আদালতের মাধ্যমে পিতার কাছ থেকে যমজ সন্তান কেড়ে নিলেন মা

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img
spot_img

চাঁদপুরে তিন বছর পর হঠাৎ করে সন্তান দাবি করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এক মা। আদালতের রায়ে যমজ নাবালক সন্তানদের হেফাজত ফিরে পেয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) চাঁদপুর আদালতে এ ঘটনাটি ঘটে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার বিরামপুর ইউনিয়নের তারেক নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে সুমাইয়া নামে ওই নারীর বিয়ে হয়েছিল। তাদের সংসারে তিনটি সন্তান — একজন দশ বছর বয়সী ছেলে এবং যমজ নাবালক সন্তান।
তিন বছর আগে সুমাইয়া তার তিন সন্তানকে রেখে অন্য এক পুরুষের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে সংসার ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ। এরপর থেকে সন্তানদের লালনপালন করে আসছিলেন তাদের পিতা তারেক।

দীর্ঘ তিন বছর সন্তানদের কোন খোঁজখবর না নেওয়ার পর হঠাৎই সুমাইয়া আদালতের দ্বারস্থ হন। তিনি অভিযোগ করেন, তার প্রাক্তন স্বামী যমজ সন্তানদের জোরপূর্বক আটকে রেখেছেন এবং আদালতের মাধ্যমে সন্তানদের হেফাজত দাবি করেন।

মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) চাঁদপুরের ৭ ধারা আদালতের বিচারক বাদীর পক্ষে রায় প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশে যমজ সন্তানদের মায়ের হেফাজতে দেওয়া হয়।

রায়ের পরপরই আদালত প্রাঙ্গণে হৃদয়বিদারক এক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সন্তানদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কষ্টে ভেঙে পড়েন পিতা তারেক। আদালত পাড়ায় তার আহাজারিতে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সাক্ষীরা জানান, রায় ঘোষণার তিন ঘণ্টা পরও তিনি আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থান করছিলেন।

বিবাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব। যেহেতু বিবাদী তারেক বিগত তিন বছর ধরে একাই নাবালক সন্তানদের লালন-পালন করেছেন এবং মা কোনো খোঁজ নেননি, তাই আমরা মনে করি শিশুদের স্বার্থে তারা পিতার পরিবারেই নিরাপদ থাকবে।

সর্বশেষ নিউজ