ঢাকা শহরের কোথাও নিজের এক ইঞ্চি জমিও নেই, নেই কোনো গাড়ি বা বিলাসবহুল জীবন। হাতে সামান্য কিছু নগদ টাকা আর কয়েক ভরি স্বর্ণালংকার—এমনই এক সাদামাটা ও স্বচ্ছ হলফনামা নিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনীতির ময়দানে চমক সৃষ্টি করেছেন তরুণ নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এই মুখ্য সমন্বয়ক এবার দেশের অন্যতম আলোচিত আসন ঢাকা-৮ (রমনা-মতিঝিল) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হলফনামা অনুযায়ী, নাসীরুদ্দীনের মোট সম্পদের পরিমাণ ৪০ লাখ টাকা, যার পুরোটাই অস্থাবর। তার নগদ ২৫ লাখ টাকার বিপরীতে ব্যাংকে জমার পরিমাণ নগণ্য—মাত্র ১৮ হাজার টাকা। পেশায় মার্কেটিং কনসালট্যান্ট এই নেতার বার্ষিক আয় মাত্র সাড়ে ৪ লাখ টাকার মতো। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বর্তমানের ঋণনির্ভর রাজনীতির যুগে তার বা তার পরিবারের কোনো ব্যাংক দেনা বা ঋণ নেই।
২০১৩ সালে দুটি রাজনৈতিক মামলার ঘানি টানলেও ২০২৫ সালে সসম্মানে খালাস পেয়ে তিনি এখন সম্পূর্ণ দায়মুক্ত। ঢাকা-৮ আসনের হেভিওয়েট প্রার্থী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বিপরীতে তার এই ‘সীমিত সম্পদের’ হিসাব ভোটারদের মনে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঢাকা-৮ আসনটি এখন নিছক ভোটের লড়াই নয়, বরং একটি বিচার এবং আবেগের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের নিহত মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি এই আসন থেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সম্প্রতি তার নৃশংস হত্যাকাণ্ড গোটা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার প্রচারণায় হাদি হত্যার বিচারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থী সরিয়ে নিয়ে নাসীরুদ্দীনকে সমর্থন জানিয়েছে, যা এই তরুণ নেতার অবস্থানকে আরও সংহত করেছে।
এদিকে, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। আজ (১ জানুয়ারি, ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার অন্যতম দুই সহযোগী সঞ্জয় চিসিম ও মো. ফয়সাল নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

