ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে গত সপ্তাহে তেহরানে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। রোববার ওই প্রস্তাবের লিখিত জবাব দেয় তেহরান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সেই জবাবকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট দিয়েছেন।
ট্রাম্পের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের অল্প সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার (১১ মে) ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্পের পোস্ট দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম প্রতি ব্যারেলে ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে যায়।
এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হচ্ছে ১০৪ দশমিক ০৬ ডলারে। অন্যদিকে, ডব্লিউটিআই প্রতি ব্যারেল বিক্রি হচ্ছে ৯৭ দশমিক ৯৭ ডলারে।
এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক ব্যাংকিং ও হোল্ডিং প্রতিষ্ঠান জেপি মর্গানের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ব্রুস কাসমান রয়টার্সকে বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ১১তম সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। গত ১১ সপ্তাহ ধরে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও বন্ধ রয়েছে। জ্বালানি তেলের বাজারে বর্তমান অস্থিরতার প্রধান কারণ হলো এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পণ্যের পরিবহন বন্ধ থাকা।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “যদি এই যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হয় এবং প্রণালি বন্ধ থাকে, তাহলে সামনের দিনগুলোতে তেলের বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে।”
(সূত্র: রয়টার্স)

