দেশকে অস্থিতিশীল করার নতুন ছক আ.লীগের, সুন্নী সমাবেশের নামে লাখো নেতাকর্মী ঢাকায় জড়ো করার তথ্য

ফারহানা সুমনা
spot_img
spot_img

 

জুলাই আগস্টের গণ অভ্যুত্থানের পর কেটে গেছে
বেশ কিছু দিন। ফ্যাসিবাদের পতন ঘটলেও  দেশকে অকার্যকর করতে নিরলস চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছে পতিত আওয়ামী বাহিনীর পলাতক এমপি মন্ত্রীরা।এসকল এমপি মন্ত্রী ও তাদের দোসররা

বেশিরভাগই বিদেশে অবস্থান করছেন।সেখান থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশের আওয়ামী তৃণমূল কর্মী ও নেতাকর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার তথ্য মিলেছে। সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় শেখ হাসিনা দায়িত্বপ্রাপ্ত  নেতার উদ্দেশ্যে  বলেন, তুমি এখন থেকে যখনই নামবা বড় আকারে নামবা। আর একটা গ্রুপ আলাদা রাখবা কেউ যদি মারতে আসে শিক্ষা দিয়ে দিবা।

গণ অভ্যুত্থানের ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এবার রাজপথে নামার নতুন ছক তৈরি করেছে বলে গোপন তথ্যসূত্রে জানা যায়।বর্তমানে তারা  মে ও জুন মাসকে টার্গেট করে রাজপথ দখলের পরিকল্পনা চালাচ্ছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনায়  নেতা কর্মীদের সারা দেশে এখন ঝটিকা মিছিল বের করতে দেখা যাচ্ছে।

তবে দলটির নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে আসতে না পারলেও বিভিন্ন ছদ্মবেশে রাজপথে থাকবে বলে জানিয়েছে দলটির উচ্চতর পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

অন্যদিকে দেশকে অস্থীতিশীল করার এই ঝটিকা মিছিল রুখতে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিক এমন প্রতিবেদন প্রকাশ পায়। প্রতিবেদনে আরো বলা হয় ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে না এলেও দেশকে অস্থীতিশীল করতে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।

আগামী মে ও জুনকে টার্গেট করে রাজপথ দখলের পরিকল্পনা সাজিয়েছে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সহ তাদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। এদিকে প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয় পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে গত কয়েকদিনে প্রায় ৪৬৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যারা তিন ভাগের দুইভাগই আওয়ামী লীগের সদস্য। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ প্রতিহত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি মাঠে আছে ছাত্রজনতা।

তবে নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন ঝটিকা মিছিল নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ ডিএমপি। এছাড়াও আওয়ামী লীগের মিছিল কন্ট্রোল করতে না পারলে পুলিশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে আর বলা হয়, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে ধানমন্ডি ৩৩ নামে এক টেলিগ্রাম গ্রুপে, গাজীপুরের সাবেক মেয়র মোহম্মদ জাহাঙ্গীর আলম দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলার  নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিটিং করে দিক নির্দেশনা দেন।

মিটিংএ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আপাতত ফান্ডের সমস্যা, বিদেশ থেকে কেউ টাকা পাঠাতে পারছে না। প্রতিটি জেলায় ঝটিকা মিছিল দিয়ে শুরু করতে হবে।
এছাড়াও নির্দেশ রয়েছে রিক্সাচালক অটোচালক ও বাসের হেল্পারের ছদ্দবেশে  ঝটিকা মিছিলে অংশ নিতে, প্রয়োজনে আত্মরক্ষার্থে ইলেকট্রিক শক ডিভাইস ব্যবহার ও ক্ষুদ্র জিনিসপত্র সঙ্গে রাখতে হবে।

ওই মিটিং এ জাহাঙ্গীর আলম নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন নেত্রীর নির্দেশনা আছে নিম্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা যারা বিদেশে অবস্থান করছেন তাদেরকে দেশে পাঠাতে হবে যদিও ১০০০ নেতাকর্মী আসেন প্রয়োজনে ২০০ গ্রেপ্তার হলেও রিজার্ভে ৮০০ থাকবে। এছাড়াও সারাদেশে অন্তত ১৫ লাখ লোককে জমায়েতের পরিকল্পনা করেছে আওয়ামী লীগ।

মে ও জুন মাসের মধ্যে তারা বড় ধরনের নাশকতা পরিকল্পনাও করছে যেখানে ব্যাপক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় প্রকাশিত প্রতিবেদনে। ইতিমধ্যে দেখা গেছে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনে ঝটিকা মিছিল পর্যায়ক্রমে বেড়ে চলছে। গত এক সপ্তাহে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে অর্ধশত ঝটিকা মিছিল হয়েছে।

সারাদেশে জেলা থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল বের করেছেন। অনেক নেতাকর্মীরা পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়াতে ছদ্ম নামে আইডি ব্যবহার করে সেগুলো পোস্ট করছেন। এছাড়াও মিছিলের ভিডিও ফুটেজ ছবি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বাইরে পলাতক থাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের কাছে।

অন্যদিকে কোন নিষিদ্ধ সংগঠন মিছিল বের করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক এনামুল হক সাগর। তিনি বলেন মিছিলকারীদের তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করা সম্ভব না হলেও পরবর্তীতে ছবি ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অনেককে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।

জনবিচ্ছিন্ন বেআইনী সংগঠনের অপতৎপরতা রোধে পুলিশ তৎপর রয়েছে। এছাড়াও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন মিছিল করলে তাদের গ্রেফতার করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়।

সর্বশেষ নিউজ