ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চান না ড. মুহাম্মদ ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img
spot_img

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আর বাড়বে না এবং নিজের ক্ষমতাও দীর্ঘায়িত করতে চান না। জাতীয় নির্বাচন বিষয়ে তিনি বলেন, এপ্রিলের পর আর সময় গড়াবে না। রাজধানীর হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’য় গতকাল রোববার দুই পর্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। এরপর রোববার বিকেলে তিনি একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে দুই দফা বৈঠকে বসেন।

প্রথম পর্বের বৈঠকে অংশগ্রহণকারী নেতারা
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ুম, এবি পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জু, সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদের খালেকুজ্জামান, জাতীয় গণফ্রন্টের টিপু বিশ্বাস, ভাসানী জনশক্তি পার্টির শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু ও জেএসডির শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বৈঠকে অংশ নেন।

দ্বিতীয় দফার বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দল ও সংগঠন
হেফাজতে ইসলামের মাওলানা সাজিদুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক, ড. আহমদ আবদুল কাদের, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, জমিয়তের মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, নেজামে ইসলাম পার্টির মাওলানা মুসা বিন ইজহার, এবং ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি।

বৈঠক পরবর্তী বক্তব্য ও প্রস্তাবনা
মাহমুদুর রহমান মান্না জানান, নির্বাচন কিভাবে হবে সে বিষয়ে সবার সঙ্গে খোলামেলা মতবিনিময় জরুরি। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, তিনি নিজে কোনোভাবেই সময় বাড়াতে চান না বা ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চান না।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, সংস্কারের মূল চেতনা যেন হারিয়ে না যায়, সেজন্য জনগণের অংশগ্রহণ জরুরি।

চরমোনাই পীর বলেন, প্রধান উপদেষ্টাকে রাজনৈতিকভাবে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না, তাকে ঘিরে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানান, মাঝপথে হাল ছেড়ে দেবেন না।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকার ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস চরমে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় কেবল বৈঠক নয়, কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।”

সাইফুল হক বলেন, সংবেদনশীল রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তগুলোতে রাজনৈতিক দলের মতামত নেয়া প্রয়োজন। আমরা একমত হওয়া কিছু বিষয়ে একটি সনদে স্বাক্ষরের প্রস্তাব দিয়েছি।”

মামুনুল হক বলেন, ২০২৬ সালের জুনের পর ড. ইউনূস আর ক্ষমতায় থাকবেন না—এই প্রতিশ্রুতি আমাদের আশ্বস্ত করেছে। পাশাপাশি, শাপলা চত্বরসহ সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের বিচারেরও দৃশ্যমান অগ্রগতি চেয়েছি।”

জোনায়েদ সাকি বলেন, “নির্বাচনের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ হলে রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুতি নিতে পারবে। প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, নির্বাচন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর হলেই সময় নির্ধারণ হবে।

নুরুল হক নুর বলেন, বিতর্কিত উপদেষ্টাদের অপসারণ ও সেনা বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের চেষ্টা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছি।

সর্বশেষ নিউজ