আকাশে হঠাৎ বিদ্যুতের ঝলকানি আর বজ্রপাত, তার পরপরই শুরু হলো তীব্র বাতাস। মাত্র দুই মিনিটের এক তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার তিনটি গ্রাম। আকস্মিক এই ঝড়ে উপড়ে পড়েছে শত শত গাছপালা, ধসে পড়েছে ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এমনকি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতবর্ষী প্রাচীন বটগাছ উপড়ে গিয়ে ভেঙে গেছে স্কুলের সীমানা প্রাচীর।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) বিকেলে উপজেলার গোপকগ্রাম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সন্তোষপুর, ২ নম্বর এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওপর দিয়ে এই তীব্র ঝড় বয়ে যায়। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হতে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তীব্র বেগে ঝড় শুরু হয়। মাত্র দুই মিনিটের এই স্থায়ী ঝড়ে সন্তোষপুর ও গোপকগ্রামের কয়েকশ ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। ঝড়ের আঘাতে গোপকগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে থাকা ঐতিহাসিক শতবর্ষী বটগাছটি উপড়ে পড়ে এবং বিদ্যালয়ের প্রাচীরটি ভেঙে যায়।

গোপকগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল আলিম সরদার আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “১৯৮৪ সালের পর এলাকায় এমন ভয়াবহ ঝড় আমি আর দেখিনি। মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু ভেঙে শেষ হয়ে গেছে।” ঝড়ে তিনটি গ্রামে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দাবি করে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি সহায়তার জোর দাবি জানান তিনি।
খোকসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, ঝড়ে কয়েকটি গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। প্রশাসন দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করবে এবং সরকারি বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
#এম_আর

