শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে ‘গভীর দুঃখ’ প্রকাশ করে। বিবৃতিতে বলা হয়, আইসিসিকে অবশ্যই স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।
এদিকে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, আইসিসিতে আরোপিত নতুন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি তারা নোট করেছে এবং ওয়াশিংটনের প্রতি আদালতের বিরুদ্ধে নেওয়া সব ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে তারা আরও বলেছে, ‘ফ্রান্স আইসিসি, এর কর্মী এবং আদালতকে সমর্থনকারী নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সব ধরনের হুমকি ও চাপমূলক ব্যবস্থার নিন্দা জানায়।’
বেলজিয়ামও এই সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞা বিচারিক স্বাধীনতা এবং দায়মুক্তির বিরুদ্ধে লড়াইকে আরও দুর্বল করে দেবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, বেলজিয়াম আইসিসির স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কার্যক্রমে সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে ‘গভীর অনুশোচনা’ প্রকাশ করেছে এবং আইসিসিকে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের দৃঢ় সমর্থনের কথা জানিয়েছে।
এছাড়া স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও নরওয়ের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং আইসিসির স্বাধীনতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
এর জবাবে আইসিসি এক বিবৃতিতে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করে একে একটি ‘নিরপেক্ষ বিচারিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতার ওপর প্রকাশ্য আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছে।
এই নিষেধাজ্ঞাগুলো এমন এক সময়ে এলো, যখন এর আগেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিতে ভূমিকা রাখা আইসিসি কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। ওই পরোয়ানায় গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় চলমান হামলায় এখন পর্যন্ত ৭০ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এতে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ। যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হলেও হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

