আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে এবং নগরজীবনে বিশৃঙ্খলা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
রোববার (২৫ মে) সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, সারাদেশে কোরবানির পশুর হাট, চামড়া সংগ্রহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পশুর হাটগুলোতে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে এবং যাতে রাস্তায় কোনো পশু রাখা না হয়, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি থাকবে।
তিনি আরও জানান, ২০২৬ সাল থেকে কোরবানির পশুর হাটে হাসিল সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ নির্ধারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “খুচরা বিক্রেতারা যেন আর্থিক ক্ষতির মুখে না পড়েন এবং হাটে অতিরিক্ত ব্যয় না হয়, তা আগেভাগেই নিশ্চিত করতে হবে।”
এ বছর ঢাকায় ২০টি কোরবানির পশুর হাট বসবে, যা সবকটি মহাসড়কের বাইরে স্থাপন করা হবে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দুই সিটি করপোরেশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে কাজ করবে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ জানিয়েছেন, “ঢাকায় কোনো অবৈধ পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। হাটের নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কোরবানির পশুর বর্জ্য ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরিষ্কার করতে হবে। এজন্য সিটি করপোরেশনগুলোকে পূর্ব প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
এছাড়া, ঈদের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পশুর হাটগুলোতে ভিড় ও মলম পার্টি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সরকারি কর্মচারী আইনের সংশোধন নিয়েও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য সরকারি কর্মচারী আইন সংশোধন করেছিল। এখন অন্তর্বর্তী সরকার সেই আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নিচ্ছে। তবে, সরকার চাইলে আইন পরিবর্তন করতে পারে, আর কর্মচারীদের কোনো মতামত থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে বিবেচনা করা হবে।

