রাজধানীর বিভিন্ন খাল, ঝিল, ফুটপাত, পরিত্যক্ত ভবন ও নির্জন এলাকা থেকে একের পর এক পরিচয়হীন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি থেকে আগস্ট) আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম রাজধানীতে ৪০০টি বেওয়ারিশ মরদেহের দাফন ও শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছে।
৩০ সেপ্টেম্বর (বুধবার) প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের হিসাব অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত রায়েরবাজার কবরস্থানে ৩২৬টি এবং জুরাইন কবরস্থানে ৭৪টি বেওয়ারিশ মরদেহ দাফন করা হয়েছে। মাসভিত্তিক হিসাবে জানুয়ারিতে ৩০টি, ফেব্রুয়ারিতে ৫৯টি, মার্চে ৫২টি, এপ্রিলে ৪৬টি, মে মাসে ৫৬টি, জুনে ৬৭টি, জুলাইয়ে ৪২টি এবং আগস্টে ৪৮টি মরদেহের শেষকৃত্য করা হয়, যা গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৫০টি।
সর্বশেষ গত ২৬ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) শ্যামপুরের জুরাইন রেলওয়ে সেতুর নিচে একটি পরিত্যক্ত পাবলিক টয়লেট থেকে প্রায় ১৬ বছর বয়সি এক কিশোরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ, যার কপালে ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পচন ধরায় সিআইডি আঙুলের ছাপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় মরদেহটির পরিচয় এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক জানান, দুর্বল পারিবারিক-সামাজিক বন্ধন, গৃহহীনতা ও একাকিত্বের পাশাপাশি এর পেছনে কোনো হত্যাকাণ্ড বা অপরাধ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা জরুরি। পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের সমন্বিত তথ্যভান্ডার জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

