২০২৫ সালের কোরবানির ঈদ সামনে রেখে সারাদেশে আট লাখ ৮৭ হাজার ৫৪৪টি খামারে প্রস্তুত করা হয়েছে এক কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি কোরবানির পশু। এর মধ্যে শুধুমাত্র রাজশাহী বিভাগেই রয়েছে ৪৩ লাখ ৪৪ হাজার ৪৯টি পশু। চট্টগ্রাম বিভাগে রয়েছে ১৯ লাখ ৭৪ হাজার ৭৪টি এবং খুলনা বিভাগে ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৫৮৭টি। এই তিন বিভাগ মিলে দেশব্যাপী কোরবানির পশুর প্রায় ৭০ শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
বিশেষ করে রাজশাহী বিভাগ একাই দেশের মোট পশুর ৩৫ শতাংশ জোগান দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের তথ্যমতে, এ বছর চাহিদার অতিরিক্ত ২০ লাখ ৬৮ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।
ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ‘সেতু ডেইরি ফার্ম’-এর মালিক সাজ্জাদ হোসেন সেতু জানান, কয়েক মাস ধরে তিনি ১২টি গরু লালন-পালন করছেন। এর মধ্যে রোজার ঈদে ছয়টি গরু বিক্রি করেন ভালো দামে। এখন কোরবানির ঈদের জন্য বাকি ছয়টি গরু বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি একজন প্রশিক্ষিত এআই (কৃত্রিম প্রজনন) কর্মী হিসেবে প্রতি মাসে ১৫০ থেকে ২০০টি প্রজনন করে থাকেন। তাঁর উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় তরুণ ও নারীরা গরু পালনে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, ওই অঞ্চলে আড়াই মণ ওজনের গরু বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯৫ হাজার টাকায়। আর পাঁচ মণ ওজনের বড় গরুগুলো বিক্রি হচ্ছে এক লাখ ৭০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঠপর্যায়ে এখনো অনেক প্রতিষ্ঠানে বৈজ্ঞানিকভাবে কৃত্রিম প্রজনন বাস্তবায়ন হচ্ছে না। দীর্ঘদিনের পুরনো বীজ ব্যবহার করায় কাঙ্ক্ষিত উৎপাদনও মিলছে না। গরু মোটাতাজাকরণ কার্যক্রমকে আরও আধুনিকায়ন ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচালনা করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ডা. মো. বয়জার রহমান বলেন, পশু লালন-পালনের ক্ষেত্রে দেশে যে স্বনির্ভরতা এসেছে, তার পেছনে রয়েছে প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত জাতের গরুর প্রজনন, এবং সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতার সম্মিলিত প্রয়াস। তিনি বলেন, “দেশের মানুষ যেমন মাংস খাওয়ার দিকে আগ্রহী হচ্ছে, তেমনি আমাদেরও দরকার কৃত্রিম প্রজনন ও ব্রিড উন্নয়নকে বেগবান করা। তবে দেশীয় গরুর জাত সংরক্ষণের দিকেও নজর রাখতে হবে।”

