পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে মিরসরাই উপজেলায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ ও বিক্রিকে কেন্দ্র করে এবার দেখা দিয়েছে চরম অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা। উপজেলার বিভিন্ন বাজার, সড়ক ও অস্থায়ী সংগ্রহ কেন্দ্রে হাজার হাজার গরু ও ছাগলের চামড়া স্তূপ করে রাখা হলেও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা না থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চামড়া ব্যবসায়ী, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও প্রান্তিক সংগ্রহকারীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, মিরসরাই সদর, বারইয়ারহাট, জোরারগঞ্জ, মস্তাননগর, আবুতোরাব ও ওয়াহেদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় লবণ ছাড়া চামড়া ফেলে রাখা হয়েছে। অনেক চামড়া ইতোমধ্যে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও বিরক্তি দেখা দিয়েছে।
চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর চট্টগ্রাম শহর থেকে বড় বড় পাইকার এসে চামড়া কিনে নিয়ে গেলেও এবার এখনো তেমন ক্রেতা আসেনি। ফলে চামড়া সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজারে পর্যাপ্ত লবণের সংকট থাকায় চামড়া দীর্ঘসময় ভালো রাখাও সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় চামড়া সংগ্রহকারী আব্দুল মালেক বলেন, “সারাদিন চামড়া সংগ্রহ করেছি। কিন্তু কোনো বড় পাইকার আসেনি। লবণও ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। রাতে বিক্রি না হলে মাটিতে পুঁতে ফেলা ছাড়া উপায় থাকবে না।”
আরেক ব্যবসায়ী মো. ইলিয়াছ জানান, “গত বছর যে চামড়া ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এবার সেই চামড়ার কোন ক্রেতা নেই । পরিবহন খরচও উঠবে না।”
মিরসরাইয়ের বিভিন্ন কওমি ও এতিমখানা মাদ্রাসাগুলোও এবার চামড়া বিক্রি নিয়ে বড় সংকটে পড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান কোরবানির চামড়ার উপর নির্ভর করে বছরের বিভিন্ন খরচ পরিচালনা করে থাকে। কিন্তু বাজারে চাহিদা না থাকায় হতাশ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
মিরসরাইয়ের আবুরহাট মনিরুল ইসলাম মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, ৫ শতাধিক কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে মহা সংকটে আছি। অন্যান্য বছর চট্টগ্রাম ও ফেনীর চামড়া ক্রেতারা ফোনে যোগাযোগ করে গাড়ি পাঠিয়ে দিত, এবার কেউ যোগাযোগ করেনি। নিরুপায় হয়ে বিকাল ৫টায় ফেনীর পরিচিত এক ব্যাবসায়ীকে ফোন করেছি। উনি একটি গাড়ি পাঠিয়েছে, টাকার কথা বলি নাই, খুশি করে যা দেন। আমাদের খাল সংগ্রহের খরচও উঠবে না। প্রশাসন থেকে চামড়া সংগ্রহের জন্য ৫০ ব্যাগ লবণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি ।
চামড়া ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, শুধুমাত্র মিরসরাই উপজেলাতেই আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ হাজার গরু ও ছাগলের চামড়া সংগ্রহ হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই এখনো বিক্রি হয়নি। বাজারদর ধস ও সংরক্ষণ সংকটের কারণে প্রায় ১ কোটি টাকার বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তারা জানান, চট্টগ্রাম নগরী ও আশপাশের ট্যানারি সংশ্লিষ্ট পাইকাররা দ্রুত না এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। অনেক চামড়া শেষ পর্যন্ত নষ্ট হয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, কোরবানির মৌসুমে চামড়া সংরক্ষণ, লবণ সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় না থাকায় প্রতি বছরই এমন সংকট তৈরি হয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি ও দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন।

