবকিছু নিয়মতান্ত্রিকভাবে হবে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জুলাই জাদুঘরের কমিটি কিছুটা এলোমেলো ছিল। বর্তমানে নতুন করে কমিটি করা হয়েছে, সংসদে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিগত সরকার দেশের সাংস্কৃতিক নিদর্শন ধ্বংস করেছে। গত ১৮-২০ বছর যাবত শিক্ষা, শিল্প, সংস্কৃতি, আইন ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা সব ধ্বংস করেছে। জনগণের মতামতের কোনো মূল্য ছিল না। নির্বাচনের নামে চলতো প্রহসন। লাখ লাখ কোটি টাকা লুটপাট করে ব্যাংক বীমা খাতকে ধ্বংস করেছে।

বর্তমান সরকার হারিয়ে যাওয়া সব ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এ সময় কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাবিনা আলম, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক জেলা প্রশাসক রোজী আকতারসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তীব্র গরমে জার্মানিতে ৫ হাজার মানুষের মৃত্যু

0
ছবি: সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে প্রতিবছরই বিশ্বজুড়ে বাড়ছে গরমের তীব্রতা। কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস (সি৩এস) তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুন মাস ছিল পশ্চিম ইউরোপে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম মাস এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা ওই মাসে এযাবৎকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে ছিল। রেকর্ড তাপমাত্রা বৃদ্ধির পর এ মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ছিল সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় অনেক দেশ স্কুল বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ পরিষেবা জানিয়েছে, অস্বাভাবিক এই তাপপ্রবাহ বৃদ্ধির কারণ হচ্ছে স্থলভাগ ও মহাসাগরজুড়ে ক্রমাগত উষ্ণায়ন। এর ফলে বৈশ্বিক গড় ভূপৃষ্ঠের বায়ুর তাপমাত্রা ১৬.৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। গত মাসে পশ্চিম ইউরোপের গড় তাপমাত্রা ছিল ২০.৭৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ১৯৯১-২০২০ সালের জুন মাসের গড়ের চেয়ে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।

এদিকে তীব্র গরমে জার্মানিতে এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজার ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার বেশিরভাগই ঘটেছে জুন মাসে। এ মাসে দেশটির সাপ্তাহিক গড় তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়ামের অনেক বেশি ছিল। বৃহস্পতিবার জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা রবার্ট কচ ইনস্টিটিউট (আরকেআই) এ তথ্য জানিয়েছে।

আরকেআই তাদের সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় চার হাজার ২৭০ জন ছিলেন ৭৫ বছর বা তারও বেশি বয়সি। পুরুষের তুলনায় নারীদের মৃত্যু বেশি হয়েছে। কারণ, অতিবৃদ্ধদের মধ্যে নারীদের সংখ্যাই বেশি ছিল।

জার্মানির এই তথ্য ইউরোপজুড়ে এক ভয়াবহ চিত্রকে তুলে ধরেছে। এছাড়া ফ্রান্স, বেলজিয়াম, স্পেন ও নেদারল্যান্ডসে ২০-২৮ জুনের তাপপ্রবাহে চার হাজার ৭০০-এরও বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর খবর জানিয়েছে জাতীয় কর্তৃপক্ষ । অন্যান্য দেশে এ সংখ্যা সম্ভবত আরো বেশি। তীব্র তাপদাহের কারণে আইবেরিয়া ও ফ্রান্সে দাবানলের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে পুড়ে গেছে বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ফলে খরা পরিস্থিতি আরো তীব্র হয়েছে।

কোপারনিকাস জানিয়েছে, এ অঞ্চলটি স্পেন ও ব্রিটেন থেকে পূর্বদিকে ইতালি, জার্মানি এবং অস্ট্রিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। পশ্চিম ইউরোপ তিন মাসের মধ্যে তিনটি তীব্র তাপপ্রবাহের শিকার হয়েছে। চলতি সপ্তাহে আরো একটি তাপপ্রবাহের কবলে পড়তে যাচ্ছে স্পেন ও পর্তুগালসহ বেশ কয়েকটি দেশ।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মতে, কয়লা, তেল ও গ্যাস পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১৯ শতকের প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় প্রায় ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। ফলে আগামীতে পৃথিবীর তাপমাত্রা আরো বাড়তে পাবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেন সাড়ে ৪ কোটি মানুষ

0
ছবি: আল-জাজিরা

সর্বকালের সব রেকর্ড ভেঙে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির জানাজা ও বিদায় অনুষ্ঠানে শামিল হয়েছেন চার কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ।

ইরান-ইরাকের বিভিন্ন শহরে টানা ছয় দিনব্যাপী চলমান এই নজিরবিহীন শোক মিছিলকে মানব ইতিহাসের বৃহত্তম জনসমাগম ও জানাজা হিসেবে দাবি করছে ইরান কর্তৃপক্ষ।

ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, তেহরান, কোম, নাজাফ, কারবালা ও মাশহাদ এই পাঁচ শহরে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহাসিক বিদায় ও দাফন প্রক্রিয়া। এর মধ্যে কেবল ইরাকের নাজাফ ও কারবালাতেই প্রায় এক কোটি মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নিশ্চিত করেছে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সন্ত্রাসী হামলায় সপরিবারে এই মহান নেতা শাহাদাতবরণ করেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত শুক্রবার থেকে শুরু হয় তার শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা, যেখানে বিশ্বের ৪৫টিরও বেশি দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং ৯০টিরও বেশি দেশের পণ্ডিত ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

প্রযুক্তিগত তথ্য ও স্বাধীন বিভিন্ন সূত্রের হিসাব অনুযায়ী, যাতায়াতের রেকর্ড ও মোবাইল সিগন্যাল বিশ্লেষণ করে এই বিশাল উপস্থিতির সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে।

সূত্র: প্রেস টিভি

ট্রাম্পের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট

0
সংগৃহীত ছবি

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসার সঙ্গে বৈঠক করে যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রস্তুতি ও দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে শিগগিরই ওয়াশিংটন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে আউনের।

প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বৈঠকে আউন দক্ষিণ লেবাননে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরাইলের ওপর চাপ প্রয়োগ করে হামলা বন্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

এছাড়া তিনি দখলকৃত লেবাননের বিভিন্ন শহরে ইসরাইলি গোলাবর্ষণ ও বুলডোজার দিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধেরও দাবি জানান।

বৈঠক শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা বলেন, প্রেসিডেন্ট আউনের ওয়াশিংটন সফর লেবাননের স্থিতিশীলতার প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। তিনি জানান, আগামী ১৪-১৫ জুলাই ইতালির রোমে লেবানন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি ফলো-আপ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্রদূত আরো জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি মার্কিন সামরিক প্রতিনিধি দল বৈরুতে পৌঁছাবে। তারা ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহারের পর পরীক্ষামূলকভাবে নির্ধারিত কয়েকটি এলাকা লেবাননের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের সমন্বয় করবে।

সূত্র: আল জাজিরা

বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের জমজমাট লড়াইয়ে ৪ ফুটবলার

0
ছবি : স্কাইস্পোর্টস

৪৮ দলের বর্ধিত বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের আগে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে জমে উঠেছে। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আরলিং হালান্ড এবং হ্যারি কেইন সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় যথাক্রমে শীর্ষস্থানে রয়েছেন গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে।

তৈরি হয়েছে এক অভূতপূর্ব ও রোমাঞ্চকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
টুর্নামেন্টের শেষে সর্বোচ্চ গোলদাতাকে এই বহু আকাঙ্ক্ষিত পুরস্কারটি প্রদান করা হয়। যদি দুই বা ততোধিক খেলোয়াড়ের গোল সংখ্যা সমান হয়, তখন গোলে কে বেশি অ্যাসিস্ট করেছে বিবেচনায় নিয়ে পুরস্কারটি দেওয়া হয়।

এরপরও যদি নিষ্পত্তি না হয় তখন মোট খেলার সময় বিবেচনা করা হবে এবং যিনি কম মিনিট খেলেছেন, তাঁকে প্রথম হিসেবে গণ্য করা হয়।

৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে প্রতিটি ম্যাচেই গোল করেছেন। রাউন্ড অব ১৬-এ মিসরের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ গোল পান। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে তিনি বিশ্বকাপে মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। তিনি ৫ ম্যাচে ৮ গোল করেছেন, এর মাঝে একটি অ্যাসিস্টও রয়েছে।

গত বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটজয়ী কিলিয়ান এমবাপ্পে ৭ গোল এবং ২টি অ্যাসিস্ট নিয়ে মেসির ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছেন। যদি গোলসংখ্যা সমান হয়, তবে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী বেশি অ্যাসিস্ট করার কারণে এমবাপ্পেই এই মুহূর্তে টাইব্রেকারে এগিয়ে থাকবেন।

নিজের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসেই আরলিং হালান্ড নরওয়েকে কোয়ার্টার ফাইনালে টেনে তুলেছেন। রাউন্ড অব ১৬-এ শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে তিনি একাই জোড়া গোল করেন। এতে ৫ ম্যাচে তার গোল সংখ্যা ৭।

এমবাপ্পের গোল সংখ্যা সমান হওয়ায় অ্যাসিস্ট বিবেচনায় পিছিয়ে রয়েছেন এই ম্যানসিটির তারকা।
২০১৮ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জয়ী হ্যারি কেইন মেক্সিকোর বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করে নিজের গোলসংখ্যা ৬-এ নিয়ে গেছেন। এতে তার একটি অ্যাসিস্টও রয়েছে। তিনি এই তালিকায় চতুর্থ নম্বরে আছেন। ইংল্যান্ডের এই অধিনায়ক যেকোনো মুহূর্তে বাকিদের ছাড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখেন।

দল বর্ধিত এই বিশ্বকাপে ফাইনালিস্ট হলে ৮ ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। যা এই গোলমেশিনদের জন্য এক টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড (জাস্ট ফন্টেইনের ১৩ গোল) ভাঙার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। ফক্স স্পোর্টসের বেটিং অডস অনুযায়ী, তালিকায় এই মুহূর্তে মেসি (+১২০) এবং এমবাপে (+১৪০) সবচেয়ে ফেভারিট হিসেবে রয়েছেন।

