দক্ষ কর্মীর ঘাটতি, উচ্চ অভিবাসন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা নেতিবাচক প্রভাবের কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হচ্ছে। বর্তমানে মোট প্রবাসী কর্মীর ৯৪ শতাংশই যাচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্যসহ মাত্র সাতটি নির্দিষ্ট দেশে।
৩ অক্টোবর (শনিবার) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৫ সালে বিদেশে যাওয়া মোট কর্মীর প্রায় ৭৭ শতাংশই ছিলেন কম দক্ষ বা আধা-দক্ষ, যেখানে পেশাজীবী কর্মী ছিলেন মাত্র ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। বিগত এক দশকে ওমান, বাহরাইন, রোমানিয়া ও লাওসসহ বেশ কয়েকটি দেশ বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া স্থগিত করেছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিনের বন্ধ থাকা মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাজার পুনরায় চালু করতে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। এছাড়া চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে কর্মী গমন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ কমেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি এবং চলতি অর্থবছরে ১৪ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল সংখ্যা না বাড়িয়ে দক্ষ কর্মী তৈরি ও অভিবাসন ব্যয় কমানো জরুরি।
বিষয়টি নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, ইউরোপ ও এশিয়ার নতুন নতুন সম্ভাবনাময় বাজারে প্রবেশের পাশাপাশি কর্মীদের ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

