এবার এনবিআর কর্মকর্তা ড. তাজুলকে ঘিরে নানান আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, এইদিনএইসময়
spot_img
spot_img

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের- এনবিআর কর্মকর্তা মতিউরের ছাগলকাণ্ড, এনবিআরের প্রথম সচিব কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের প্লট-ফ্ল্যাটসহ বেশকিছু অবৈধ সম্পদ জব্দের আদেশ আসার রেশ থাকতেই্ আরেক উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। তিনি এনবিআরের শুল্ক, রেয়াত ও প্রত্যর্পণ পরিদপ্তরের (ডেডো) অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
তার অবৈধ সম্পদের ফিরিস্তি সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করতে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তন ভাড়া নিয়েছে জনৈক এক ব্যক্তি। শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনটি হওয়ার কথা রয়েছে।
যদিও ইতোমধ্যেই তার অবৈধ সম্পদের খোঁজে গোপন অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশনের- দুদক একটি দল, কমিশনের একজন কর্মকর্তা এমন আভাস দিয়ে এইদিন এইসময়কে বলেন, ‘শিগগিরই ভালো সংবাদ থাকছে মনে হয়, ভালো কিছু (ড. তাজুলের অবৈধ সম্পদ)।’
এনবিআর কর্মকর্তা মতিউরের ছাগলকাণ্ড নিয়ে তুমুল আলোচনা হওয়ায় এনবিআর কর্মকর্তাদের দিকে নজর দেয় সরকার। আলোচনা হয় দুদক সভায়ও। সেখানে এনবিআর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ নির্ধারিত একটি শ্রেনীর কর্মকর্তা পর্যন্ত এবং আলোচনায় থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে গোপনে অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্ত হয় বলে দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র বলছে, এরপর দুদক খোঁজ নেওয়া শুরু করলে বেরিয়ে আসে ডেডো অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. তাজুল ইসলামের কিছু তথ্যও। অনুসন্ধান পর্যায়ের তদন্তে যেসব তথ্য বা অবৈধ সম্পদের উৎস পাওয়া যাচ্ছে , তা নিয়ে পরবর্তী সভায় সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন কমিশনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।
ইতোমধ্যেই যে সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে, তা অনেক বলে আভাস পাওয়া গেছে। তবে দুদকের কোনো কর্মকর্তা নিশ্চিত করেননি যে ড. তাজুলের কী পরিমান অবৈধ সম্পদের খোঁজ তারা পেয়েছেন। সেটি স্পষ্ট হবে দুদকের অনুসন্ধানকারী দলের প্রতিবেদন কমিশনের নিয়মিত সভায় উত্থাপনের পর।

প্রসঙ্গত, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত গতকাল (বৃহস্পতিবার)। তার স্বজনের নামেই পাওয়া গেছে ৭০০ ব্যাংকহিসাব, যে হিসাবগুলোতে অবৈধ টাকা সরাতেন সচিব কাজী ফয়সাল।
আর মতিউরের তো একের পর এক সম্পদের খবর মিলছে রোজ। এবার বের হয়েছে মতিউরের মেয়ের বিদেশে থাকা অঢেল সম্পদ, যা মতিউরের টাকায়ই গড়ে তোলা। আরও কত দেশে তার সম্পদ আছে, তা জানতে নানামুখী কার্যক্রম চালাচ্ছে দুদক।
একইভাবে এনবিআর কর্মকর্তা ড. তাজুল ইসলামের দেশ বিদেশের সম্পদ ও স্বজনের তালিকা করা হচ্ছে। দুদুক ছাড়াও একাধিক সংস্থার নজর এনবিআরের কর্মবকর্তা ড. তাজুলের দিকে।
ড. তাজুলেরও কী বিদেশে বাড়ি আছে একাধিক, ছেলে ময়ে জামাই শ্বশুর বাড়ির আত্মীয়সহ নানান স্বজনের নামে? তার স্বজনদের নামে কতটি ব্যাংকহিসাব আছে? এনবিআরের এ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও কি তবে এবার ফেঁসে যাচ্ছেন?
এমন নানান প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ডেডোর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. তাজুল ইসলামকে নিয়ে।

এসব ব্যক্তি আক্রোশ: এইদিন এইসময়কে ড. তাজুল

অনুষ্ঠিতব্য সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি তুলে ধরে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের বিষয়ে ড. মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি এইদিন এইসময়কে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় লিখিত বক্তব্যে দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি তিনিও শুনেছেন। যে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হচ্ছে সে ঘটনাটি ৪ বছর যাবত একটি পত্রিকা প্রকাশ করে আসছে। প্রকৃতপক্ষে ব্যক্তিগত আক্রোশেই এটি আবার সামনে এসেছে। এটি মহামান্য হাইকোর্ট পর্যন্ত গিয়ে নিস্পত্তি হয়েছে।’
তার লিখিত ভাষ্য, ‘এটি বহু পুরাতন এবং নিস্পত্তিকৃত বিষয়। প্রত্যেক মানুষেরই তার পরিবার আছে, আছে তার সমাজ। আপনার নিকট থাকা ড্রাফটি (সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরতে যাওয়া দুর্নীতির সারাংশ) মনোযোগ দিয়ে পড়লেই বুঝবেন যে কিভাবে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। আমাদেরও সমাজ আছে। এসব করে কি লাভ? আমি চাই বস্তুনিষ্ঠ নিউজ করেন।’

আরও পড়ুন: জব্দ হচ্ছে এনবিআর সচিব কাজী ফয়সালের সম্পদ

সর্বশেষ নিউজ