বাণিজ্য যুদ্ধ ও তাইওয়ান সংকটের মাঝেই সমঝোতার পথে আমেরিকা-চীন!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
spot_img
spot_img
বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে বড় দুই প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। গত কয়েক বছরে বাণিজ্য যুদ্ধ, প্রযুক্তিগত নিষেধাজ্ঞা, তাইওয়ান সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত—সব মিলিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক এক চরম উত্তেজনার পর্যায়ে পৌঁছেছে। কিন্তু তীব্র এই প্রতিযোগিতার মাঝেই এবার স্পষ্ট হচ্ছে এক নতুন বাস্তবতা। পুরোপুরি সংঘাত নয়, বরং নানা দ্বন্দ্বের মাঝেই কৌশলী সমঝোতা খুঁজছে ওয়াশিংটন ও বেইজিং।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’-এর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালির উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট—এই বিষয়গুলো দুই পরাশক্তিকেই নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও, বিশ্ব অর্থনীতি এখনো এই দুই দেশের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। ফলে সংঘাত বাড়লে অর্থনৈতিক ধস সামলাতে হবে দুজনকেই।

ট্রাম্প-শি জিনপিং বৈঠক ও নতুন মেরুকরণ সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক নিছক কোনো কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং বর্তমান বৈশ্বিক সংকট সামাল দেওয়ার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টা।

হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে একমত দুই দেশ সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, ইরান যখন হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ কড়াকড়ি শুরু করে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ে, তখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন প্রকাশ্যে একই অবস্থান নেয়। আন্তর্জাতিক এই জলপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং কোনো ধরনের ‘টোল’ বা অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতায় দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছে। দীর্ঘদিন পর এমন একটি ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের একমত হওয়া ভূরাজনীতিতে বিশাল তাৎপর্য বহন করে।

দ্বন্দ্ব কি তবে শেষ? একেবারেই না। বাণিজ্য ও প্রযুক্তি খাতে সংঘাত এখনো তীব্র। যুক্তরাষ্ট্র চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চিপ শিল্প ও বৈদ্যুতিক গাড়ি খাতে ক্রমাগত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে। অন্যদিকে চীনও গড়ে তুলছে অর্থনৈতিক প্রতিরোধ। তাইওয়ান প্রশ্নেও দুই দেশের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে তাইওয়ানের নিরাপত্তা জোরদার করছে, চীন সেখানে যেকোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে।

কেন এই ‘নিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতা’? ইরান যুদ্ধ প্রমাণ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি দীর্ঘমেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যে জড়িয়ে পড়ে, তবে এশিয়ায় চীনের প্রভাব বহুগুণ বেড়ে যাবে। অন্যদিকে চীনও জানে, অতিরিক্ত সংঘাত বিশ্ববাজারকে অস্থিতিশীল করে তাদের নিজেদের অর্থনীতিকেও খাদের কিনারে ঠেলে দেবে। এ কারণেই চীন প্রকাশ্যে কোনো পক্ষ না নিয়ে স্থিতিশীলতা ও সংলাপের কথা বলছে।

আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বর্তমান বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক অনেকটা ‘সহযোগিতামূলক প্রতিদ্বন্দ্বিতার’ মতো। তারা একে অপরকে ঠেকাতে চায় ঠিকই, কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ধাক্কা যে কাউকেই ছাড়বে না, সেই বাস্তবতাও তারা খুব ভালো করেই বোঝে।

(সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা, তাইওয়ান প্লাস, দ্য ন্যাশনাল)

সর্বশেষ নিউজ