দুদকের গণশুনানিতে প্রাথমিকের দুই প্রধান শিক্ষক বহিষ্কার

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
spot_img
spot_img

পঞ্চগড়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী ও দপ্তরি নিয়োগের নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কারের আদেশ দিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন। রোববার দুপুরের পর স্থানীয় সরকারি অডিটোরিয়ামে দুদকের গণশুনানিতে তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী এ আদেশ দেন। বহিষ্কৃত দুই শিক্ষক হলেন পঞ্চগড় সদর উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হায়াত বাবুল এবং বুড়িরবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঝরেন রায়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, ডাঙ্গাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হায়াত বাবুল ভুয়া সার্কুলার দিয়ে নৈশপ্রহরী হিসেবে নিয়োগের কথা বলে আল আমিন নামে এক ব্যক্তির কাছে ৫ লাখ টাকা ঘুষ নেন। পরে তিনি ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ফেরত দিলেও ৮০ হাজার টাকা ফেরত দেননি।

এ ঘটনায় দুদকের গণশুনানিতে অভিযোগ তোলেন আল আমিন। শুনানিতে ওই প্রধান শিক্ষক টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করলে তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের আদেশ দেয় কমিশন। একই সঙ্গে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে আল আমিনের পাওনা ৮০ হাজার টাকা তাকে না দিয়ে সরকারি কোষাগারে ডিসেম্বরের মধ্যে জমা করারও নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে ৪ বছর আগে বুড়িরবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি হিসেবে নিয়োগের কথা বলে নাসরিন আক্তার নামে এক নারীর কাছে আড়াই লাখ টাকা ঘুষ নেন প্রধান শিক্ষক ঝরেন রায়। ৪ বছর চেষ্টা করেও তিনি টাকা ফেরত পাননি। তবে দুদকের গণশুনানিতে অভিযোগ জমা দেওয়ার খবর শুনেই শুক্রবার তিনি সব টাকা ফেরত দেন। গণশুনানিতে ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করায় তাকেও সাময়িক বহিষ্কারের আদেশ দেয় কমিশন।

পঞ্চগড় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফ আহম্মেদ বলেন, ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গণশুনানিতে দুই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কারের জন্য আদেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা সরাসরি সাময়িক বহিষ্কার করতে পারি না। তাই অধিদপ্তরের মাধ্যমে তাদের সাময়িক বহিষ্কার করা হবে।

সর্বশেষ নিউজ