চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকার সিএমএম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে এই আদেশ প্রদান করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশনা আসে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে নিউ ইস্কাটনের নিজ বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তৎকালীন সময়ে এ ঘটনায় রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মৃত্যুর ঘটনাটি রহস্যের ঘেরাটোপে বন্দি থাকায় এর প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়ে আসছেন তার পরিবার ও স্বজনরা।
গত বছরের ২১ অক্টোবর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি’র পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ আদালতে মরদেহ উত্তোলনের আবেদন করেন। এখন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আইনি প্রক্রিয়ায় মরদেহ উত্তোলন করা হবে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও পুনরায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে।
সালমান শাহ হত্যা মামলায় যে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে, তারা হলেন:
-
সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক
-
শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই
-
লতিফা হক লুছি
-
খলনায়ক ডন
-
ডেবিট, জাভেদ ও ফারুক
-
মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি
-
আব্দুস সাত্তার
-
সাজু
-
রেজভি আহমেদ ফরহাদ
তদন্তসংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন করে ময়নাতদন্ত ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে বহু বছর ধরে ঝুলে থাকা এই মামলার রহস্যের জট খুলবে।

