মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাঝেই লেবাননে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। স্থানীয় সময় শনিবার (৯ মে) লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে চালানো এই সামরিক অভিযানে অন্তত ৩৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরাইলি অবস্থানে পাল্টা আঘাত হেনেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। চলমান এই হামলা-পাল্টা হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আবারও পূর্ণমাত্রার সংঘাতে রূপ নেয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
কোথায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি? শনিবার লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের টাইর শহরজুড়ে একের পর এক ইসরাইলি বিমান হামলা চালানো হয়। টাইর ছাড়াও বুদইয়াস, নাবাতিয়েহ, বিনতে জবেইল ও সাইদার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হামলার খবর পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে সাকসাকিয়েহ এলাকায়। সেখানে বাস্তুচ্যুত মানুষদের আশ্রয় দেয়া একটি ভবনে অভিযান চালালে একটি শিশুসহ অন্তত সাতজন প্রাণ হারান। এছাড়া সাদিয়াত, নাহরাইন, হাবুশ ও মেফদুন এলাকাতেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অন্তত ৩৯ জন নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আটকে পড়াদের উদ্ধারে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে লেবাননের সিভিল ডিফেন্স।
হিজবুল্লাহর পাল্টা জবাব ইসরাইলি হামলার পর পাল্টা প্রতিরোধ অব্যাহত রেখেছে হিজবুল্লাহও। সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি অবস্থান লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
নেতানিয়াহু বাহিনীও এই হামলার কথা স্বীকার করেছে। তেল আবিবের দাবি, সীমান্তের কাছে হিজবুল্লাহর একটি ড্রোন বিস্ফোরণে তাদের তিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়া দক্ষিণ লেবাননে অভিযান চালানো সেনাদের লক্ষ্য করে একাধিক প্রজেক্টাইল ছোড়ার কথাও জানিয়েছে ইসরাইল।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও মানবিক সংকট হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংকট ব্যবস্থাপনা প্রধান হাদজা লাহবিব। লেবানন সফরকালে তিনি জানান, পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা প্রস্তুত থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান।
শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ কী? গত ১৬ এপ্রিল থেকে ইসরাইল সরকার ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলছে, যার ঘোষণা দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এই চুক্তির মধ্যেই উভয় পক্ষ একাধিকবার অস্ত্র তুলে নিয়েছে।
এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝেই আগামী ১৪ ও ১৫ মে ওয়াশিংটনে দ্বিতীয় দফার ইসরাইল-লেবানন আলোচনার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বৈরুত স্পষ্ট জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের আলোচনা শুরুর আগে ইসরাইলকে অবশ্যই লেবাননের মাটিতে হামলা বন্ধ করতে হবে।

