এক যুগেরও বেশি সময় আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চত্বর থেকে সাঈদীর মামলার সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীকে নাটকীয়ভাবে অপহরণের ঘটনায় বড় অগ্রগতি হয়েছে। এই অপহরণের কার্যক্রমে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার (৩ জুলাই ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সিনিয়র প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানী ঢাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল তাকে হেফাজতে নেয়।
ডিবি ইন্সপেক্টর থেকে যেভাবে আসামী হলেন ফজলুর
সিনিয়র প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা ২০১২ সালে অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ডিবি পুলিশের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং সুখরঞ্জন বালীকে অপহরণের সময় তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে অবসরে যান। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে ঢাকার ঠিক কোন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা এখনই প্রকাশ করেনি প্রশাসন।
💡 পটভূমি: ২০১২ সালে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে ট্রাইব্যুনালে সাফাই সাক্ষ্য দিতে এসে আদালত প্রাঙ্গণ থেকেই নিখোঁজ হন পিরোজপুরের বাসিন্দা সুখরঞ্জন বালী। পরে জানা যায়, তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে ভারতে পুশব্যাক করা হয়েছিল, যেখানে ৫ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হয় তাকে।
শেখ হাসিনা ও এসকে সিনহাসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলা
কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফেরার পর এই লোমহর্ষক অপহরণের বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দ্বারস্থ হন সুখরঞ্জন বালী নিজেই। গত ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট তিনি একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন।
| মামলার প্রধান আসামী (Key Accused) | মামলার বর্তমান অবস্থা (Current Status) | বালী’র ওপর নির্যাতন (Human Rights Violation) |
| সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা | বর্তমানে পলাতক। | ট্রাইব্যুনালের গেট থেকে প্রকাশ্য অপহরণ। |
| সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা | মামলার অন্যতম প্রধান আসামী। | অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে ভারতে পুশব্যাক। |
| তৎকালীন ডিবি কর্মকর্তা ফজলুর রহমান | ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে গ্রেপ্তার। | ভারতের কারাগারে ৫ বছরের দীর্ঘ বন্দিজীবন। |
সুখরঞ্জন বালীর করা সেই হাই-প্রোফাইল মামলার ধারাবাহিক তদন্ত ও অভিযানের অংশ হিসেবেই এবার সাবেক ডিবি কর্মকর্তা ফজলুর রহমানকে আইনের আওতায় আনা হলো।
“দেড় যুগ পর হলেও বিচার চাই”
ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্টদের মতে, আদালত চত্বর থেকে একজন সাক্ষীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে ভিনদেশে পুশব্যাক করার ঘটনাটি ছিল দেশের বিচারিক ইতিহাসের অন্যতম বড় কলঙ্ক। ২০২৬ সালের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও আইনি প্রেক্ষাপটে এই মামলার মূল পরিকল্পনাকারী এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নকারীদের মুখোশ উন্মোচিত হতে শুরু করেছে।

