গণভোটের রায় না মানার কারণেই রাজনীতিতে সংকট

টেবিল প্রতিবেদন
spot_img
spot_img

দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংকটের মূল কারণ সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার মাঝে এক দূরদর্শী বক্তব্য দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, অতীতে জনগণের ‘গণভোটের রায়’ (Referendum) অবজ্ঞা ও না মানার ঐতিহাসিক ভুলের কারণেই দেশের রাজনীতিতে আজকের এই গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। একই সাথে তিনি সংবিধানের খোলনলচে আমূল পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়েছেন।

বুধবার (১ জুলাই) সংসদ ভবনে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বাজেট পরবর্তী মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা এই মন্তব্য করেন।

‘দলীয় স্বার্থে কোনো আইন চাই না’

সংবিধানের সংস্কার প্রশ্নে বর্তমান সংসদ ও শাসন কাঠামোর অবস্থান মনে করিয়ে দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দেশের সাধারণ জনগণ এই সরকারকে সংবিধান সংস্কারের (Constitution Reform) ম্যান্ডেট দিয়েছে, প্রথাগত সংশোধনের (Amendment) না। আমরা কোনো নির্দিষ্ট দলের স্বার্থে কিংবা দলের দিকে তাকিয়ে আইন বা সংবিধান পরিবর্তন হোক— তেমনটা মোটেও চাই না।”

তিনি আরও যোগ করেন, রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বত্র যদি প্রকৃত সংস্কার নিশ্চিত করা যায়, তবেই কেবল দেশে একটি সুস্থ, স্বচ্ছ এবং দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক ধারা ফিরে আসবে।

📊 বাজেট চ্যালেঞ্জ ২০২৬: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ও পাস হওয়া বাজেট প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, যেমনটা ধারণা করা হয়েছিল, এবারের বাজেট তার কাছাকাছিই হয়েছে। একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য বড় বাজেট দেওয়া কোনো অপরাধ বা ভুল নয়; তবে এবারের বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ হলো সরকারের বাস্তবায়ন সক্ষমতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি রোধ করা।

বাজারের প্রতিফলনই প্রমাণ করবে বাজেট ‘জনবান্ধব’ কি না

বাজেটের সুফল যেন সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করেছেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, এই জায়গায় যদি আমূল সংস্কার আনা না যায়, তবে বাজেটের কোনো সুফলই সাধারণ জনগণ ভোগ করতে পারবে না।

সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের দেওয়া বক্তব্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি এক নজরে:

বিষয়ের খাত (Core Sector) শফিকুর রহমানের অবস্থান (Leader’s Stance) রাজনৈতিক ও সামাজিক লক্ষ্য (Strategic Goal)
১. ঐতিহাসিক রাজনীতি গণভোটের রায় না মানাই সংকটের মূল কারণ। অতীত রাজনৈতিক ভুলের পুনরাবৃত্তি রোধ ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা।
২. সংবিধান কাঠামো ‘সংস্কার’ প্রয়োজন, দলীয় সুবিধাবাদী ‘সংশোধন’ নয়। কোনো একক দলের পকেট আইন বর্জন করে জাতীয় ঐকমত্য গঠন।
৩. অর্থনীতি ও বাজার বড় বাজেট অপরাধ নয়, তবে দুর্নীতিমুক্ত বাস্তবায়ন জরুরি। শুল্ক ছাড়ের সুফল সরাসরি সাধারণ ভোক্তার বাজারে পৌঁছে দেওয়া।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধীদলীয় নেতার এই বক্তব্য বর্তমান সরকারের জন্য একই সাথে একটি গাইডলাইন এবং সতর্কবার্তা। একদিকে তিনি বড় বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে বাস্তবমুখী অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিয়েছেন, অন্যদিকে বাজারে পণ্যের দাম কমানোর ওপর জোর দিয়ে আমলাতন্ত্র ও মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেট ভাঙার তাগিদ দিয়েছেন। এছাড়া সংবিধান ‘সংশোধন’ ও ‘সংস্কার’-এর মধ্যকার তাত্ত্বিক পার্থক্য তুলে ধরে তিনি দেশের ভবিষ্যতের শাসনতান্ত্রিক রূপরেখা কেমন হওয়া উচিত, তার একটি স্পষ্ট বার্তা বেইজিং বা ওয়াশিংটনের মতো ভূরাজনৈতিক অংশীজনসহ দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরলেন।

সর্বশেষ নিউজ