সিরিজ বাঁচাতে ২৪৮ রান করতে হবে বাংলাদেশকে

0
ছবি : ক্রিকইনফো

সিরিজ বাঁচাতে হলে আজ জিততেই হবে বাংলাদেশকে। এমন বাঁচা-মরার ম্যাচে ২৪৮ রানের লক্ষ্য পেয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

হারারেতে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভার শেষে ২৪৭ রান করেছে জিম্বাবুয়ে। দলের হয়ে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন বেন কারান।

ওপেনিংয়ে নেমে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন কারান। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির ইনিংসটি খেলেছেন ১১১ রানের।

অপরাজিত ইনিংসটিতে কোনো ছক্কা না হাঁকালেও ৯ চার মারেন বাঁহাতি ওপেনার।

ইনিংসের প্রথম ওভারে ওপেনিং সঙ্গী ব্রায়ান বেনেট আউট হলেও জিম্বাবুয়ের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন কারান। ওভারের ৫ বলে বেনেটকে শূন্য রানে বোল্ড করে তাসকিন আহমেদ। সেই রেশ শেষ না হতেই নিজের ফিরতি ওভারের শেষ বলে ইনোসেন্ট কাইকেও ফেরান বাংলাদেশি পেসার।

তাসকিনের জোড়া উইকেটের উদযাপনে পরে যোগ দেন নাহিদ রানা ও মিরাজ। দুজনে একটি করে উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের স্কোরবোর্ড করেন ৪ উইকেটে ৬৬ রান। সেখান থেকে স্বাগতিকদের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করেন সিকান্দার রাজা ও কারান। দুজনে মিলে পঞ্চম উইকেটে ৬৮ রানের জুটি গড়েন।

ব্যক্তিগত ৩৩ রানে রাজাকে ফেরান অধিনায়ক মিরাজ।

দ্রুতই নতুন ব্যাটার ক্লাইভ মাদান্দেকে (৪) আউট করে বাংলাদেশকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেন লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন। তবে সতীর্থ ব্র্যাড ইভান্সকে সঙ্গী করে কারান ঠিকই চ্যালেঞ্জিং স্কোর এনে দেন।
তাতে জিম্বাবুয়ের সবচেয় বড় জুটিও গড়েন ইভান্স-কারান। সপ্তম উইকেটে ৯৯ রানের অপরাজিত জুটি গড়েন তারা। দুজনের দারুণ ব্যাটিংয়ে শেষ ১০ ওভারে ৮৩ রান যোগ করে জিম্বাবুয়ে।

শুরু থেকে কারান অ্যাঙ্করের ভূমিকা পালন করলেও বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন ইভান্স। আটে নেমে ১৫২.৬৩ গড়ে ৫৮ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। ইনিংসটি সাজিয়েছেন ২ চারের বিপরীতে ৫ ছক্কায়। বাংলাদেশের হয়ে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন তাসকিন-মিরাজ।

এর আগে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে জয়ের দারুণ সুযোগ পেয়েও ২৫ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করে জিম্বাবুয়ে ১৪১ রান করলে ১১৬ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।

কিংবদন্তি গায়িকা বনি টাইলার আর নেই

0
সংগৃহীত ছবি

‘টোটাল ইক্লিপস অব দ্য হার্ট’খ্যাত কিংবদন্তি ব্রিটিশ গায়িকা বনি টাইলার না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন। ৭৫ বছর বয়য় এই গায়িকা মঙ্গলবার পর্তুগালের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের বরাতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, পর্তুগালের একটি হাসপাতালে মারা গেছেন বর্ষীয়ান এই সংগীতশিল্পী। মূলত অন্ত্রের জরুরি অস্ত্রোপচারের পর থেকে কোমায় ছিলেন এবং সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

১৯৮০-এর দশকের বিশ্বজোড়া জনপ্রিয় গান ‘টোটাল ইক্লিপস অব দ্য হার্ট’-এর জন্য সর্বাধিক পরিচিত বনি টাইলার। তার শক্তিশালী কণ্ঠস্বর এবং ‘হোল্ডিং আউট ফর আ হিরো’ ও ‘ইটস আ হার্টেক’-এর মতো বিখ্যাত সব গানের জন্য বিশ্বজুড়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

সংগীতজগতে অসামান্য অবদানের জন্য তাকে ২০২২ সালে এমবিই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছিল।
জানা গেছে, বনি টাইলারের মৃত্যুর মূল কারণ ছিল অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে যাওয়া এবং অন্ত্রের গুরুতর জটিলতা; যার কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যগত সমস্যা জটিল আকার ধারণ করে।

