বন্ধ ঘর থেকে ছড়াচ্ছিল তীব্র দুর্গন্ধ! ফতুল্লায় পোশাক কারখানার প্রাক্তন কর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নারায়নগঞ্জ কার্যালয়
spot_img
spot_img

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি তালাবদ্ধ ভাড়া বাসা থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবকের গলিত ও ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় মডেল থানা পুলিশ। আজ ১২ জুন (শুক্রবার) সকালে ফতুল্লার চাঁদমারী মসজিদ সংলগ্ন বিলকিস আক্তারের বহুতল বাড়ি থেকে এই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ঘরের ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ানোর পর বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ গিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশটি নামিয়ে আনে।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি দ্রুত নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত যুবকের বিস্তারিত পরিচয় ও তাঁর পরিবারের সন্ধান এখনো মেলেনি।

লাশের দুর্গন্ধ ও জানালার ফাঁকে দেখা গেল বীভৎস দৃশ্য

পুলিশ ও বাড়িওয়ালা সূত্রে জানা গেছে, নিহত ওই যুবকের নাম অপু (৩৫)। তাঁর গ্রামের বাড়ি খুলনা জেলায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেলেও তাঁর স্থায়ী বিস্তারিত ঠিকানা এবং পরিবারের কোনো স্বজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

বাড়ির মালিক বিলকিস আক্তার ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, অপু গত কয়েক বছর ধরে তাঁর বাড়ির একটি কক্ষে ব্যাচেলর সাবলেট হিসেবে একা ভাড়া থাকতেন। শুক্রবার সকালে অপুর কক্ষের আশপাশ থেকে তীব্র পচা দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে অন্য ভাড়াটিয়ারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং ঢাকার অবস্থানরত বাড়িওয়ালাকে মোবাইল ফোনে খবর দেন। খবর পেয়ে বিলকিস আক্তার তড়িঘড়ি করে ঢাকা থেকে ফতুল্লার চাঁদমারীস্থ বাসায় এসে দেখেন অপুর ঘরের মেইন দরজাটি ভেতর থেকে শক্ত করে লক করা। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে একপর্যায়ে জানালার ফাঁক দিয়ে ঘরের ভেতরে তাকানো হলে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে অপুর মরদেহ ঝুলতে দেখা যায়। এরপরই তারা স্থানীয় থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে লাশ উদ্ধার করে।

ফতুল্লায় মরদেহ উদ্ধার ও নিহতের প্রাথমিক বিবরণ:

নিহত যুবকের নাম আনুমানিক বয়স ও গ্রামের বাড়ি ঘটনার স্থান ও সময় কর্মজীবন ও বর্তমান অবস্থা
অপু (বিস্তারিত নাম অজ্ঞাত)। ৩৫ বছর (ধারণা); খুলনা জেলা। চাঁদমারী মসজিদ সংলগ্ন বাড়ি, ফতুল্লা; শুক্রবার সকাল। সাবেক পোশাক শ্রমিক; বিগত ২ বছর ধরে সম্পূর্ণ বেকার ছিলেন।
পোশাক কারখানার চাকরি হারিয়ে ২ বছর ধরে বেকারত্ব

বাড়ির মালিক বিলকিস আক্তার আরও জানান, অপু অতীতে এলাকার একটি পোশাক কারখানায় (গার্মেন্টস) নিয়মিত চাকরি করতেন। কিন্তু বিগত প্রায় দুই বছর ধরে তিনি পুরোপুরি কর্মহীন ও বেকার জীবনযাপন করছিলেন। দীর্ঘদিনের বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তিনি কোনো মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তাঁর ঘরে অন্য কারও যাতায়াত ছিল কি না, সে বিষয়েও পাশের রুমের মেস মেম্বার ও ভাড়াটিয়াদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পরিচয় শনাক্তে সিআইডির ক্রাইম সিন ও প্রযুক্তির ব্যবহার

হত্যাকাণ্ড নাকি হতাশা থেকে আত্মহত্যা— এই রহস্যের জট খুলতে কাজ শুরু করেছে পুলিশ। ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “মরদেহের অবস্থা দেখে এবং লাশে পচন ধরার ধরন বিবেচনা করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত ৩ থেকে ৪ দিন আগে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় এটি প্রথম দেখায় আত্মহত্যা বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।”

ওসি আরও জানান, যেহেতু নিহতের পুরো নাম, বর্তমান ঠিকানা কিংবা তাঁর কোনো স্বজনের মোবাইল নম্বর পাওয়া যায়নি, তাই পরিচয় নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ ও সিআইডির বিশেষ ক্রাইম সিন টিম আধুনিক প্রযুক্তির (আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও এনআইডি ডাটাবেজ) সহায়তা নিচ্ছে। অপুর সঠিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়া মাত্রই তাঁর স্বজনদের খবর দেওয়া হবে এবং ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট এলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। এই ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সর্বশেষ নিউজ