মাত্র ১০ দিন আগে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার জেরে ইরানে মার্কিন বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এই পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের ফলে গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি কার্যত ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ওমান উপকূলের কাছে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এভার লাভলি’-তে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলাকে গত ১৭ জুনের সমঝোতা স্মারকের ‘বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করে কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দেন। এর জবাব দিতেই শুক্রবার দিবাগত রাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্টেশন লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।
মার্কিন হামলার পরপরই ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক টেলিগ্রাম বার্তায় আইআরজিসি জানায়, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। বাহিনীর পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, “আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি হলে আমাদের প্রতিক্রিয়া আরও ব্যাপক ও কঠোর হবে।” একই সাথে তারা দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করছে।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি এই হামলার জেরে ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে উদ্ধার অভিযান ও জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শান্তি আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংঘাতের তীব্রতা অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম আবারও আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