পর্তুগালের আলগার্ভেতে নিজের বাড়িতে থাকাকালীন তিনি তীব্র পেটে ব্যথা অনুভব করেন। ফলে গত মে মাসের শুরুতে তাকে পর্তুগালের ফারো শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে পরীক্ষা করে দেখা যায় তার অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে গেছে এবং অন্ত্র ছিদ্র হয়ে গেছে।
চিকিৎসকরা জরুরি ভিত্তিতে তার অন্ত্রে জীবন রক্ষাকারী অস্ত্রোপচার করে। তারপরই তিনি কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বা হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং চিকিৎসকেরা তাকে পুনরুজ্জীবিত করেন। এরপর তার শরীরে মারাত্মক ইনফেকশন বা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।

শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় এবং তার শরীরকে সুস্থ হতে সাহায্য করতে চিকিৎসকরা তাকে কৃত্রিম উপায়ে কোমায় পাঠান।

গত জুন মাসের মাঝামাঝিতে তিনি কোমা থেকে ফিরে এলেও অত্যন্ত দুর্বল ও অসুস্থ ছিলেন এবং আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবশেষে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর, এই অসুস্থতার জটিলতার কারণেই হাসপাতালের বিছানায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

১৯৫১ সালের ৮ জুন যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে গেইনর হপকিন্স নামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। একটি শ্রমজীবী পরিবারে বেড়ে ওঠা টাইলারের জীবনে ছোটবেলা থেকেই সংগীত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে স্থানীয় ক্লাবগুলোতে গান গাওয়া শুরু করেন তিনি। ১৯৬৯ সালে একটি স্থানীয় প্রতিভা প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হওয়ার পর পেশাদার সংগীতশিল্পী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি বনি টাইলার নাম গ্রহণ করেন। ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত ‘লস্ট ইন ফ্রান্স’ গানটি যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তাকে প্রথম বড় সাফল্য এনে দেয়। এরপর ‘ইটস আ হার্টেক’ গানটির মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক তারকাখ্যাতি লাভ করেন।

বনি টাইলারের কর্কশ ও গভীর কণ্ঠ ছিল তার সবচেয়ে বড় স্বাতন্ত্র্য। ১৯৭৭ সালে স্বরযন্ত্রের অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নেওয়ায় তার কণ্ঠে স্থায়ী পরিবর্তন আসে। পরবর্তীতে সেই স্বতন্ত্র কণ্ঠই তার পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে এবং বিশ্বসংগীতে তাকে অনন্য মর্যাদা এনে দেয়।

লাচ্ছি খাওয়া নিয়ে বিতর্কের মুখে অভিনেত্রী ভাগ্যশ্রী

0
সংগৃহীত ছবি

একটি লাচ্ছির দোকানকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে এবার মুখ খুললেন বলিউড অভিনেত্রী ভাগ্যশ্রী। একটি ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে ঘিরে শুরু হয় সমালোচনা।

অভিযোগ ওঠে, ক্যামেরার সামনে স্থানীয় লাচ্ছির প্রশংসা করলেও বাস্তবে তিনি সেটি পান করেননি। তবে এমন দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’খ্যাত এই অভিনেত্রী।

বিতর্কের সূত্রপাত ভারতের বারাণসীর একটি জনপ্রিয় লাস্যির দোকানে ভাগ্যশ্রীর সফরকে কেন্দ্র করে। সেখানে তিনি একটি ভিডিওতে দোকানের লাস্যির প্রশংসা করেন।

পরে সেই ভিডিওর একটি সংক্ষিপ্ত অংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
ওই ক্লিপে দাবি করা হয়, বেশি চিনি ও ফ্যাট থাকার কারণে অভিনেত্রী লাচ্ছি পান করা থেকে বিরত ছিলেন। এরপরই তাকে নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক ট্রলিং।

এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে ভাগ্যশ্রী বলেন, আপনারা কি সেখানে উপস্থিত ছিলেন? কেউ কি শুনেছেন আমি বলেছি যে লাচ্ছি খুব মিষ্টি, তাই আমি খাব না?

ভাইরাল হওয়া ভিডিও নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরো লেখেন, ভুয়া জিনিস আসলে সেই ভিডিও, যেখানে অর্ধেক তথ্য দেখিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

অভিনেত্রীর দাবি, একটি ঘটনার আংশিক ভিডিও দেখে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। পুরো ঘটনা না জেনেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য করা দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভাগ্যশ্রীর এই ব্যাখ্যার পরও বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। কেউ তার বক্তব্যকে সমর্থন জানালেও, অনেকে পুরো ভিডিও প্রকাশের দাবি তুলেছেন।

শাড়িতে নজরকাড়া লুকে দীঘি

0
ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

পুরো শাড়িজুড়ে জ্যামিতিক রেখা, সূক্ষ্ম ফুলেল নকশা এবং সমৃদ্ধ বর্ডার-সব মিলিয়ে এটি নিছক একটি পোশাক নয়, বরং একটি শিল্পকর্মের অনুভূতি দেয়। বিশেষ করে উড়ন্ত আঁচলের বিস্তৃতি পুরো লুককে করেছে আরও প্রাণবন্ত। ছবির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকও যেন এই প্রবাহমান আঁচল, যা স্থির ছবিতেও গতির অনুভূতি তৈরি করেছে।

ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

গাঢ় মেরুন পটভূমির সামনে দীঘির পরনে দেখা যায় হালকা পিচ-নিউড রঙের একটি শাড়ি, যার পুরো জুড়ে রয়েছে সোনালি জরির সূক্ষ্ম কারুকাজ। আলো পড়তেই শাড়ির নকশাগুলো যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে। শাড়ির আঁচলে ঐতিহ্যবাহী মোটিফের সঙ্গে আধুনিক অলংকরণ এমনভাবে মিশেছে, যা পুরো সাজকে দিয়েছে রাজকীয় আবেদন।

ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

শাড়ি পড়ে একগুচ্ছ ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী ও মডেল প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। মিষ্টি হাসি আর মানানসই সাজে তার এই নতুন রূপটি নেটিজেনদের বেশ প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

দীঘি ভারী গয়নার পরিবর্তে বেছে নিয়েছেন ছোট আকারের স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং একটি সূক্ষ্ম নেকলেস। হাতে রয়েছে একটি আংটি। এই পরিমিত অলংকার পুরো লুককে আরও পরিশীলিত করেছে।

ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

ফ্যাশন কেবল পোশাক নয়, এটি ব্যক্তিত্ব প্রকাশেরও এক নান্দনিক মাধ্যম। আর সেই নান্দনিকতাকেই নতুনভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘি।

ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

মেকআপেও রয়েছে ন্যাচারাল গ্ল্যামারের ছোঁয়া। উজ্জ্বল কিন্তু অতিরঞ্জিত নয় এমন বেস, হালকা গোলাপি আভাযুক্ত গাল, নরম টোনের আই মেকআপ এবং নিউড লিপস্টিক-সব মিলিয়ে তার মুখাবয়ব পেয়েছে সতেজ ও কোমল অভিব্যক্তি। এই ধরনের মেকআপ বর্তমানে ব্রাইডসমেইড, রিসেপশন কিংবা উৎসবের সাজে বেশ জনপ্রিয়।

আজ রাতে নামছে মেসি-বাহিনী: আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচ দেখবেন যেভাবে

0
আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া প্রতিবেদক: বিশ্বকাপে আজ রাতে মাঠে নামছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। রাত ১০টায় মেসি বাহিনীর প্রতিপক্ষ মোহামেদ সালাহর মিশর। বিশ্বকাপের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। জয়ী দল সরাসরি নিশ্চিত করবে কোয়ার্টার ফাইনাল।

মেসি বনাম সালাহ: কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই

চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত অপরাজিত। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলের শ্বাসরুদ্ধকর জয় নিয়ে শেষ ষোলোয় আসা মেসি বাহিনী আজ কতটা দাপট দেখাতে পারে, সেটাই দেখার অপেক্ষায় ভক্তরা। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে আসা মিশরও ছেড়ে কথা বলবে না। আর্জেন্টিনা ও মিশরের এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়েই নির্ধারিত হবে শেষ আটের পরবর্তী দুই দল।

কোথায় দেখবেন টিভির পর্দায়

দেশের ফুটবলপ্রেমীরা খুব সহজেই ঘরে বসে প্রিয় দলের খেলা উপভোগ করতে পারবেন। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে সময় টেলিভিশন। এছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং টি-স্পোর্টস চ্যানেলেও খেলাটি সরাসরি দেখা যাবে।

মোবাইলে বা ল্যাপটপে দেখার উপায়

যাঁরা টেলিভিশনের সামনে থাকতে পারবেন না, তাঁরা চাইলে মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার করেও ম্যাচটি দেখতে পারবেন। নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করে নিম্নলিখিত প্ল্যাটফর্মগুলোতে সাবস্ক্রিপশন নিলে সরাসরি খেলা উপভোগ করা যাবে:

  • মাইরবি (MyRobi) অ্যাপ

  • টফি (Toffee)

  • বায়োস্কোপ (Bioscope)

৬ দিনের বিরতি শেষে ফের শুরু জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন

0
সংসদ অধিবেশন
সংসদ অধিবেশন। ছবি: সংগৃহীত

ছয় দিনের বিরতি কাটিয়ে আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল ৩টায় পুনরায় বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন, যা মূলত বাজেট অধিবেশন হিসেবে পরিচিত। বাজেট পাস পরবর্তী নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংসদ সদস্যরা পুনরায় অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন।

গত ৩০ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পাস হওয়ার পর অধিবেশন সাময়িক সময়ের জন্য মুলতবি করা হয়েছিল। বিরতি শেষে আজ থেকে সংসদের নিয়মিত কার্যক্রম ফের শুরু হচ্ছে। যদিও ইতোমধ্যে নতুন অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন পেয়েছে এবং অর্থ বিলসহ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলো সংসদে পাস হয়ে গেছে, তবে অবশিষ্ট সংসদীয় কার্যাবলি সম্পন্ন করতেই এই অধিবেশন পুনরায় শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত ১১ জুন বাজেট উপস্থাপনের মাধ্যমে এই অধিবেশনের সূচনা হয়েছিল। এরপর টানা কয়েকদিন সরকার ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও বিতর্ক করেন। এই আলোচনায় দেশের বর্তমান অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জাতীয় নির্বাচন এবং আইন-শৃঙ্খলার মতো স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো প্রাধান্য পেয়েছে।

