যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা আবারও থমকে গেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ – হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে নতুন করে তীব্র অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে, যেখানে লাফিয়ে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম।
সোমবার (১১ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, রোববার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩.১৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪.৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দামও, যা ৩.২১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৮.৪৮ ডলার ছুঁয়েছে।
কূটনৈতিক পর্যায়ে অচলাবস্থার কথা স্বীকার করে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রস্তাবে একটি ‘স্পষ্ট সীমা’ নির্ধারণ করে দিয়েছিল। ইরান সেই প্রস্তাবের জবাব দিলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন।
এদিকে, কোনো চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়ায় হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি চালুর সম্ভাবনা এখন ঘোর অনিশ্চয়তায়। উল্লেখ্য, এই সমুদ্রপথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়ে থাকে। পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যেসব দেশ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে, তাদের জাহাজ এই প্রণালীতে চলাচলের সময় মারাত্মক বাধার সম্মুখীন হতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি জাহাজ ও সমুদ্রবন্দরের ওপর তাদের অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। গত শুক্রবার অবরোধ অমান্য করার অভিযোগে দুটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
এই ধারাবাহিক অস্থিরতার কারণে বর্তমান তেলের দাম যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়ে গেছে। এর চূড়ান্ত মাসুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন জ্বালানির গড় দাম এখন ৪.৫২ ডলারে পৌঁছেছে, যা কিছুদিন আগেও ৩ ডলারের নিচে ছিল।

