যে কোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে, সংসদে ভবিষ্যৎমুখী অর্থনীতির ডাক প্রধানমন্ত্রীর

টেবিল প্রতিবেদন
spot_img
spot_img

উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের বহুল প্রতীক্ষিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ (Teesta Mega Plan) নিয়ে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের চূড়ান্ত ও দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো বাধা বা অতীতের স্থবিরতা নয়, বরং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যে কোনো মূল্যে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার। একই সাথে তিনি রাজনৈতিক কোন্দল ভুলে অতীত বাদ দিয়ে দেশবাসীকে সাথে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার (২৯ জুন) বেলা পৌনে ১২টার দিকে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

‘অতীতের দিকে না তাকিয়ে সামনে এগোতে চাই’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে দেশের দীর্ঘদিনের তিস্তা পানি বণ্টন সংকট ও উত্তরাঞ্চলের খরা-বন্যা পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে দূর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যে কোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। আমরা অতীতের দিকে না তাকিয়ে সামনের দিকে এগোতে চাই।”

তিনি সংসদে রাজনৈতিক বিতর্কের সংস্কৃতির পরিবর্তন চেয়ে বলেন, “এই সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে কিছু বিষয়ে ঐকমত্য ও কিছু বিষয়ে দ্বিমত থাকলেও জনগণের মধ্যে আমরা আশার সঞ্চার করতে পেরেছি৷ যদিও আমরা সংসদে যতটা ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছি, এর চেয়ে বেশি অতীত নিয়ে কথা বলেছি। তবে জনগণ চায় আমরা ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলি।”

💡 স্বস্তির বাজেট: প্রধানমন্ত্রী এবারের বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, অতীতের স্বৈরাচারের সময় ব্যক্তি স্বার্থে দেশের অর্থনীতিকে কুচি কুচি করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে দেশে একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং অর্থনৈতিক সংকট, অর্থ পাচার ও দুর্নীতি সামনে রেখেই এই বাজেট দিতে হয়েছে।

৬১টি পণ্যের শুল্ক প্রত্যাহার, বাড়েনি দাম

সরকারপ্রধান নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের সফলতার খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করেছি এ বাজেট দিয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে। নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬১টি পণ্যের শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে অন্য বছরগুলোর মতো এ বছর বাজেটের আগে বা পরে নতুন করে কোনো নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি। আমরা কিছুটা হলেও জনগণকে স্বস্তি দিতে পেরেছি।”

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার বোঝা লাঘব করার লক্ষ্যেই উন্নয়ন বাজেট আরও ৫০ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। দেশের সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদন বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

EDITORIAL TAKE: তিন ধাপে অর্থনীতি সাজানোর ছক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাজেট বক্তব্যের মূল অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি ও রোডম্যাপ এক নজরে:

অর্থনৈতিক স্তর (Economic Phase) মূল লক্ষ্য (Key Target) বাস্তবায়নের কৌশল (Execution Method)
১. পুনরুদ্ধার (Recovery) ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। অর্থ পাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি।
২. উত্তরণ (Transition) নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার বোঝা লাঘব। ৬১টি নিত্যপণ্যের শুল্ক প্রত্যাহার ও বাজার স্থিতিশীল রাখা।
৩. পুনর্গঠন (Reconstruction) অর্থনীতির একটি স্থায়ী ও শক্তিশালী ভিত গড়া। উন্নয়ন বাজেট ৫০ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ।

অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ নেতার এই বক্তব্য একদিকে যেমন তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে উত্তরাঞ্চলের মানুষের মাঝে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার করেছে, অন্যদিকে বাজেটের পর নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার দাবিটি সরকারের জন্য একটি বড় স্বস্তির জায়গা তৈরি করেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে অর্থ পাচার রোধ এবং ৫০ হাজার কোটি টাকার বর্ধিত উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন করাই এখন নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

সর্বশেষ নিউজ