সাভারে এনসিপির সমাবেশ মঞ্চে ককটেল বিস্ফোরণ: আহত ১

0
সাভারে এনসিপির সমাবেশ মঞ্চে ককটেল বিস্ফোরণ
সাভারে এনসিপির সমাবেশ মঞ্চে ককটেল বিস্ফোরণ

সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচি চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৬ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভার থানা স্ট্যান্ড ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ চলাকালে এই বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন বলে দলের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ যখন বক্তব্য রাখছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে বিস্ফোরণের বিকট শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় নেতাকর্মীদের দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। তবে মঞ্চে উপস্থিত থাকা নেতৃবৃন্দ মাইকে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিস্ফোরণের সময় সমাবেশ মঞ্চে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি এবং উত্তারাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পরপরই এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে সাভারে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং পরে সাভার মডেল থানার সামনে অবস্থান নেন।

এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ইয়াসির আরাফাত দাবি করেছেন, সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে কাজ করছে। ঠিক কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জিম্বাবুয়ের টপ অর্ডারে ধস: ৪৫ রানেই ৪ উইকেট তুলে নিলেন মিরাজ-তাসকিনরা

0
জিম্বাবুয়ের টপ অর্ডারে ধস
তাসকিন আহমেদের বলে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফেরেন ব্রায়ান বেনেট। ছবি: সংগৃহীত

টেস্ট সিরিজের হতাশা ঝেড়ে ওয়ানডে সিরিজের শুরুতেই দারুণ ছন্দে বাংলাদেশ। হারারেতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টসে জিতে ফিল্ডিং বেছে নিয়ে শুরু থেকেই জিম্বাবুয়েকে চাপে ফেলেছেন মেহেদী হাসান মিরাজের বোলাররা। দলীয় ৪৫ রান তুলতেই স্বাগতিকদের ৪টি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন বাংলাদেশের হাতে।

সফরকারী বাংলাদেশ আজ লিটন দাসকে ছাড়াই মাঠে নেমেছে। তার পরিবর্তে উইকেটের পেছনে দায়িত্ব পালন করছেন নুরুল হাসান সোহান। টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে মিরাজ জানান, কন্ডিশন বুঝে দ্রুত উইকেট নেওয়াই ছিল লক্ষ্য। বাংলাদেশের পেসাররা শুরু থেকেই লাইন ও লেন্থ ঠিক রেখে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের অস্বস্তিতে ফেলেন।

ম্যাচের সপ্তম ওভারে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। অধিনায়ক মিরাজের নিখুঁত থ্রোতে দুর্দান্ত রানআউটে সাজঘরে ফেরেন বেন কারান। ঠিক পরের বলেই তাসকিন আহমেদের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন ব্রায়ান বেনেট। এরপর আর পিছনে তাকাতে হয়নি বাংলাদেশকে। পেস আক্রমণ ও ফিল্ডিংয়ের চাপের মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে।

তাসকিনের গতি ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বোল্ড হয়ে ফেরেন অভিজ্ঞ ব্যাটার ক্রেইগ আরভিন। এরপর তরুণ পেসার নাহিদ রানার শিকার হন সিকান্দার রাজা। সব মিলিয়ে ৪৫ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকরা এখন বড় ধরনের বিপর্যয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের পেস বোলিং লাইনআপ ও ফিল্ডিংয়ের এমন দাপট হারারেতে বড় জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে ভক্তদের।

রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের শঙ্কা: ৪১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত, বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার আহ্বান

0
রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের শঙ্কা
রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের শঙ্কা।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে রাঙামাটিতে টানা ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি প্রকট হয়ে উঠেছে। সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্যোগ ও প্রাণহানি এড়াতে জেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে সোমবার (৬ জুলাই) সকাল থেকেই পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত মানুষদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার জন্য ব্যাপক মাইকিং করা হচ্ছে।

প্রশাসনের তথ্যমতে, রাঙামাটি পৌর এলাকায় ২৮টি স্থানকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে শিমুলতলী, রূপনগর, নতুনপাড়া, রিজার্ভ বাজার, ভেদভেদি ও লোকনাথ মন্দির সংলগ্ন এলাকা সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক। অতীতের পাহাড়ধসের মর্মান্তিক স্মৃতি মাথায় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মাঝে। জানা গেছে, এ ধরনের ঝুঁকির কথা জেনেও জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি ঢালে এখনও প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ বসবাস করছেন।

যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার লক্ষ্যে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। রাঙামাটি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ১১টিসহ পুরো জেলায় মোট ৪১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার তৎপরতা ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের অধীনে ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সার্বক্ষণিক সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।

রাঙামাটি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আসলাম সারোয়ার বলেন, “আবহাওয়া পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। মানুষের জীবন রক্ষা আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমরা বাসিন্দাদের অনুরোধ করছি, কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসার জন্য।”

