সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেনের শীর্ষ ২০ কোম্পানির তালিকায় (বাইভ্যালু টপটুয়েন্টি) শক্তিশালী অবস্থানে উঠে এসেছে সিমেন্ট খাতের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস পিএলসি। বাজারজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ার ক্রয়ে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ বা বাই-প্রেসার লক্ষ্য করা গেছে। তবে ব্যবসায়িক পারফরম্যান্স ও শেয়ার দরে বড় চমক থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির বিশাল ঋণের দায় নিয়ে বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতকাল দিনশেষে কোম্পানিটির মোট ৩৭ লাখ ৭ হাজার ৬৪৬টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যার মোট আর্থিক মূল্য ১৬ কোটি ৪২ লাখ ৭০ হাজার টাকা (১৬৪.২৭ মিলিয়ন)। দিনজুড়ে ১ হাজার ৬১টি ট্রেডের মাধ্যমে এই বড় ভলিউমের লেনদেন সম্পন্ন হয়। শেয়ারটির বাজার মূল্যেও বড় ধরনের উত্থান ঘটেছে। বুধবারে সমাপনী মূল্য ৪২ টাকা ৮০ পয়সার বিপরীতে গতকাল প্রিমিয়ার সিমেন্টের শেয়ার দর ৯.৮১% বা ৪ টাকা ২০ পয়সা বৃদ্ধি পেয়ে ঠিক ৪৭ টাকায় গিয়ে স্থিতি পায়। লেনদেন চলাকালীন শেয়ারটির দর সর্বনিম্ন ৪২ টাকা ১০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৪৭ টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করে। এই মূল্য বৃদ্ধির ফলে বর্তমানে কোম্পানিটির মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৪,৫১৩.২৬ মিলিয়ন বা ৪৫১ কোটি ৩২ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
কোম্পানিটির সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তীকালীন আর্থিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৬ সালের মার্চে সমাপ্ত ৯ মাসের অনিরীক্ষিত ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১.৯৯ টাকা। এর মধ্যে প্রথম কোয়ার্টারে ০.১২ টাকা, দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ০.০৭ টাকা এবং বিশেষ করে তৃতীয় কোয়ার্টারে বড় লাফ দিয়ে ১.৮০ টাকা ইপিএস অর্জন করেছে কোম্পানিটি। বৃহস্পতিবার শেয়ার দর ৪৭ টাকা হওয়ায় অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীর ভিত্তিতে এর বর্তমান মূল্য-আয় অনুপাত বা পি/ই রেশিও দাঁড়িয়েছে ১৭.৭১। সর্বশেষ মে ৩১, ২০২৬ তারিখের শেয়ারহোল্ডিং পজিশন অনুযায়ী, কোম্পানিটির ৩৫.৯৯% শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা/পরিচালকদের হাতে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৫.৯০%, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ০.০১% এবং সাধারণ পাবলিকের কাছে ৩৮.১০% শেয়ার রয়েছে।
ব্যবসায়িক মুনাফা ও শেয়ার দরের এই ইতিবাচক চিত্রের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির ওপর থাকা বড় অঙ্কের ঋণের দায় বাজার সংশ্লিষ্টদের ভাবিয়ে তুলছে। আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছর শেষে কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদী ঋণের পরিমাণ ছিল ৫,৩৫৯.৫৯ মিলিয়ন টাকা (প্রায় ৫৩৫.৯৬ কোটি টাকা), পক্ষান্তরে স্বল্পমেয়াদী ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৯,৩৮৭.১১ মিলিয়ন টাকা (প্রায় ১,৯৩৮.৭১ কোটি টাকা)। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির মোট ঋণের পরিমাণ ২৪,৭৪৬.৭ মিলিয়ন টাকা বা ২,৪৭৪.৬৭ কোটি টাকা, যার প্রায় ৭৮.৩৪ শতাংশই স্বল্পমেয়াদী দায়। এই বিপুল পরিমাণ স্বল্পমেয়াদী ঋণ কোম্পানির চলতি মূলধন ব্যবস্থাপনা ও তারল্যের ওপর বড় ধরনের চাপ নির্দেশ করে, যা আগামী দিনগুলোতে তাদের অর্থপ্রবাহ এবং নিট মুনাফায় বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

