সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাতিলের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো সচিবালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা—কর্মচারীরা। আজ সকাল ১১টায় সচিবালয়ের বাদামতলায় কর্মচারীরা জড়ো হয়ে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিক্ষোভ শুরু করেন।
এই অধ্যাদেশকে ‘নিবর্তনমূলক ও কালাকানুন’ বলে অভিহিত করে দ্রুত তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা। আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি না মানা হলে তারা সচিবালয়ের প্রতিটি কক্ষে তালা লাগাবেন এবং বৃহত্তর কর্মসূচি দেবেন।
গতকাল রবিবারও সচিবালয় কর্মকর্তা—কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের ব্যানারে একটি মিছিল পুরো সচিবালয় প্রদক্ষিণ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সংশোধিত এই অধ্যাদেশ কর্মচারীদের অধিকার খর্ব করে এবং কর্মকর্তাদের রোষানলের ঝুঁকি বাড়ায়।

অধ্যাদেশে কী আছে?
নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা যদি— নানুগত্যমূলক কাজে লিপ্ত হন, কর্মবিরতি বা অনুপস্থিত থাকেন, অন্যদের কাজ না করতে প্ররোচিত করেন, কাজ করতে বাধা দেন—
তাহলে তারা “অসদাচরণ”—এর দায়ে দণ্ডিত হবেন। শাস্তি হিসেবে দেওয়া যেতে পারে: পদাবনতি, নিম্ন বেতন গ্রেডে নামিয়ে আনা, চাকরিচ্যুতি বা বরখাস্ত।
এ ছাড়া অভিযোগ গঠনের ৭ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং পরে আরও ৭ কর্মদিবসে শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিধান রয়েছে। আপিলের সুযোগ থাকলেও রাষ্ট্রপতির আদেশ চূড়ান্ত বলে ধরা হবে, শুধু পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে।
কর্মচারীদের অভিযোগ
বিক্ষোভকারীরা বলছেন, ১৯৭৯ সালের চাকরি বিধান ইতোমধ্যেই দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বাতিল হয়েছে। সেটি পুনরায় কার্যকর করার চেষ্টা নতুন সংকট সৃষ্টি করবে। তারা রেশন, সচিবালয় ভাতা পুনরায় চালুরও দাবি জানিয়েছেন।
বর্তমানে দেশে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা—কর্মচারী রয়েছেন, যারা এই অধ্যাদেশে কর্মচারী হিসেবে গণ্য হচ্ছেন।