শ্রীলঙ্কার নেগোম্বো কারাগারে ভয়াবহ সংঘর্ষ: নিহত বেড়ে ২৫

0
শ্রীলঙ্কার নেগোম্বো কারাগারে ভয়াবহ সংঘর্ষ
ছবি: সংগৃহীত

শ্রীলঙ্কার নেগোম্বো কারাগারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বন্দি ও কারারক্ষীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২০ জন বন্দি এবং ৫ জন কারা কর্মকর্তা। এছাড়া এই সহিংসতায় শতাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও কারারক্ষীদের গুলিবর্ষণের পর সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

দুই দিনের সংঘর্ষে রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি

স্থানীয় গণমাধ্যম আদাদেরানা ও নিউজ ওয়্যারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (৫ জুলাই) নেগোম্বো কারাগারে প্রথম দফায় বন্দিদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সেই প্রাথমিক সংঘর্ষেই ২ জন নিহত এবং ৩৮ জন আহত হন। সোমবার (৬ জুলাই) সেই পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে, যখন বন্দিরা কারারক্ষীদের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে। একপর্যায়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি ছুড়তে বাধ্য হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

উত্তাল নেগোম্বো কারাগার ও সেনা মোতায়েন

২ হাজার ৪১৭ জন ধারণক্ষমতার এই কারাগারে সংঘর্ষের মাত্রা এতোটাই বেড়ে যায় যে তা কারাকর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এরপরই শ্রীলঙ্কা সরকার পরিস্থিতি শান্ত করতে সেখানে সেনা মোতায়েন করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কারাগারের ভেতরে ও বাইরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটি গঠন ও বর্তমান পরিস্থিতি

হঠাৎ কেন এই ভয়াবহ সংঘর্ষের সূত্রপাত হলো এবং কারা এর পেছনে দায়ী, তা খতিয়ে দেখতে কারা কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। নেগোম্বো কারাগারে শান্তি ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে কারাগারের চারপাশের এলাকা এখন কঠোর নজরদারিতে রয়েছে।

গুলশান লেকের পরিবেশ রক্ষা ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

0
গুলশান লেকের পরিবেশ রক্ষা ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় গুলশান লেকের পরিবেশ রক্ষা ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশ করেন। ছবি : পিএমও

গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের পরিবেশ সুরক্ষা, পানি দূষণ রোধ এবং সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৬ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি এ নির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, লেকের বর্জ্য অপসারণ, পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন ও অন্যান্য সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকার ভবনগুলোর পয়েন্ট নিষ্কাশন সংযোগ (পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা) যাচাই এবং লেক দূষণমুক্ত করার সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় দায়িত্বরত কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন যে, লেক দূষণমুক্ত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে যেসব ভবনের পয়ঃবর্জ্য সরাসরি লেকে গিয়ে পড়ছে, তা দ্রুত বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়। এছাড়া কড়াইল বস্তির বর্জ্য যাতে সরাসরি লেকের পানিতে মিশতে না পারে, সে লক্ষ্যে একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়।

লেক ও এর সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলোর পানি প্রবাহ সচল রাখতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া পরিবেশ রক্ষায় স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপনের বিষয়টিকেও অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও রাজউক চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন।

ড্রাম বাজিয়ে কেন উদযাপন করে নরওয়ে?

0
ছবি: সংগৃহীত
ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর শুধু নরওয়ের জয়ই নয়, মাঠের এক ভিন্ন দৃশ্যও সবার নজর কেড়েছে। ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়রা মাঠে বসে বৈঠা চালানোর ভঙ্গি করলেন, সামনে ড্রামের তালে সেই উদযাপনের নেতৃত্ব দিলেন দলের তারকারা। গ্যালারিতেও হাজারো সমর্থক একই ছন্দে অংশ নিলেন। মুহূর্তেই দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
রয়টার্সের মতে, এটি কোনো তাৎক্ষণিক উদযাপন নয়। নরওয়ের এই উদযাপনের নাম ‘ভাইকিং রো’, যা দেশটির ঐতিহাসিক ভাইকিং সংস্কৃতি থেকে অনুপ্রাণিত।
প্রাচীন ভাইকিংরা দীর্ঘ কাঠের যুদ্ধজাহাজে সমুদ্র পাড়ি দিতেন। সেই জাহাজ এগিয়ে নিতে সবাইকে একসঙ্গে একই ছন্দে বৈঠা চালাতে হতো। বর্তমানের এই উদযাপনে সেই ইতিহাসই প্রতীকীভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা সারিবদ্ধভাবে বসে বৈঠা চালানোর ভঙ্গি করেন, আর ড্রামের তালে পুরো দল একসঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে এগিয়ে চলার বার্তা দেয়।
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই নরওয়ের সমর্থকদের অন্যতম পরিচয়ে পরিণত হয়েছে এই উদযাপন। শুধু স্টেডিয়াম নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের রাস্তাঘাট, মেট্রো স্টেশন, জনসমাগমের স্থান যেখানেই নরওয়ের সমর্থকেরা একত্রিত হয়েছেন, সেখানেই দেখা গেছে একই দৃশ্য।
ব্রাজিলের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পর এই উদযাপন আরও বেশি আলোচনায় আসে। দুই গোল করে জয়ের নায়ক আর্লিং হালান্ডও সতীর্থদের সঙ্গে ড্রামের তালে উদযাপনে যোগ দেন। মাঠে শুরু হওয়া সেই মুহূর্ত কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখোবার দেখা হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উদযাপন এখন শুধু ফুটবল জয়ের আনন্দ প্রকাশের মাধ্যম নয়; এটি নরওয়ের জাতীয় পরিচয়, ঐতিহ্য এবং দলীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে যে দৃঢ় বন্ধন তৈরি হয়েছে, ‘ভাইকিং রো’ সেই ঐক্যেরই প্রতিফলন।
ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর রাজধানী অসলোতেও হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে একইভাবে বৈঠা চালানোর ভঙ্গিতে বিজয় উদযাপন করেন। ড্রামের তালে একসঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে তারা যেন পুরো বিশ্বকে জানিয়ে দেন—এটি শুধু একটি ফুটবল দলের সাফল্য নয়, বরং একটি জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও গর্বেরও উদযাপন।
২০২৬ বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি নরওয়ের এই অনন্য উদযাপনও এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত বিষয়। মাঠের সাফল্যের সঙ্গে ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে যেভাবে একসঙ্গে তুলে ধরেছে নরওয়ে, তা বিশ্বকাপের স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি হয়ে থাকবে।

