মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের বরুণা মাদরাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মাওলানা ক্বারী শাহ মনিরুজ্জামান জসিম তালুকদার ওরফে চৌমুহনী হুজুর মা/রা গেছেন। নি/খোঁজ হওয়ার পর ভৈরব-আশুগঞ্জ সেতুর নিচ থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃ/ত্যু হয়। এ খবরে তাঁর পরিবার, সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমেছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যা থেকে তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সেতুর নিচে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় এক যুবক তাঁকে উদ্ধার করে ভৈরবের একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। তাঁর মৃ/ত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাতিজা মাওলানা মুস্তাকিম আল মুনতাজ তালুকদার।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে মাওলানা জসিমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না স্বজনেরা। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতা এবাদুর রহমান মোশাহিদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থার একটি ভিডিও তাঁর ভাতিজাকে পাঠান। ভিডিওর সূত্র ধরে উদ্ধারকারী যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা।
খবর পেয়ে বরুণা মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা আহমদ জুবায়ের জুয়েলসহ স্বজনেরা ভৈরবের উদ্দেশে রওনা হন। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মা/রা যান মাওলানা জসিম।
পরিবারের ধারণা, দু/র্বৃত্তরা তাঁকে চেতনানাশক কোনো পদার্থ প্রয়োগ করে সেতুর নিচে ফেলে রেখে যেতে পারে। তবে এ ধারণার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কীভাবে তিনি সেখানে পৌঁছেছেন এবং তাঁর মৃ/ত্যুর প্রকৃত কারণ কী, তাও জানা যায়নি। পরিবারের ভাষ্য, তাঁর শরীরে দৃশ্যমান র/ক্তাক্ত জ/খম বা নি/র্যাতনের চিহ্ন ছিল না।
মাওলানা জসিম শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের ভৈরবগঞ্জবাজারসংলগ্ন মাজদিহি এলাকার আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে। চার কন্যাসন্তানের জনক এই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে জামেয়া লুৎফিয়া আনোয়ারুল উলুম হামিদনগর বরুণা মাদরাসায় শিক্ষকতা করছিলেন।
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকে শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ১টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পু/লিশ সুপারসহ স্থানীয় দায়িত্বশীল পু/লিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