প্রিয় দল হারলে মন ভালো করার উপায়: একজন প্রকৃত সমর্থকের জন্য ৭ টিপস

0
প্রিয় দল হারলে মন ভালো করার উপায়

ফুটবল মানেই আবেগ। আর সেই আবেগ যখন প্রিয় দলের হারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে, তখন মন ভালো রাখা যেন এক কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু মনে রাখবেন, জয়-পরাজয় খেলারই অংশ। একটি ম্যাচের ফলাফল যেন আপনার ব্যক্তিগত জীবন বা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব না ফেলে, সেটিই সবচেয়ে জরুরি।

হতাশা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসার ৭টি কার্যকর উপায় নিচে দেওয়া হলো:

১. নিজেকে কিছুটা সময় দিন

দল হারার পর মন খারাপ হওয়া একেবারেই স্বাভাবিক। নিজের আবেগ বা অনুভূতিকে চাপা দেবেন না। কয়েক ঘণ্টা বা একদিন মন খারাপ করে থাকাকে কোনো অস্বাভাবিক বিষয় হিসেবে দেখবেন না। সময় দিন, দেখবেন আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে।

২. সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বিরতি নিন

ম্যাচ হারের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রল, মিম বা খোঁচামূলক পোস্ট হতাশা দ্বিগুণ করে দেয়। তাই নিজেকে শান্ত রাখতে কিছু সময়ের জন্য ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম থেকে দূরে থাকুন। এর বদলে পরিবার, পছন্দের বই কিংবা গানের সঙ্গে সময় কাটান।

৩. বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন

হতাশা ভাগ করে নিলে অর্ধেক হয়ে যায়। একই দলের সমর্থক বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিন। আর প্রতিপক্ষের সমর্থক বন্ধুরা মজা করলে সেটিকে ব্যক্তিগতভাবে না নিয়ে খেলাধুলার অংশ হিসেবে উপভোগ করার চেষ্টা করুন।

৪. ইতিবাচক দিকগুলো মনে করুন

শুধু হারের কথা না ভেবে দলের করা ভালো আক্রমণ, দুর্দান্ত সেভ বা শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতাগুলো মনে করার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, হার থেকেও শেখার অনেক কিছু থাকে।

৫. অন্য কাজে মন দিন

খেলা শেষ হওয়ার পর বারবার হাইলাইটস বা পুরনো ম্যাচের কথা না ভেবে অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ুন। সিনেমা দেখা, রান্না করা, কিংবা বিকেলে একটু হাঁটতে বের হওয়া—এসব কাজ আপনাকে দ্রুত হতাশা থেকে মুক্তি দেবে।

৬. নতুন স্বপ্নের অপেক্ষা করুন

একজন প্রকৃত সমর্থক শুধু জয়ের সময় নয়, পরাজয়ের দিনেও দলের পাশে থাকেন। সামনে নতুন টুর্নামেন্ট, নতুন ম্যাচ আর নতুন জয়ের সুযোগ আপনার অপেক্ষায় আছে। সেই নতুন স্বপ্নের দিকে নজর দিন।

৭. ফুটবলের মূল আনন্দ উপভোগ করুন

ফুটবলের আসল আনন্দ ট্রফি জেতায় নয়; বরং প্রিয়জনদের সঙ্গে ম্যাচ দেখা, উত্তেজনা ভাগাভাগি করা এবং কঠিন সময়েও দলের পাশে থাকাতেই একজন প্রকৃত সমর্থকের সার্থকতা। ফুটবল আমাদের শেখায়—হারার পরও কীভাবে আবার ঘুরে দাঁড়াতে হয়।